বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: আজি মনে মনে লাগে হোরি
আজি মনে মনে লাগে হোরি
আজি বনে বনে জাগে হোরি॥
ঝাঁঝর করতাল খরতালে বাজে
বাজে কঙ্কণ চুড়ি মৃদুল আওয়াজে
লচকিয়া আসে মুচকিয়া হাসে
প্রেম-উল্লাসে শ্যামল গোরী॥
কদম্ব তমাল রঙে লালে লাল
লাল হলো কৃষ্ণ ভ্রমর ভ্রমরী
রঙের উজান চলে কালো যমুনা-জলে
আবির রাঙা হলো ময়ূর-ময়ূরী॥
মোর হৃদি-বৃন্দাবন যেন রাঙে
রাধা শ্যাম-যুগল চরণ-রাগে
ও চরণ-ধূলি যেন ফাগ হ'য়ে
নিশিদিন
অন্তরে পড়ে মোর ঝরি'॥
- ভাবানুসন্ধান: সনাতন হিন্দু ধর্মরে বৈষ্ণবপন্থীদের কাছে রাধাকৃষ্ণের
লীলাভিত্তিক বসন্তকালীন উৎসব হলো- হোরি। এই মিলন- উৎসব উদ্যাপনের একটি চলমান
বিবরণ এই গানে উপস্থাপন করা হয়েছে।
চলমান হোরির আনন্দের স্পর্শে সবাই হয়ে ওঠে মাতোয়ারা। এর সাথে মিশে থাকে
রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার প্রেমরঞ্জিত লজ্জারুণ আভা। যা প্রকৃতি এবং
গোপ-গোপিনীদের সাথে কবির মনকেও রঞ্জিত করে তোলে।
এই উৎসবের আমেজে গোপ-গোপিনীদের মনে মিলনের শিহরণ লাগে, আর বনে বনে জেগে
উঠে মিলনোৎসবের আনন্দ-আমেজ।
সঙ্গীতমুখর এই উৎসবের ছন্দে বাজে ঝাঁঝর, করতালের উচ্চকিত শব্দের মধ্যে মোহনীয়
করে তোলে গোপিনীদের হাতের কঙ্কণ ও চুড়ির মৃদু ধ্বনি। শ্যামল গৌরী প্রেমের
উল্লাসে মুচকি হেসে লচকিয়া (লাস্যরূপে দোদুল দেহভঙ্গিমায়) আসে। তারই প্রভাবে
মিলনের লজ্জারুণ রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ে প্রকৃতিতে। তাই কদম, তমাল রক্তিম হয়ে ওঠে
লজ্জায়, রক্তিম হয়ে ওঠে কালো ভ্রমর-ভ্রমরী। এ রঙের জোয়ার আসে কালো যমুনার জলে,
আবিরের মতো রক্তিম হয়ে ওঠে ময়ূর-ময়ূরী।
কবির হৃদি-বৃন্দাবনও রঞ্জিত হয়ে ওঠে। তিনি কামনা করেন এই মিলনের রঙ চিরন্তন হয়ে
থাক তাঁর হৃদয়ে। কামনা করেন- যেন রাধাকৃষ্ণের প্রেমরঞ্জিত যুগল চরণ-ধূলি, ফাগ
হয়ে অহর্নিশিতাঁর অন্তরে ঝরে পড়ে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ (ফাল্গুন-চৈত্র
১৩৪৬)
পাইওনিয়ার রেকর্ড কোম্পানি প্রথম গানটির একটি রেকর্ড প্রকাশ করে। এই
সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪০ বৎসর ৯ মাস।
- গ্রন্থ:
- অগ্রন্থিত গান। নজরুল-রচনাবলী─দশম খণ্ড [নজরুল জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। বাংলা একাডেমী, জ্যৈষ্ঠ ১৪১৬। মে ২০০৯। ২৬০ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা
৩৩৩-৩৩৪]
- নজরুল গীতি, অখণ্ড
- প্রথম সংস্করণ [আব্দুল আজীজ আল-আমান সম্পাদিত। হরফ প্রকাশনী। ৬ আশ্বিন ১৩৮৫। ২৩ সেপ্টেম্বর
১৯৭৮]
- দ্বিতীয় সংস্করণ [আব্দুল আজীজ আল-আমান সম্পাদিত। হরফ প্রকাশনী। ১ শ্রাবণ ১৩৮৮। ১৭ জুলাই
১৯৮১]
- তৃতীয় সংস্করণ [ব্রহ্মমোহন ঠাকুর সম্পাদিত। হরফ প্রকাশনী। ৮ মাঘ ১৪১০। ২৩ জানুয়ারি ২০০৪। রাগ-প্রধান গান। ৭৯৩ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা
২০৫]
- পরিবর্ধিত সংস্করণ [আব্দুল আজীজ আল-আমান সম্পাদিত। হরফ প্রকাশনী। বৈশাখ শ্রাবণ ১৪১৩। এপ্রিল-মে ২০০৬] ভৈরবী-গজল। ১১৪০ সংখ্যাক গান। পৃষ্ঠা:
২১৮।
- নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান ৩০। পৃষ্ঠা
১০]
-
নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি,
দ্বিতীয় খণ্ড। প্রথম প্রকাশ, দ্বিতীয় মুদ্রণ [কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। পৌষ ১৪০২। ডিসেম্বর ১৯৯৫। ৫ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা
৩৮-৪০]
- সুরমল্লার প্রথম প্রকাশ, দ্বিতীয় সংস্করণ [হরফ প্রকাশনী। ১লা আশ্বিন, ১৩৭৯ বঙ্গাব্দ]। ২য় গান। পৃষ্ঠা ১২-১৩]
- রেকর্ড:
পাইওনিয়ার রেকর্ড
[
মার্চ ১৯৪০
(ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪৬)]। এনকিউ ১৪৭। শিল্পী: বেচু
দত্ত। রাগ: পিলু-খাম্বাজ।
- বেতার: আবীর কুমকুম
(গীতি-আলেখ্য)। দোল-পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রচারিত গীতি-আলেখ্য। কলকাতা খ।
তৃতীয় অধিবেশন। ১৩ মার্চ ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪৭)। রাত
৮.০০-৮.৩৯০।
সূত্র:
- বেতার জগৎ। ১২শ বর্ষ ৫ম সংখ্যা। ১৭ মার্চ ১৯৪১। পৃষ্ঠা: ২৭৪
- Indian-listener 1941-Vol-VI-5. page 75
সঙ্গীতবিষয়ক তথ্যাবলী
পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত, সনাতন হিন্দু ধর্ম, বৈষ্ণবসঙ্গীত, হোরি।
- সুরাঙ্গ:
হোরি/হোলি গান
- রাগ: পিলু-খাম্বাজ
- তাল:
আদ্ধা।