বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: সৃজন ছন্দে আনন্দে নাচে নটরাজ
সৃজন ছন্দে আনন্দে
নাচে নটরাজ
হে মহাকাল প্রলয়-তাল ভোলো ভোলো॥
ছড়াক তব
জটিল জটা
শিশু-শশীর
কিরণ-ছটা
উমারে বুকে ধরিয়া সুখে দোলো দোলো॥
মন্দ-স্রোতা মন্দাকিনী সুরধুনী-তরঙ্গে
ধুতুরা ফুল খুলিয়া ফেলি'
জটাতে পরো চম্পা বেলী
শ্মশানে নব জীবন, শিব, জাগিয়ে তোলো॥
-
ভাবসন্ধান: সাধারণভাবে সনাতন হিন্দু ধর্ম মতে- শিবের প্রধান পরিচয়
ধ্বংসের দেবতা। কিন্তু শাক্তমতে- শিবই হলেন সর্বোচ্চ ঈশ্বর। বৈদিক যুগে রুদ্রের
দুটি রূপের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর একটি সৃষ্টির ধ্বংস, অপরটি সৃষ্টির কল্যাণ। এই
গানে কবি নটরাজ রূপী শিবের সৃষ্টির কল্যাণময় রূপকে- নৃত্যের মহিমায় মহিমান্বিত
করে উপস্থাপনের কামনা ব্যক্ত করেছেন। যেন মহাকালরূপী শিবকে উৎসাহ দেবার জন্যই
কবি বলছেনে- প্রলয় ছন্দ বিসর্জন দিয়ে সৃষ্টির আনন্দে শিব হয়ে উঠুক নটারজ।
এখানে মহাকাল এবং নটরাজ উভয় শিবের গুণবাচক নাম ব্যবহৃত হয়েছে।
কবি কামনা করেন, শিব তাঁর জটিল জটার কুটিল ভয়ঙ্কর রূপকে পরিহার করে,
সৌন্দর্যে বিভূষিত কেশরাশি মেলে ধরুন। সে নাচের ছন্দে শিবের মস্তকে ধারণকৃত শিশু
চাঁদের কোমল স্নিগ্ধ কিরণ রাশি ছড়িয়ে পড়ুক, আর উমাপতি শিব উমাকে বুকে ধরে
শৃঙ্গার-নৃত্যে মেতে উঠুন।
মন্দ-স্রোতা মন্দাকিনীর তরঙ্গে ছন্দিত হোক সে নৃত্য। কবির কামনা প্রলয়ঙ্করী শিব
তাঁর বিষাক্ত ধুতরা ফুল পরিত্যাগ করে, তাঁর জটাতে পড়ুন, স্নিগ্ধ চম্পা বেলী।
তাঁর নবসৃষ্টির আনন্দে মৃত শ্মশানে জেগে উঠুক জীবনের প্রাণবন্ত ছন্দিত আনন্দ।
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ
(ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪১)
মাসে
এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম প্রকাশ করে। প্রকাশকালের সময়, নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৬
বৎসর ৯ মাস।
-
রেকর্ড:
এইচএমভি।
মার্চ ১৯৩৫ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪১) এন ৭৩৪৫। শিল্পী: জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী।
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
সুধীন দাশ।
[নজরুল-সঙ্গীত
স্বরলিপি, ষষ্ঠ খণ্ড (নজরুল ইন্সটিটিউট, ফাল্গুন ১৪০৩। ফেব্রুয়ারি
১৯৯৭)-এর
১৬ সংখ্যক
গান। পৃষ্ঠা: ৮১-৮৫।]
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। শৈবসঙ্গীত।
প্রার্থনা
- সুরাঙ্গ:
ধ্রুপদাঙ্গ