বিষয়: নজরুলসঙ্গীত।
শিরোনাম:
ফুরিয়ে এলো রমজানেরি মোবারক মাস
ফুরিয়ে এলো রমজানেরি মোবারক মাস
আজ বাদে কাল ঈদ তবু মন করে উদাস॥
রোজা রেখেছিলি, হে পরহেজগার মোমিন!
ভুলেছিলি দুনিয়াদারি রোজার তিরিশ দিন;
তরক করেছিলি তোরা কে কে ভোগ-বিলাস॥
সারা বছর গুনাহ্ যত ছিল রে জমা,
রোজা রেখে খোদার কাছে পেলি সে ক্ষমা;
ফেরেশতা সব সালাম করে কহিছে সাবাস॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে কবি পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি এবং ঈদুল ফিতরের আগমনের প্রাক্কালে একজন মুমিনের আধ্যাত্মিক অনুভূতি, আত্মশুদ্ধি ও ধর্মীয় উপলব্ধিকে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহীভাবে প্রকাশ করেছেন। এখানে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি রমজানের বিদায়বেলায় এক ধরনের বিষণ্নতা ও আত্মসমালোচনার সুরও ধ্বনিত হয়েছে।
গানের শুরুতেই কবি বলেন, পবিত্র রমজান মাস শেষ হয়ে এসেছে; আগামীকালই ঈদ। ঈদ আনন্দ, উৎসব ও মিলনের দিন হলেও কবির মন উদাস। কারণ যে মাস মানুষকে সংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দিয়েছিল, সেই বরকতময় সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই উদাসীনতা রমজানের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিক অনুরাগের প্রকাশ।
এরপর কবি রোজাদার মুমিনের সাধনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। রমজানের ত্রিশ দিন তিনি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে রোজা রেখেছেন, নিজের প্রবৃত্তিকে সংযত করেছেন এবং সাময়িকভাবে জাগতিক ভোগ-বিলাস ও পার্থিব আসক্তি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। এখানে
'পরহেজগার' বলতে সেই ধর্মপরায়ণ ও সংযমী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যিনি আল্লাহ্র আদেশ পালন এবং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করেন। রোজার প্রকৃত শিক্ষা শুধু অনাহারে থাকা নয়; বরং আত্মনিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য, তাকওয়া ও মানবিকতার চর্চা—কবি এই সত্যটিই তুলে ধরেছেন।
গানটির পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে, সারা বছরে মানুষের যত গুনাহ বা পাপ সঞ্চিত হয়েছে, রমজানের আন্তরিক রোজা, ইবাদত, তওবা ও আল্লাহ্র রহমতের মাধ্যমে সে ক্ষমা লাভের আশা করতে পারে। এখানে কবি ইসলামের সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন যে, রমজান মাস আল্লাহ্র ক্ষমা, রহমত ও নাজাতের মাস। তবে এই ক্ষমা লাভের পূর্বশর্ত হলো আন্তরিক অনুতাপ, ঈমান এবং সৎকর্মে ফিরে আসার দৃঢ় সংকল্প।
গানটির শেষাংশে কবি কাব্যিক ভঙ্গিতে বলেন, ফেরেশতারা যেন সেই সফল রোজাদারকে অভিনন্দন জানিয়ে
'সাবাস' বলছেন। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, যিনি নিষ্ঠার সঙ্গে রোজার বিধান পালন করেছেন, তিনি আল্লাহ্র নিকট সম্মান ও পুরস্কারের অধিকারী হন। এটি মানুষের জন্য উৎসাহ ও প্রেরণার প্রতীক, যাতে রমজানের আত্মশুদ্ধির শিক্ষা ঈদের পরেও তার জীবনে অব্যাহত থাকে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬
খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৩) মাসে, এইচএমভি
রেকর্ড কোম্পানি থেকে এই গানটির একটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই
সময়
নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
৪৫৫]
- রেকর্ড:
ঈদল ফেতর। রেকর্ড নাটক।
এইচএমভি [ডিসেম্বর ১৯৩৬ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৩)। এন ৯৮২৩। শিল্পী:
ধীরেন্দ্রনাথ দাস। চরিত্র: ফকির] পরিচালনা:
ধীরেন্দ্রনাথ দাস। [শ্রবণ
নমুনা]
রেকর্ডে এর জুড়ি গান ছিল-
- এলো ঈদল-ফেতর এলো ঈদ ঈদ ঈদ [তথ্য]
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
সুধীন দাশ।
নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি চতুর্দশ খণ্ড
(নজরুল ইন্সটিটিউট)। ১৮ সংখ্যক গান। রেকর্ডে
ধীরেন দাসে'র গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম ধর্ম। আনুষ্ঠানিক। ঈদ (ঈদুল-ফেতর)
- সুরাঙ্গ: স্বকীয়
- তাল:
কাহারবা
- গ্রহস্বর: পা