ভাবসন্ধান: দেবী গঙ্গার মহিমা এবং তাঁর পবিত্রতার এক অনন্য স্তুতি।
এখানে গঙ্গাকে মাতৃরূপিণী, করুণার প্রতীক এবং পাপহারিণী-পাবনী দেবীরূপে স্তব করা হয়েছে।
গানের স্থায়ীতে গঙ্গার জলধারাকে বিগলিত করুণারূপিণী আখ্যায়িত করা হয়েছে। কারণ
কবি মনে করেন যে, ঈশ্বরের করুণাই বিগলিত হয়ে পৃথিবীতে গঙ্গাধারা হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
যিনি সকল কলুষ ও পাপ হরণ করেন। তাঁর স্পরশে পাপে নিমজ্জিত পতিতজনের উদ্ধার
হয়। তাই তিনি এই গানে 'পতিতপাবনী' কীর্তিত হয়েছেন। যোগী-ঋষিগণ সান্নিধ্যে সাধনা
তিনি হয়ে উঠেছেন নিত্যা চিরপবিত্রা
তিনি শ্রীহরির চরণস্পর্শে আত্মহারা হয়ে পরম প্রেমে দ্রবীভূত হয়েছেন এবং স্রোতস্বিনী রূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছ। তোমার এই ধারা কেবল জলধারা নয়, প্রেম ও করুণার ধারা।
তিনি ত্রিলোকের (স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল) ত্রিতাপ (আধিভৌতিক, আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক)
পাপ তাঁর পবিত্র অঙ্গের ধারন করে নির্মরূপে বিরাজিতা। তাঁর স্পর্শে জগৎ হয়েছে
অপাপবিদ্ধা সুনির্মলা।
টিকা: ত্রিতাপ
আধ্যাত্মিক: নিজ দেহ বা মনের ভেতর থেকে যে দুঃখ জন্মায়
যে পরিতাপ। যেমন-
শারীরিক — রোগ, ব্যথা,
বার্ধক্য
মানসিক — দুঃখ, শোক,
ভয়, লোভ, ক্রোধ, হিংসা
আধিভৌতিক:
অন্য জীব বা বস্তু থেকে প্রাপ্ত পরিপতাপ। “ভূত” অর্থ পাঁচভূত (পৃথিবী,
জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ) বা জীবজগৎ। অর্থাৎ অন্য মানুষ, পশু, কীটপতঙ্গ, বা বাহ্য
জড়বস্তু দ্বারা সৃষ্ট কষ্ট। যেমন- জাগতিক
সাপের কামড়, দাঙ্গা, পশুর আক্রমণ
আধিদৈবিক:
প্রকৃতি বা দৈব শক্তির জন্য সৃষ্ট
পরিতাপ। যেমন- বন্যা, ভূমিকম্প, অনাবৃষ্টি
রচনাকাল
ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৪১
খ্রিষ্টাব্দের মে
(বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৮)মাসে, এইচএমভি রেকর্ড
কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে। এই সময়
নজরুল ইসলামের
বয়স ছিল
৪১ বৎসর
১১ মাস।
গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
৬৯১।