বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: গুঞ্জামালা গলে কুঞ্জে এসো হে কালা
গুঞ্জামালা গলে কুঞ্জে এসো হে কালা
বনমালী এসো দুলায়ে বনমালা॥
তব পথে বকুল ঝরিছে উতল বায়ে
দলিয়া যাবে বলে অকরুণ রাঙা পায়ে
রচেছি আসন তরুণ তমাল ছায়ে
পলাশ শিমুলে রাঙা প্রদীপ জ্বালা॥
ময়ূরে নাচাও তুমি তোমারি নূপুর তালে
বেঁধেছি ঝুলনিয়া ফুলেল কদম ডালে
তোমা বিনা বনমালী বিফল এ ফুল দোল
বাঁশি বাজাবে কবে উতলা ব্রজবালা॥
- ভাবানুসন্ধান: বসন্তের ঝুলনোৎসবকে মিলনোৎসবে রূপ দেওয়ার বাসনা নিয়ে
রাধা এবং তার সহচরী ব্রজবালার কৃষ্ণের প্রতীক্ষায় উন্মখ হয়ে আছেন। তাঁরা চান
ঝুলনোৎসবে কৃষ্ণ আসুক কণ্ঠে গুঞ্জারের প্রেম-মালা দুলিয়ে। ব্রজবালাদের
সাথে প্রকৃতিও যেন তাঁর আগমনের প্রতীক্ষা উন্মুখ হয়ে আছে। তাই তাঁর অকরুণ
অরুণরাঙা পায়ের তলে দলিত হবে বলে- বকুল-ফুলরাশি ঝরে পড়ছে উতলা বাতাসে।
ব্রজবালারা তরুণ তমাল ছায়ে তাঁর বসার আসন পেতেছেন। পলাশ শিমূল তাদের ফুলের রাঙা
আভার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে। তাঁদের কামনা কৃষ্ণ তাঁর নূপুরের তালে ময়ূরকে
নৃত্যময়ী করে তুলুক। তাঁরা এই উৎসবের জন্য কদমের ডালে ঝুলনার দোলনা বেঁধেছেন।
এতো আয়োজনকে উপেক্ষা করে কৃষ্ণ যদি না আসে, তবে এই উৎসব বিফলে যাবে।
যদি কৃষ্ণ না আসে তবে কবে হবে এ উৎসব, এ কথা ভেবে ব্রজবালার উতলা হয়েছেন।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। সঙ্গীত বিজ্ঞান প্রকাশিকা পত্রিকার বৈশাখ ১৩৪০ বঙ্গাব্দ
[এপ্রিল-মে ১৩৩৩] সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই
সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৩
বৎসর ১১
মাস।
- গ্রন্থ:
-
গীতি-শতদল
- প্রথম সংস্করণ [বৈশাখ ১৩৪১। এপ্রিল ১৯৩৪। মালগুঞ্জ-ত্রিতালী]
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংকলন। পঞ্চম খণ্ড। বাংলা একাডেমী। ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮ মে, ২০১১। গীতি-শতদল। গান সংখ্যা
৭৫। মালগুঞ্জ-ত্রিতালী। পৃষ্ঠা ৩২৬]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
৮৪৭। রাগ: মালগুঞ্জ, তাল: ত্রিতাল। পৃষ্ঠা: ২৬০]
- পত্রিকা: সঙ্গীত বিজ্ঞান প্রকাশিকা [বৈশাখ ১৩৪০ (এপ্রিল-মে ১৯৩৩)। শৈলেশ
দত্তগুপ্ত-কৃত স্বরলিপি-সহ প্রকাশিত হয়েছিল] [নমুনা]
- রেকর্ড: টুইন [জানুয়ারি ১৯৩৭ (পৌষ-মাঘ ১৩৪৩)। এফটি ৪৭৪৫। শিল্পী: ধরিত্রী মুখোপাধ্যায়]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দু ধর্ম। বৈষ্ণব। ঝুলন
- সুরাঙ্গ: খেয়ালাঙ্গ