বিষয়:
রবীন্দ্রসঙ্গীত।
গান সংখ্যা:
শিরোনাম:
আজ বারি ঝরে
ঝরঝর ভরা বাদরে
পাঠ ও পাঠভেদ:
আজ বারি ঝরে ঝরঝর ভরা বাদরে,
আকাশ-ভাঙা আকুল ধারা কোথাও না ধরে॥
শালের বনে থেকে থেকে ঝড় দোলা দেয় হেঁকে হেঁকে,
জল ছুটে যায় এঁকে বেঁকে মাঠের 'পরে।
আজ মেঘের জটা উড়িয়ে দিয়ে নৃত্য কে করে॥
ওরে বৃষ্টিতে মোর ছুটেছে মন, লুটেছে এই ঝড়ে-
বুক ছাপিয়ে তরঙ্গ মোর কাহার পায়ে পড়ে।
অন্তরে আজ কী কলরোল, দ্বারে দ্বারে ভাঙল আগল-
হৃদয়-মাঝে জাগল পাগল আজি ভাদরে
আজ এমন ক’রে কে মেতেছে বাহিরে ঘরে॥
পাণ্ডুলিপির পাঠ:
পাঠভেদ: এই গানটির একটি পাঠভেদ রয়েছে; যা নিম্নরূপ-
আজ মেঘের জটা উড়িয়ে দিয়ে : গান (১৯০৯) কেতকী (শ্রাবণ ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ)
আজ মেঘের
জটা উড়িয়ে দিয়ে : গীতবিতান (আশ্বিন ১৩৩৮
বঙ্গাব্দ)
তথ্যানুসন্ধান
ক. রচনাকাল ও স্থান: ১৩১৬
বঙ্গাব্দের
৩০শে শ্রাবণ, রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ থেকে কলকাতায় ফিরে আসেন। এরপর ৭ই ভাদ্র [সোমবার, ২৩
আগষ্ট ১৯০৯] তিনি
কলকাতা থেকে শান্তিনিকেতনে আসেন এবং ১৮শে ভাদ্র পর্যন্ত শান্তিনিকেতনে কাটান।
এই সময় তিনি এই গানটি-সহ মোট ১৮টি গান রচনা করেছিলেন।
RBVBMS 478
পাণ্ডুলিপিতে লিখিত গানটির
নিচে শুধু উল্লেখ আছে-'১৪ই'। এরপর মাস বা সালের উল্লেখ নেই। কিন্তু এর আগের গান
'আর নাই রে বেলা...' লিখিত হয়েছিল ১৩ই ভাদ্র এবং পরের গান 'প্রভু তোমা লাগি
আঁখি জাগে' লেখা হয়েছিল ১৪ই ভাদ্র। এই বিচারে ধারণা করা যায় যে, এই গানটি রচিত
হয়েছিল ১৪ই ভাদ্রে। এই সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল
৪৮ বৎসর ৫ মাস বয়সের রচনা।
স্বরবিতান একাদশ (১১, কেতকী) খণ্ডে (আশ্বিন ১৪১৬ বঙ্গাব্দ) গৃহীত মূল স্বরলিপিতে রাগ-তালের উল্লেখ নেই। উক্ত স্বরলিপিটি ৩।২।২ মাত্রা ছন্দে তেওড়া তালে নিবদ্ধ।
রাগ: ইমন। তাল: তেওরা। [রবীন্দ্রসংগীত : রাগ-সুর নির্দেশিকা । সুধীর চন্দ। (প্যাপিরাস, ডিসেম্বর ২০০৬)। পৃষ্ঠা: ২৫]।
গ্রহস্বর: সা।
লয়: মধ্য।