চম্পা নগরী
প্রাচীন ভারতের অঙ্গ মহাজনপদের রাজধানী।

খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে প্রাচীন চম্পা নদীর তীরে এন নগরীটি নির্মিত হয়েছিল অবস্থিত ছিল। উল্লেখ্য চম্পা নদী দুটি কারণে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।  
১. প্রাচীনকালে চন্পা নদী মগধ এবং অঙ্গ নামক দুই মহাজনপদের মধ্যবর্তী সীমানা হিসেবে বিবেচিত হতো। উল্লেখ্য নদীর পশ্চিম তীরে ছিল মগধ  এবং পূর্ব তীরে ছিল অঙ্গ। প্রাকৃতিক সুরক্ষা হিসেবে এই নদী অঙ্গ রাজ্যকে মগধের  আকস্মিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করত।

২. প্রাচীন ভারতে গঙ্গা নদী  সাথে যুক্ত থাকায় এটি একটি অন্যতম প্রধান নদী বন্দরে পরিণত হয়েছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর (তৎকালীন সুবর্ণভূমি) সাথে বাণিজ্যের জন্য বণিকরা এই পথ ব্যবহার করত। এই নদীর উৎপত্তিস্থল থেকে মোহনা পর্যন্ত এলাকাটি খনিজ সম্পদ ও বনাঞ্চলে সমৃদ্ধ ছিল। পাহাড় থেকে নেমে আসা এই নদীর বালিতে প্রাচীনকালে সোনার রেণু পাওয়া যেত বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, যার ফলে এই অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল।
চম্পার দুর্গ ও প্রাচীর: প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যে দেখা গেছে যে, চম্পা নগরীটি একটি বিশাল দুর্গ দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। নগরীর চারপাশে মাটির তৈরি সুউচ্চ প্রতিরক্ষা প্রাচীর ছিল। একে আরও শক্তিশালী করার জন্য বাইরে থেকে ইটের আস্তরণ দেওয়া হয়েছিল। দুর্গের বাইরে একটি গভীর ও প্রশস্ত পরিখা ছিল, যা নদীর জলের সাথে যুক্ত করা যেত। এটি বহিঃশত্রুর হাত থেকে শহরকে রক্ষা করত।

বিংশ শতাব্দীর ষাটের ও সত্তরের দশকে (১৯৬৯-৭১ এবং ১৯৭০-৮৩) পটনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এখানে খননকার্য চালায়। এখান থেকে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য নিদর্শনগুলো হলো: গৃহনির্মাণ ও পয়ঃনিষ্কাশন আধুনিক অবস্থান: বর্তমানে ভাগলপুরের কাছে অবস্থিত চম্পানগর এবং নাথনগর এলাকাটিই হলো সেই প্রাচীন চম্পার মূল কেন্দ্র হিসেবে ধারণা করা হয়। খননকার্যের স্থানটি এখন একটি বড় ঢিবি বা মণ্ডপের মতো দেখায়, যা স্থানীয়ভাবে 'কর্ণগড়' বা 'কর্ণের দুর্গ' নামে পরিচিত (মহাভারতের কর্ণের নামানুসারে)। স্থাপত্যের ধর্মীয় গুরুত্ব: চম্পা স্থাপত্যে বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। এখানে অনেক বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র, কারণ ১২তম তীর্থঙ্কর বাসুপূজ্য এখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং নির্বাণ লাভ করেছিলেন। এখানে প্রাচীন জৈন মন্দির ও স্তূপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।