চম্পা নদী
প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে চম্পা নদী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক
সীমানা হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি মূলত আধুনিক বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি
নদী। প্রাচীনকালে মগধ এবং
অঙ্গ
নামক দুই
মহাজনপদের মধ্যবর্তী সীমানা হিসেবে
বিবেচিত হতো। উল্লেখ্য নদীর পশ্চিম তীরে ছিল
মগধ এবং পূর্ব তীরে ছিল
অঙ্গ। প্রাকৃতিক সুরক্ষা হিসেবে এই নদী
অঙ্গ রাজ্যকে মগধের আকস্মিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করত।
প্রাচীন ভারতে
গঙ্গা নদী সাথে যুক্ত থাকায় এটি একটি অন্যতম প্রধান নদী বন্দরে পরিণত হয়েছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর (তৎকালীন সুবর্ণভূমি) সাথে বাণিজ্যের জন্য বণিকরা এই পথ ব্যবহার করত।
এই নদীর উৎপত্তিস্থল থেকে মোহনা পর্যন্ত
এলাকাটি খনিজ সম্পদ ও বনাঞ্চলে সমৃদ্ধ ছিল। পাহাড় থেকে নেমে আসা এই নদীর বালিতে
প্রাচীনকালে সোনার রেণু পাওয়া যেত বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, যার ফলে এই অঞ্চলটি
অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল।
বর্তমান
ভারতের
বিহার রাজ্যের চন্দন নদীটিই হলো প্রাচীন চম্পা নদী।
বর্তমান
ভারতের ঝাড়খণ্ডের
পার্বত্য অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে ছোটনাগপুর মালভূমির উত্তর-পূর্ব অংশ থেকে নির্গত
হয়েছ<। এটি উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে বিহার রাজ্যে প্রবেশ
করে। এটি ভাগলপুরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গার সাথে মিলিত হয়েছে।
বিহারের বাঁকা জেলা এবং ভাগলপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় এটি প্রাচীন অঙ্গ রাজ্যের উর্বর ভূমি তৈরি করেছিল। যেহেতু এটি মূলত একটি স্থানীয় পাহাড়ি নদী, তাই
গঙ্গা বা
যমুনা মতো এটি খুব বেশি দীর্ঘ নয়। তবে এর ঐতিহাসিক এবং বাণিজ্যিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন, চম্পা নদী ছিল গঙ্গারই একটি প্রাচীন প্রবাহ বা শাখা, যা পরে ভৌগোলিক পরিবর্তনের ফলে বিলুপ্ত বা রূপান্তরিত হয়েছে।
বর্তমানে নদীর মোট দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১১৮ থেকে ১২০ কিলোমিটার।
বর্ষাকালে এই নদীটি বেশ খরস্রোতা হয়ে ওঠে, কিন্তু বছরের অন্যান্য সময় এতে জলের পরিমাণ কিছুটা কমে যায়।
এই নদীর তীরে ছিল প্রাচীন চম্পা নগরী।
আধুনিক যুগে খননকার্যের ফলে এই নদীর তীরে প্রাচীন চম্পা নগরীর অনেক ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।