স্বরপ্রধান ভাষা: থাই একটি স্বরপ্রধান ভাষা। অর্থাৎ, একই শব্দের উচ্চারণ বা সুর পরিবর্তনের সাথে সাথে তার অর্থ বদলে যায়। থাই ভাষায় মোট ৫টি টোন বা সুর রয়েছে। যেমন 'মা' শব্দটি বিভিন্ন টোনে উচ্চারণ করলে এর অর্থ হতে পারে: ১. মা (আসা) ২. মা (কুকুর) ৩. মা (ঘোড়া)
শব্দভাণ্ডার: এই ভাষায় প্রচুর শব্দ পালি এবং সংস্কৃত থেকে এসেছে (বিশেষ করে ধর্মীয় এবং রাজকীয় শব্দগুলো)।
ধর্ম, রাজকীয় বিষয় এবং উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অনেক শব্দই সংস্কৃত বা পালি থেকে নেওয়া
প্রশাসনিক বিভাগ (প্রদেশ)
থাইল্যান্ডকে প্রশাসনিকভাবে ৭৬টি প্রদেশে। থাই ভাষায় একে বাল হয় 'চাংওয়াত' (Changwat) ভাগ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ব্যাংকক একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে গণ্য হয়।
প্রশাসনিক স্তরসমূহ:
- প্রদেশ (চাংওয়াত): মোট ৭৬টি। থাইল্যান্ডের প্রতিটি প্রদেশের রাজধানী শহরের নাম সাধারণত ওই প্রদেশের নামেই রাখা হয়। যেমন: ফুকেট প্রদেশের রাজধানী ফুকেট শহর।
Amphoe): প্রদেশগুলোকে প্রায় ৮৭৭টি জেলায় ভাগ করা হয়েছে। (ব্যাংককের ক্ষেত্রে এগুলোকে বলা হয় 'খেত')।
- উপজেলা/ইউনিয়ন তাম্বোন
(Tambon): এগুলো তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসনিক বিভাগ।
ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে প্রদেশগুলোকে সাধারণত ৫টি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
যেমন-
- উত্তর থাইল্যান্ড: এখানে চিয়াং মাই ও চিয়াং রাইয়ের মতো পাহাড়ি প্রদেশ রয়েছে।
- উত্তর-পূর্ব (ইসান): এটি আয়তনে বৃহত্তম অঞ্চল (যেমন: খোন কাইন, নখোন রাতচাসিমা)।
- কেন্দ্রীয় থাইল্যান্ড: ব্যাংকক এবং সমভূমি এলাকা (যেমন: আয়ুথায়া)।
- পূর্ব থাইল্যান্ড: উপকূলীয় ও শিল্প এলাকা (যেমন: চোনবুরি, পাতায়া)।
- দক্ষিণ থাইল্যান্ড: দ্বীপ ও সমুদ্র সৈকত সমৃদ্ধ এলাকা (যেমন: ফুকেট, ক্রাবি)।
ইতিহাস
থাইল্যান্ডের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটি অনন্য কারণ
হলো- এটি এই অঞ্চলের একমাত্র দেশ যা কখনো কোনো ইউরোপীয় শক্তির উপনিবেশ হয় নি।
- প্রাচীন ও প্রাক-থাই যুগ (১৩শ শতাব্দীর পূর্বকাল): থাই জাতিগোষ্ঠী মূলত দক্ষিণ চীন থেকে ধীরে ধীরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অভিবাসিত হয়। সেই সময় এই অঞ্চলটি খমের সাম্রাজ্য (বর্তমান কম্বোডিয়া) এবং মন রাজ্য দ্বারা শাসিত হতো।
- সুখোথাই যুগ (১২৩৮-১৪৩৮) এটি থাইল্যান্ডের প্রথম শক্তিশালী এবং স্বাধীন রাজ্য হিসেবে স্বীকৃত।
এই রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শ্রী ইন্দ্রাদিত্য।
এই যুগে রাজা রামখামহেং থাই বর্ণমালার প্রচলন করেন এবং থেরবাদ বৌদ্ধধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্মের মর্যাদা দেন। একে থাই সংস্কৃতির "স্বর্ণযুগ" বলা হয়।
-
আয়ুথায়া যুগ (১৩৫০- ১৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দ) সুখোথাইয়ের পর আয়ুথায়া একটি শক্তিশালী সামাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং প্রায় ৪০০ বছর টিকে থাকে।
এই সময়ে থাইল্যান্ড একটি প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর (পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স) সাথে যোগাযোগ শুরু হয়।
১৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দে মিয়ানমারের (বার্মিজ) আক্রমণে আয়ুথায়া শহরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
বর্তমানে এটি একটি বিখ্যাত ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।- থনবুরি যুগ (১৭৬৭ - ১৭৮২ খ্রিষ্টাব্দ) বার্মিজদের বিতাড়িত করে রাজা তাকসিন দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ব্যাংককের কাছে 'থনবুরি'তে রাজধানী স্থাপন করেন। তবে তিনি খুব অল্প সময়ের জন্য শাসন করেছিলেন।
- রত্নকোসিন বা চক্রী রাজবংশ (১৭৮২- ১৯৩২)।
- ১৭৮২ খ্রিষ্টাব্দ রাজা প্রথম রামা বর্তমান 'চক্রী রাজবংশ' প্রতিষ্ঠা করেন এবং রাজধানী ব্যাংককে স্থানান্তর করেন।
- উপনিবেশ বিরোধী অবস্থান: ১৯শ শতাব্দীতে যখন ব্রিটেন ও ফ্রান্স দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দখল করছিল, তখন রাজা চতুর্থ রামা (মোংকুট) এবং রাজা পঞ্চম রামা (চুলালংকর্ন) আধুনিক সংস্কার এবং কূটনৈতিক বুদ্ধির মাধ্যমে থাইল্যান্ডকে স্বাধীন রাখতে সক্ষম হন।
- ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দ দেশটির নাম 'শ্যাম' থেকে পরিবর্তন করে 'থাইল্যান্ড' রাখা হয়।
- আধুনিক থাইল্যান্ড (১৯৩২ বর্তমান)
- ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের বিপ্লব: একটি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্রের একচ্ছত্র ক্ষমতা বিলুপ্ত করে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র কায়েম করা হয়।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা: গত কয়েক দশকে থাইল্যান্ডে অনেকবার সামরিক অভ্যুত্থান এবং বেসামরিক সরকারের রদবদল হয়েছে। তবে রাজা আজও সে দেশের ঐক্য ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন।
- থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজা হলেন রাজা দশম রামা (মহা ভাজিরালংকর্ন)। তিনি ২০১৬ সালে তার পিতা জনপ্রিয় রাজা নবম রামা (ভূমিবল আদুলিয়াদেজ)-এর মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন।