কর্ণওয়ালিস থিয়েটার
খ্রিষ্টীয় বিংশ শতাব্দীতে ম্যাডান জামশেদজি ফ্রেমজি'র প্রতিষ্ঠিত থিয়েটার।


১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে ম্যাডান জামশেদজি ফ্রেমজি ‘ম্যাডান বায়োস্কোপ’ নামে একেবারে আলাদা একটা প্রেক্ষাগৃহ তৈরি করেছিলেন। পরে নাম বদল করে সেটা হয় ‘এলফিনস্টোন পিকচার প্যালেস’। আরও পরে তার নাম হয় ‘মিনার্ভা’ (Minarva Theatre) এবং শেষে কলকাতার পুরসভা হলটা অধিগ্রহণ করে নাম দেয় ‘চ্যাপলিন’ (Chaplin)। যতদুর জানা যায়, এটাই ছিল ভারতের প্রথম চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে কলকাতার থিয়েটার ব্যবসা দৈন্য দশায় পড়ে যায়। এই সময় কোনো মতে টিকে ছিল- মনোমোহন পাঁড়ের  মনোমোহন থিয়েটার, মিনার্ভা থিয়েটার স্টার থিয়েটার কোনো মতে টিকে ছিল। নাট্যদলগুলোর এই দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে ম্যাডান জামশেদজি ফ্রেমজি একটি নতুন থিয়েটার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনি তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণ সংস্থা 'ম্যাডান থিয়েটার'-এর অধীনে এই নব্য থিয়েটারে নাম দেন কর্ণওয়ালিস থিয়েটার।

১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে শিশিরকুমার ভাদুরী ম্যাডান থিয়েটারে সাথে এক হাজার টাকা মাসিক চুক্তিতে পেশাদার অভিনেতা রূপে নিযুক্ত হন। এই বছরের ১০ই ডিসেম্বর তিনি ক্ষিরোদপ্রসাদ নাটকে 'আলমগীর' নাটকে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এই সময় তিনি এই থিয়েটারের আরও দুটি নাটকে আভিনয় করেন। নাটক দুটি হলো- রঘুবীর ও চন্দ্রগুপ্ত। পরে বনিবনা না হওয়ায় তিনি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে এই থিয়েটার ত্যাগ করেন। এরপর এই থিয়েটার অখ্যাতির পর্যায়ে চলে যায়।

১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে শিশির কুমার ম্যাডোনা থিয়েটারসের কর্ণওয়ালিস থিয়েটার- তিন বছরের জন্য লিজ নেন। এই সময় কর্নাওয়ালিস থিয়েটার-এর পরিবর্তে 'নাট্যমন্দির' নামে অভিনয় শুরু করেন।



সূত্র: