বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনে স্টার থিয়েটার
১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে
লর্ড কার্জন
বড় লাট
নিযুক্ত হন। মূলত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য― লর্ড কার্জন
বাংলা প্রসিডেন্সি ভেঙে বাংলাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে বাংলার
আন্দোলনরত জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ব্রিটিশ শক্তি হুমকি হিসাবে নিয়েছিল। এই প্রক্রিয়া
১৯০১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা প্রেসিডেন্সি থেকে উড়িষ্যাকে পৃথক করার প্রস্তাব করা হয়।
এই সময় লর্ড কার্জনের প্রধান সমর্থক ও উপদেষ্টা এ্যাণ্ডুজ ফ্রেজারকে বাংলার
লেফটেনান্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফ্রেজার বাংলা প্রেসিডেন্সির ক্ষমতা গ্রহণের পর,
লর্ড কার্জনের কাছে বঙ্গবিভাগের পরিকল্পনা পেশ করেন।
১৯০৩ বঙ্গাব্দের ৩ ডিসেম্বর তারিখে
লর্ড কার্জন এই পরিকল্পনা প্রায় অক্ষুণ্ণ রেখে সরকারিভাবে
উত্থাপন করেন এবং তা 'ক্যালকাটা
গেজেট'-এ প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য এই সময় এই অঞ্চল
শাসিত হতো একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের অধীনে।
মূলত
লর্ড কার্জন
সরকারিভাবে
ঘোষণার আগে থেকেই এর বিরোধিতা শুরু করেছিলেন বাংলার জাতীয়তাবাদী দলগুলো। এর সাথে
যুক্ত হয়েছিল- সেকালের নাট্যশালগুলো।
এরই ভিতরে
১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে অভিনয় নিয়ন্ত্রণ
আইনে বাংলা মঞ্চ থেকে জাতীয়তাবোধ ও স্বদেশপ্রেমের নাটক দেখানো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
বঙ্গভঙ্গ-রদ আন্দোলন-আন্দোলনের সূত্রে
নাট্যশালাগুলো আবার স্বদেশী নাটক প্রচার করা শুরু করে। এই সময়ে গিরিশচন্দ্র
মিনার্ভা থিয়েটার তাঁর 'সিরাজদ্দৌলা, মীরকাশিম,, 'ছত্রপতি শিবাজী'
স্বদেশপ্রেমের নাটকগুলো মঞ্চস্থ করেছিল। এই সময় স্বদেশী নাটক মঞ্চায়নে স্টার এগিয়ে
এসেছিল।
১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১ মে
অর্ধেন্দু মুস্তফী, স্টারে যোগদান করেন।
১৯০৩ বঙ্গাব্দের ৩ ডিসেম্বর তারিখে
লর্ড কার্জন
সরকারিভাবে
বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব দেন।
এরই মাধ্যমে
বঙ্গভঙ্গ-রদ আন্দোলন-আন্দোলনের
সূত্রপাত হয়।
১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে অর্ধেন্দু মুস্তফীঁর
উদ্যোগেই স্টার থিয়েটারে নতুন করে স্বদেশী-ভাবধারায় পুষ্ট নাটকগুলো অভিনীত হয়েছিল।
এই নাটকগুলো হলো-
-
৪ জুলাই ১৯০৪।
রাজসিংহ। বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস, নাট্যরূপ অমরেন্দ্রনাথ দত্ত।
-
১৫ আগষ্ট ১৯০৪ 'প্রতাপাদিত্য'
(ক্ষীরোদ প্রসাদ)। অভিনয় করেছিলেন- অর্ধেন্দু মুস্তফীঁ (বিক্রমাদিত্য ও রডা ),
অক্ষয়কালী ঢোঙর (বসন্ত রায়), অমৃতলাল মিত্র (প্রতাপাদিত্য), কালীনাথ
চট্টোপাধ্যায় (গোবিন্দ দাস), নরীসুন্দরী (বিজয়া), ক্ষেত্রমণি (গয়লার বৌ)। এই
নাটক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
-
৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪।
'রঞ্জাবতী' (ক্ষীরোদ প্রসাদ)
১৯০৫
খ্রিষ্টাব্দের ৫ জুলাই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়।
খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল
প্রথম কোলকাতা প্রেস- থেকে। আর
৬ই জুলাই (বৃহস্পতিবার
২২ আষাঢ় ১৩১২)আনুষ্ঠানিকভাবে
ঘোষণা দেওয়া হয়। এই দিন বাং;লার নাট্যশালাগুলো অশোচ ব্রত পালন
করেছিল। এই উপলক্ষে এই দিন স্টার বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এরপর স্টার মঞ্চস্থ করেছিল- তিনটি নাটক এ্গুলো হলো
-
২২ জুলাই ১৯০৫।
রাণাপ্রতাপ (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
-
২৩ ডিসেম্বর ১৯০৫।
পদ্মিনী (ক্ষীরোদ প্রসাদ)
-
২৫ ডিসেম্বর ১৯০৫।
সাবাস বাঙালি (অমৃতলাল মিত্র)
১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসের দিকে
অপরেশ মুখোপাধ্যায়
'স্টার থিয়েটার-এ যোগ দেন। এখানে তিনি ক্ষীরোদ প্রসাদের 'পলাশীর প্রায়শিচত্ত' (৪ জুন
১৯০৬) নাটকে মোহনলালের চরিত্রে অভিনয় করে সুখ্যাতি লাভ করেন। এই নাটকটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে
অমৃতলালের সাথে বনিবনা না হওয়ায়
অপরেশ মুখোপাধ্যায়
স্টার ত্যাগ করেন। ৪ মে স্টারে বৈদ্যুতিক পাখা যুক্ত হয়েছিল। এই দিন অভিনীত হয়েছিল
ক্ষীরোদ প্রসাদের 'বক্ষ ও রমণী' এবং অমৃতলালের 'একাকার' নাটক। ১৪ আগষ্ট মঞ্চস্থ
হয়েছিল ক্ষীরোদ প্রসাদের 'নন্দকুমার'।
১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের
উল্লেখযোগ্য নাটক ছিল-
-
২৫ জুন। যৎকিঞ্চিৎ।
অমরেন্দ্রনাথ দত্ত।
-
২৫ জুন। কামিনী
কাঞ্চন। হারাণচন্দ্র রক্ষিতের উপন্যাস অবলম্বন অমরেন্দ্রনাথ দত্তের নাটক
-
২১ নভেম্বর। জীবন
সন্ধ্যা। রমেশদত্তের 'রাজপুত জীবনসন্ধ্যা' উপন্যাস অবলম্বনে অমরেন্দ্রনাথ
দত্তের নাটক
-
২৫ ডিসেম্বর। কেয়া
মজাদার। অমরেন্দ্রনাথ দত্ত।
১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে পুরানো
নাটকের পাশাপাশি অভিনীত হয়েছিল ২টি নতুন নাটক।
-
৩ জুলাই। কর্মফল। মনোমোহন গোস্বামীর
রচিত। ব্রিটিশ সরকার এই নাটকের অভিনয় এবং প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল।
-
২০ জুলাই। 'কুসুমে
কীট'। নিত্যবোধ বিদ্যারত্নের রচিত
১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে পুরানো
নাটকের পাশাপাশি অভিনীত হয়েছিল ৪টি নতুন নাটক। এগুলো হলো-
-
২৬ ফেব্রুয়ারি।
দশচক্র। রবীন্দ্রনাথের 'মুক্তির উপায়' গল্পের সৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর-কৃত
নাট্যরূপ।
-
৬ আগষ্ট মঞ্চস্থ।
রাণী ভবানী। অমরেন্দ্রনাথের রচিত
-
১১ সেপ্টেম্বর।
গুরুঠাকুর। ভূপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত
-
১০ ডিসেম্বর। বেহুলা।
হরনাথ বসুর রচিত।
১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের
প্রথমার্থে পুরানো নাটকের পাশাপাশি অভিনীত হয়েছিল ২টি নতুন নাটক। এগুলো হলো-
-
২৯ এপ্রিল। 'সুলতান'
এবং 'নাগেশ্বর'। ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের রচিত।
এরপর ২৭শে সেপ্টেম্বর থেকে
১০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিনয় বন্ধ ছিল। এরপর আরও দুটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল। নাটক দুটি
হলো-
-
১১ নভেম্বর। সৎসঙ্গ।
ভূপেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত
-
২৫ নভেম্বর শ্বশুড়বাড়ি
যাত্রা। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রচিত। এই নাটকে যান্ত্রিক কৌশলে মঞ্চে ট্রেন থেকে
যাত্রী উঠানামা, ধীরে ধীরে ট্রেন চলে যাওয়া ইত্যাদি উপস্থাপন করে দর্শকদের
অভিভূত করা হয়েছিল।
১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের ৯
ফেব্রুয়ারি
গিরিশচন্দ্রের
মৃত্যু হয়। বিভিন্ন সময় স্টারের নাট্যকর্মীদর সাথে তিনি কাজ করেছেন। স্টারের
হাতীবাগানের স্টারের প্রতিষ্ঠালগ্ন সাহায্য করেছিলেন। যদিও
গিরিশচন্দ্রের
মৃত্যুর সময় স্টারের সাথে সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু স্টারের নাট্যকরমীরা শোকাহত ছিলেন।
এই বছরের পুরানো নাটকের পাশাপাশি নতুন ছিল ৫টি। এগুলো হলো-
-
২৯ মার্চ। ধর্মবিপ্লব।
মনোমোহন গোস্বামীর রচনা
-
৩০ মার্চ। খাসদখল।
অমৃতলাল বসুর রচনা। অভিনয়ে ছিলেন- অমৃতলালা বসু (নিতাইচরণ), অমরেন্দ্রমোহন (মোহিতমোহন),
কাশীনাথ চট্টোপাধ্যায় (মনোমোহন), কুঞ্জলাল চক্রবর্তী (ঠাকুর্দা মহাশয়),
লক্ষ্মীনারায়ণ (ডা. ডি মিত্র), কার্তিকচন্দ্র দে (পাকড়াশি), বসন্তকুমারী (মোক্ষদা),
মৃণালিনী (বিধু ঝি)।
-
১৫ জুন। রূপকথা।
মনোমোহন বসুর রচনা।
-
১৭ আগষ্ট। পরপারে।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রচনা।
-
১৬ নভেম্বর।
আনন্দবিদায়। রবীন্দ্রনাথকে ব্যঙ্গ করে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এই নাটক রচনা
করেছিলেন। অভিনয়কালে এ নিয়ে বড় ধরনের গণ্ডগোলের সৃষ্টি হলে- অভিনয় বন্ধ করে
দেওয়া হয়। এরপর ৫ ডিসেম্বর নাটকটি পুনরায় মঞ্চস্থ করা হয়েছিল। এরপর আর কোথাও
নাটকটি মঞ্চস্থ হয় নি। এর সাথে ছিল অ্যানি অ্যাবটের প্রদর্শনী ও অবু হোসেন।
-
২৫ ডিসেম্বর। কাল
পরিণয়। রামলাল বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে বছরের
শুরু থেকেই টাকার জন্য বায়োস্কোপ দেখানো হয়েছিল। এছাড়া কলকাতার বাইরে অভিনয় করেছিল
স্টারের নাট্যকর্মীরা। ফলে ২৯শে মার্চের আগে কলকাতায় এদের কোনো নাটক মঞ্চস্থ হয় নি।
এরপর যে সকল নতুন নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল, সেগুলো হলো-
-
২৯ মার্চ। 'ধর্মবিপ্লব'
মনোমোহন গোস্বামীর রচনা।
-
৩ মে। কিসমিস।
অমরেন্দ্রনাথের রচিত কৌতুক-নাটক।
-
১৭ মে। রাজা ও রাণী।
রবীন্দ্রনাথের রচনা। এই দিন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের মৃত্যু হয়। এর ফলে স্টার
তাদের নিয়মিত একজন নাট্যকারকে হারায়।
-
১ নভেম্বর। রোকশোক।
অমরেন্দ্রনাথের রচিত কৌতুক-নাটক।
১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে পুরানো
নাটকের সাথে সে কয়েকেকটি নতুন নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল। সেগুলো হলো-
-
১৩ জুন। অভিমানিনী।
রবীন্দ্রনাথের শাস্তি গল্পের নাট্যরূপ। রামলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের
সহযোগিতায় নাট্যরূপ দিয়েছিলেন অনরেন্দ্রনাথ দত্ত। অভিনয়ে ছিলেন- মন্মথনাথ পাল (ছিদাম)।
ক্ষেত্রমোহন মিত্র (দুখীরাম), কাশীনাথ চট্টোপাধ্যায় (রামলোচন), বীরেন্দ্রমাথ
মুখোপাধ্যায় (সিভিল সার্জেন), কুসুমকুমারী (চন্দনা), নরীসুন্দরী (ললিতা),
মৃণালিনী (রাধা)।
-
১০ জুলাই,
অমরেন্দ্রনাথ উদ্যোগী হয়ে 'থিয়েটার' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। আটমাস চলে
পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।
-
১৫ আগষ্ট। অহল্যাবাঈ।
মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা।
-
৩১ অক্টোবর। অকলঙ্ক
শশী। বীন্দ্রনাথের 'দিদি' গল্পের নাট্যরূপ। নাট্যরূপ দিয়েছিলেন রামলাল
বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনয় করেছিলেন- অমরেন্দরনাথ দত্ত (জয়গোপাল), কাশীনাথ
চট্টোপাধ্যায় (দুর্লভ)। কুঞ্জলাল চক্রবর্তী (কেদার নন্দী), হীরালাল দত্ত (মধু
ডাক্তার) কুসুমকুমারী (শশী), বসন্তকুমারী (তারা), মৃণালিনী (সুভাষিণী)।
-
৫ ডিসেম্বর।
ক্ষত্রবীর। ভূপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত। মহাভারতের যুদ্ধ নিয়ে লেখা
হলেও তৎকালীন ইউরোপের প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে তুলে ধরা হয়েছিল।
-
২৬ ডিসেম্বর। 'অভিনেত্রীর
রূপ'। অমরেন্দ্রনাথ দত্তের রচিত।
১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা
জানুয়ারী স্টারের প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুশীলাবালা মৃত্যুবরণ করেন। তাই সেদিন স্টারে
অভিনয়ের শুরতে হরিসঙ্কীর্তন হয়েছিল। এই বছরে পুরানো নাটকের পাশাপাশি যে সকল
নতুন নাটক অভিনীত হয়েছিল, সেগুলো হলো
-
৬ ফেব্রুয়ারি। 'প্রেমের
জেপলীন'। অমরেন্দ্রনাথ দত্তের রচনা।
-
৬ ফেব্রুয়ারি।
বেলোয়ারী'। রামলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা।
-
৬ ফেব্রুয়ারি। কনে
বদল। স্বর্ণকুমারী দেবীর রচনা।
-
২৪ মার্চ। মার্কিন
নাট্যশিল্পী ডেনেভার বিল তাঁর অল স্টার কোম্পানি নিয়ে স্টারে মঞ্চস্থ করেছলেন-
রেদ ইন্ডিয়ান ওয়ার ড্রামা।
-
২৭ এপ্রিল। মাধব রাও।
মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা
-
২১ আগস্ট। রাজ
চন্দ্রধ্বজ। জগৎচন্দ্র সেনের রচনা
-
১২ অক্টোবর। ইরেজিতে
দ্যা সা্ন অফ দ্যা ক্রস' নাটকের নির্বাচিত অংশ অভিনয়ের পাশাপাশি এর বাংলা
অনুবাদের অভিনয় করেছিল।
-
৪ ডিসেম্বর
শেক্সপিয়রের মার্চেন্ট অফ ভেনিসের বাংলা রূপান্তর মঞ্চস্থ করে। রূপান্তর
করেছিলেন ভূপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। এতে অভিনয় করেছিলেন- অমরেন্দ্রনাথ দত্ত
(কুলীরক, শাইলকের রূপান্তর), বীরেন্দ্র মুখোপাধ্যায় (অনিলকুমার, অ্যান্টিনিয়োর
রূপান্তর), কুঞ্জলাল চক্রবর্তী (বসন্তকুমার, ব্যাস্যানিয়োর রূপান্তর,
লক্ষ্মীকান্ত মুখোপাধ্যায় (রাজা বিক্রমসিংহ, ডিউক অফ ভেনিসের রূপান্তর),
কুসুমকুমারী (প্রতিভা, পোর্শিয়ার রূপান্তর), নারায়ণী (নিরজা, নারিসার রূপান্তর),
আশ্চর্যময়ী (যূথিকা, জেসিকার রূপান্তর), কাশীনাথ চট্টোপাধ্যায় (নটবর, লনসেলোট
গোব্বোর রূপান্তর)।
-
১২ ডিসেম্বর।
সাহাজাহান নাটকে ঔরংজেবের ভূমিকায় অভিনয় করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
-
২৫ ডিসেম্বর। ভীলেদের
ভোমরা। মনোমোহন গোস্বামীর রচনা।
১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দের ৬
জানুয়ারি অমরেন্দ্রনাথ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর স্টারের ম্যানেজার হন অমৃতলাল বসু। এই
বছরের নতুন নাটক ছিল-
-
১১ মার্চ। গুরু
দক্ষিণা। ভূপেন্দ্রনাথের রচনা।
-
১৩ মে। বল্লাল সেন।
যোগেন্দ্রনাথ দাসের রচনা।
-
২৪ জুন। জড়ভরত।
হারণচন্দ্র রক্ষিতের রচনা।
-
২৫ ডিসেম্বর। সাধনা।
মনোমোহন গোস্বামীর রচনা।
১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের নতুন নাটকগুলো ছিল-
-
১৪ এপ্রিল। দেববালা।
যোগীন্দ্রনাথ বসুর রচনা
-
১৪ জুলাই। চন্দ্রশেখর।
এই নাটকের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে- স্টার এবং
মিনার্ভা থিয়েটার মঞ্চস্থ
হয়েছিল।
-
৮ আগষ্ট। চন্দ্রশেখর
ও খাসদখল মঞ্চস্থ হয়।। এই নাটকে অমৃতলাল বসুর কনিষ্ঠপুত্র অসিভূষণ বসু প্রথম
মঞ্চে অভিনয় করেন। চন্দ্রশেখরে তিনি প্রতাপ এবং খাসদখলে- মোহিতের চরিত্রে অভিনয়
করেন।
-
স্টারের দর্শক কমে
যাওয়া, সেই সাথে অর্থ-সঙ্কটের কারণে ১২ আগষ্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো
অভিনয় হয় নি।
-
২২ সেপ্টেম্বর।
কুরুক্ষেত্র। ডা: নারায়ণ বসুর রচনা। এতে অভিনয় করেছিলেন- নৃপেন্দ্রচন্দ্র বসু (শ্রীকৃষ্ণ),
লক্ষ্মীকান্ত মুখোপাধ্যায় (ভীষ্ম), পুষপকুমারী (উত্তরা), কুঞ্জলাল চক্রবর্তী (ভীম),
হরিসুন্দরী ব্লাকী (দ্রৌপদী)। এই নাটকটি জনসমাদর লাভ করেছিল।
-
অর্থ-সঙ্কটের কারণে,
৩১ অক্টোবর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিনয় বন্ধ থাকে। ২৯ ডিসেম্বর থেকে পুরানো
নাটক অভিনীত হয়।
১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে স্টার মুমূর্ষু অবস্থায় কোনরকমে চলছিল।
- ১ জানুয়ারি দাশরথি
রায়ের রচিত 'রণভেরী' নাটক মঞ্চস্থ হয়।
- ১৩ জানুয়ারি প্রধান লেসি অনঙ্গমোহন এবং
ম্যানেজার এম. এল. মুখার্জি হন।
- ১৯ জানুয়ারি মঞ্চস্থ হয়েছিল বঙ্কিমচন্দ্রের 'মুচিরাম'-এর
নাট্যরূপ। এই নাটকে কুসুমকুমারীর অনবদ্য অভিনয় উচ্চ প্রসংশিত হয়েছিল। এরপর এই
থিয়েটার চালানো অসম্ভব হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার স্টার বন্ধ
হয়ে যায়। তবে মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্ত অভিনয়, গওহরজানের গান, ম্যাজিক, বায়োক্ষোপ
ইত্যাদি দিয়ে দর্শক আকর্ষণের চেষ্টা অব্যাহত ছিল।
২৮ এপ্রিলের অনুষ্ঠানের পর
একেবারে ২৮ জুন
পর্যন্ত স্টার একটানা বন্ধ থাকে। ২৯ জুন থেকে পুরনো নাটক এবং সঙ্গীত, নৃত্য,
বায়োস্কোপ ইত্যাদির অনুষ্ঠান চালানো হয়।
এরপর গিরিমোহন মল্লিক স্টার থিয়েটারের ভাগ্য ফেরানোর উদ্যোগ নেন।
৩ আগস্ট শরৎচন্দ্রের 'বিরাজ বৌ' উপন্যাসের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ করা হয়।
নাট্যরূপ দিয়েছিলেন ভূপেন্দ্রনাথ। এটাই ছিল সাধারণ রঙ্গমঞ্চে শরৎচন্দ্রের গল্প বা
উপন্যাস অবলম্বনে প্রথম নাট্যরূপের অভিনয়। অভিনয় করেছিলেন- অমৃতলাল বসু (যদু), মি.
পালিত (নীলাম্বর), ক্ষেত্রমোহন মিত্র (পীতাম্বর), কাশীনাথ চট্টোপাধ্যায় (নিতাই),
হীরালাল দত্ত (ভুলু), মনোমোহন গোস্বামী (নরহরি), কুসুমকুমারী (বিরাজ বৌ),
বসন্তকুমারী (সুন্দরী), নরীসুন্দরী (মোহিনী)। এই নাট্যকের সূত্রে আবার স্টারে দর্শক
সমাগম শুরু হয়েছিল। এর ফাঁকে পুরনো নাটক চালানো হয়েছিল। নতুন নাটক হিসেবে মঞ্চস্থ
হয়েছিল- ২১শে সেপ্টেম্বর ভূপেন্দ্রনাথের প্রহসন 'বিদ্যাধরী" ২ নভেম্বর যতীন্দ্রমোহন
চট্টোপাধ্যায়ের 'আরব অভিযান। ২৯ নভেম্বর ব্রিটেনের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ জয় উপলক্ষে
মঞ্চস্থ হয়েছিল 'ভিক্টোরি সেলিব্রেশান পারফরমেন্স'। ব্রিটেনের প্রথম বিশ্বযুদ্ধে
জয়লাভ উপলক্ষে স্টার বিশেষ অভিনয়। এছাড়া অভিনীত হয়েছিল খাসদখল' ও জয়দেব । উল্লেখ,
এই দিন দরিদ্রের জন্য প্রবেশমূল্য ছিল না।
১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ৪ ডিসেম্বর গিরিমোহন মল্লিক স্টার থিয়েটারকে আরও ভালোভাবে
চালানোর জন্য-
মিনার্ভা থিয়েটার
থিয়েটারের অপরেশ মুখোপাধ্যায়কে থিয়েটারের ম্যানেজার নিযুক্ত করেন। এই সময়
অপরেশচন্দ্রের সঙ্গে
মিনার্ভা থিয়েটার
থেকে চলে এসেছিলেন তারাসুন্দরী ও নীরদাসুন্দরী। নতুন নাটক প্রস্তুতির জন্য
কয়েকদিন অভিনয় বন্ধ থাকার পর, ১৪ ডিসেম্বর মঞ্চস্থ হয়েছিল ক্ষীরোদপ্রসাদ
বিদ্যাবিনোদের 'কিন্নরী'। উল্লেখ্য, এটি আগেই ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ আগষ্ট
অপরেশচন্দ্র মিনার্ভায় অভিনয় করেছিলেন। স্টারে অভিনয় করেছিলেন- তারকনাথ পালিত (সুধন),
তারাসুন্দরী (উৎপল), বসম্তকুমারী (মকরী), নীরদাসুন্দরী (চকুরিশ)। এই সময় স্টারের
পাশাপাশি
মিনার্ভা থিয়েটারের
'কিন্নরী' অভিনয় চলছিল। এবং একসঙ্গে দুই থিয়েটারে 'কিন্নরী' হাউসফুল হতে থাকল। মিনার্ভার মালিক
উপেন্দ্রনাথ মিত্র স্টারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করলেও। কিন্তু স্টারেও 'কিন্নরী'র
অভিনয় চলতে লাগল।
১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ স্টার
শুরু হয়েছিল কিন্নরী' দিয়ে। ২ মার্চ আদলতের আপত্তিতে স্টার
'কিন্নরী'র অভিনয় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে গিরিমোহন স্টারের সত্ত্ব ত্যাগ করলে- অমৃতলাল বসু,
হরিপ্রসাদ ও দাসুচরণ নিয়োগীর কাছ থেকে অপরেশচন্দ্র স্টারের লীজ নেন। বাংলা নববর্ষ
থেকে মাসিক ১২০০ টাকায় ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া দিতে হয়েছিল সেলামিবাবদ গিরিমোহনকে
৯২৫০ টাকা, স্টারের মালিকদের ৯০০ টাকা এবং এক রাত্রির সম্মান-অভিনয় বাবদ ৭০০ টাকা।
সূত্র:
- আমার কথা। বিনোদিনী দাসী। কথাশুল্প প্রকাশ। কলকাতা। পৌষ
১৩৬১
- গিরিশ রচনাবলী। সাহিত্য সংসদ। কলিকাতা। ১৯৬৯।
- বঙ্গীয় নাট্যশঠালার
ইতিহাস। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ মন্দির, ১৩৪৬
-
বাংলা থিয়েটারের ইতিহাস।
দর্শন চৌধুরী। পুস্তক বিপনী
কলকাতা ১৯৯৫।
- বাংলা থিয়েটারের গান। শ্রীরাজ্যেশ্বর মিত্র। ইন্দিরা সংগীত-শিক্ষায়তন।
১৯৮২।
- বাংলা থিয়েটারের পূর্বাপর। নৃপেন্দ্র সাহা। তূণ প্রকাশ। ১৯৯৯।
- বাংলা নাটকের ইতিবৃ্ত্ত। হেমেন্দ্র নাথ
দাশগুপ্ত
-
বাংলা নাটকের ইতিহাস। অজিতকুমার ঘোষ
- বাংলা নাট্য সাহিত্যের ইতিহাস। আশুতোষ ভট্টাচার্য
- বাংলা নাট্যসাহিত্যের পূর্ব্ব-কথা। শ্রীশরচ্চন্দ্র ঘোষাল। নারায়ণ [পৌষ ১৩২১ বঙ্গাব্দ]
- বাংলা নাটকের বিবর্তন। সুরেশচন্দ্র মৈত্র। মুক্তধারা। ১৯৭১
-
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত।
সপ্তম খণ্ড। অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়