মালবী
ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতিতে রাগ বিশেষ।

খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয়-তৃতীয় শতাব্দীতে ভরতের পুত্র ও শিষ্য শার্দুল এই রাগকে ভিন্নষড়্‌জ গ্রামরাগের ভাষারাগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে মতঙ্গের রচিত বৃহদ্দেশী গ্রন্থে [পৃষ্ঠা:২৪৭] শার্দুলের উদ্ধৃতিতে এই ভাষারাগ হিসেবে এই রাগের নাম পাওয়া যায়। তবে বৃহদ্দেশীতে এই রাগের বিবরণ পাওয়া যায় না। কল্পিনাথ এই রাগকে ভিন্নষড়্‌জ ের বিভাষা রাগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কল্পনাথের মতে এই রাগের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা হলো-
গ্রামরাগ: ভিন্নষড়্‌জ
রাগ প্রকৃতি:  বিভাষারাগ
জাতি: সম্পূর্ণ - সম্পূর্ণ
অংশস্বর: ধৈবত
গ্রহস্বর: ধৈবত
ন্যাস স্বর: ধৈবত
এই রাগে স, র, গ, ম এর বহুল প্রয়োগ ছিল।

বর্তমানে উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতিতে শ্রী অঙ্গের রাগ। ঠাটের বিচারে একে পূরবী ঠাটের অন্তর্গত করা হয়েছে। এই রাগ   অপ্রচলিত। এই কারণে এর বাদী, সমবাদী, ন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায় না। অবরোহণে ধৈবত খুবই দুর্বলভাবে ব্যবহার করা হয়।
আরোহণ ‌‌ : স ঋ গ হ্ম প দ র্স
অবরোহণ : স ন দ প হ্ম গ ঋ স
ঠাট: পূরবী
জাতি: ষাড়ব-সম্পূর্ণ।
সময়: সায়ংকালীন সন্ধিপ্রকাশ।
পকড় : ন্ ঋ গ, হ্ম প দ প, হ্ম ঋ গ, দ হ্ম, ঋ স।

তথ্যসূত্র:
রাগ-রূপায়ণ (প্রথম খণ্ড)। সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী।