নানা ধরনের
সমস্যার কারণে কলকাতা ব্রডকাস্টিং কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যায়। ফলে ১৯৩০
খ্রিষ্টাব্দের ১লা মার্চ (শনিবার ১৭ ফাল্গুন ১৩৩৬) থেকে এর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।
এই অবস্থায় তৎকালীন ভারত সরকার বেতার সম্প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই সময় এই
প্রতিষ্ঠানের নাম হয়-
Indian State Broadcasting Service (ISBS)
।
ভারতীয় রাজ্য সম্প্রচার পরিসেবা (ISBS
)
-র উদ্দেশ্য ছিল বেতার মাধ্যমকে জনহিতকার কাজে ব্যবহার করা। সরকারি প্রতিষ্ঠান
হিসেবে পরীক্ষামূলক বেতার সম্প্রচার শুরু হয় ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের ১লা এপ্রিল (মঙ্গলবার,
১৮ চৈত্র ১৩৩৬) থেকে। এই সময় সকল কর্মচারী
চাকরি হারিয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ে। এই অবস্থায় তৎকালীন ভারত সরকার বেতার সম্প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই
সময় এই সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের নাম হয়- Indian State Broadcasting Service (ISBS)
।
নতুন প্রতিষ্ঠানে পুরানো কর্মচারীরা চাকরি পায়। তবে নতুন করে
কর্ম বিন্যাস করা হয়।
১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বেতার থেকে
'বসন্তেশ্বরী' নামে একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। এই অনুষ্ঠানে
বাণী কুমার চণ্ডীর শ্লোক আবৃত্তি করেন। এই অনুষ্ঠানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এই
অনুষ্ঠানের সাফল্য দেখে ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ষষ্ঠীর ভোরে কলকাতা বেতারকেন্দ্র থেকে
দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেবী দুর্গার পৌরাণিক কাহিনি অবলম্বনে
দুই ঘণ্টার
'মহিষীমর্দিনী' নামক একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয়। এই অনুষ্ঠানটির
গ্রন্থনা করেছিলেন বাণীকুমার ভট্টাচার্য এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন
পঙ্কজকুমার
মল্লিক। এই অনুষ্ঠানের ভাষ্য ও শ্লোকপাঠ করেন
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।
এই অনুষ্ঠানে কয়েকটি গানে সুরযোজনা করেন পণ্ডিত হরিশচন্দ্র ও রাইচাঁদ। আর অধিকাংশ গানে
কণ্ঠ দিয়েছিলেন পঙ্কজকুমার মল্লিক। দুর্গাপূজা উপলক্ষে
এই অনুষ্ঠানটি অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ
করে এবং এখনো সে জনপ্রিয়তা এখনও ম্লান হয় নি।
১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে সেনোলা রেকর্ড কোম্পানি থেকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অভিনীত 'সীতা'
নাটকের রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই নাটকের পরিচালকও তিনি ছিলেন।
১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে
পেশাদার রঙ্গমঞ্চে পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন
রংমহল থিয়েটারের।
১৯৪১
খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট
মাসের
প্রথম সপ্তাহে রবীন্দ্রনাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
৭ অগাস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮
বঙ্গাব্দ) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে জোড়সাঁকোর ঠাকুর বাড়ীতে
তিনি
মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁকে কলকাতা নিমতলা শ্মশানে তাঁর দাহ সম্পন্ন হয়। এই সময় কলকাতা বেতারকেন্দ্র থেকে
বীরেন্দ্রকৃষ্ণের তত্ত্বাবধানে
রবীন্দ্রনাথের এই অন্তিমযাত্রার ধারাবিবরণী প্রচার করা হয়।
১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট (ভাদ্র
১৩৪৮), কলকাতার
মিনার্ভা থিয়েটার মঞ্চে
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের রচিত রঙ্গনাটক 'ব্ল্যাক আউট' মঞ্চস্থ হয়েছিল।
১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে 'স্বামীর ঘর' নামক একটি ছবি পরিচালনা করেছিলেন।
১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে পশুপতি চট্টোপাধ্যায়ের
পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছিল 'নিষিদ্ধ ফুল' ছায়াছবি। এই ছবির
কাহিনিকার ছিলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ।
১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর চিত্রনাট্যে মুক্তি পায় হরিভঞ্জ পরিচালিত 'মা অন্নপূর্ণা'
এবং মানু সেন পরিচালিত 'সতীর দেহত্যাগ'।
১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই নভেম্বর, মনোজ বসুর 'শেষলগ্ন' উপন্যাস
অবলম্বনে মঞ্চস্থ হয়েছিল একটি নাটক।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ পরিচালনায় নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল
রংমহল থিয়েটারে।
১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে বীরেন ভদ্রের পরিচালনায় 'মায়ামৃগ' নাটকে প্রথম বার মঞ্চস্থ হন।
এছাড়া তাঁর চিত্রনাট্যে মুক্তি পায় নারায়ণ ঘোষ পরিচালিত সাধক বামাক্ষাপা।
১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ২রা জুলাই, পশ্চিমবঙ্গের বিধান চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ধারাবিবরণী দিয়েছিলেন।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণের পরিচালিত 'মহিষীমর্দিনী'
এতটাই জনপ্রিয় যে, ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে
আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ বীরেন্দ্রকৃষ্ণের পরিবর্তে জনপ্রিয় অভিনেতা উত্তম কুমারকে
অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করেছিল। কিন্তু এই প্রচার
জনমানসে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে। ফলে শেষ পর্যন্ত আকাশবাণী
কর্তৃপক্ষ সেই অনুষ্ঠানের পরিবর্তে মূল মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানটির
সম্প্রচারের ফিরে আসে।
১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে মনু সেন-এর পরিচালনায়
মুক্তি পেয়েছিল 'সুবর্ণ গোলক' ছায়াছবি। এই ছবির কাহিনিকার
ছিলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ।
১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা নভেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ
করেন।
২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে চিত্রপরিচালক সৌমিক সেন মহালয়া নামে
একটি চলচিত্র নির্মাণ করেন। এতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চরিত্রে রূপদান করেন শুভাশীষ
মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে উত্তম কুমারের চরিত্রে অভিনয় করেন যীশু সেনগুপ্ত।
২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের মহালয়ার দিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণের কন্যা
সুজাতা ভদ্র সারেগামা ইন্ডিয়া লিমিটেডের তরফ থেকে তার পিতার এই মহান কীর্তির
রয়্যালটি স্বরূপ ৫০,৯১৭ টাকার একটি চেক পান।