ইকুয়ডের-এর পতাকা

ইকুয়েডর
Ecuador
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রজাতন্ত্র।
রাষ্ট্রীয় নাম:
 Republic of Ecuador

ইকুয়েডরের পতাকা: ইকুয়েডরের জাতীয় পতাকা তিনটি অনুভূমিক রঙের সমন্বয়ে গঠিত: হলুদ, নীল এবং লাল।
১. হলুদ (উপরে): এটি পতাকার অর্ধেক অংশ জুড়ে থাকে। এটি দেশের উর্বর ভূমি এবং সম্পদের প্রতীক।
২. নীল (মাঝখানে): এটি আকাশ এবং সমুদ্রের প্রতীক।
৩. লাল (নিচে): এটি স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের রক্তের প্রতীক।
৪. পতাকার একেবারে কেন্দ্রে ইকুয়েডরের জাতীয় প্রতীক (Coat of Arms) বসানো থাকে। এর উপরে থাকে কন্ডোর পাখি, গুয়ায়াস নদী এবং চিম্বোরাজো পর্বত দেখা যায়।
রাজধানী ও প্রধান শহর কিটো (Quito) : এটি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত রাজধানী। এর ঐতিহাসিক কেন্দ্রটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত। গুয়ায়াকিল: এটি দেশের বৃহত্তম শহর এবং প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর।

ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক:

ভৌগোলিক সীমানা: এর সীমানা তিনটি প্রধান দিকে বিভক্ত ভৌগোলিক বৈচিত্র্য: ইকুয়েডর ছোট দেশ হলেও এর ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বিস্ময়কর। একে প্রধানত চারটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়:

জনসংখ্যা: ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জনগণনা অনুসারে ১ কোটি ৮৪ লক্ষ।

ধর্ম: ইকুয়েডরের ধর্মীয় জীবন মূলত তাদের ঔপনিবেশিক ইতিহাস এবং আদিবাসী ঐতিহ্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ।
১. প্রধান ধর্ম: খ্রিষ্টধর্ম।
  • ক্যাথলিক: জনসংখ্যার প্রায় ৬৮%-৭০% মানুষ রোমান ক্যাথলিক। স্পেনীয় শাসনের সময় থেকেই এই ধর্মটি দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিটো শহরের অনেক ঐতিহাসিক চার্চ এর বড় প্রমাণ।
  • প্রোটেস্ট্যান্ট: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর প্রভাব বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ১৫% থেকে ২০% মানুষ ইভানজেলিকাল বা অন্যান্য প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদে বিশ্বাসী।

২. অন্যান্য ধর্মাবলম্বী:

  • অজ্ঞেয়বাদী ও নাস্তিক: প্রায় ১০% থেকে ১২% মানুষ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মে বিশ্বাস করেন না।
  • অন্যান্য: ইহুদি, মুসলিম, বৌদ্ধ এবং বাহাই ধর্মাবলম্বী খুব সামান্য।
আদিবাসী আধ্যাত্মিকতা: ইকুয়েডরের আমাজন এবং পার্বত্য অঞ্চলের অনেক আদিবাসী গোষ্ঠী তাদের নিজস্ব প্রাচীন বিশ্বাস এবং খ্রিষ্টধর্মের একটি মিশ্র রূপ পালন করে। একে বলা হয়
'Syncretism' । তারা প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান (যেমন—সূর্য, পৃথিবী বা 'পাচামামা') এবং খ্রিষ্টান সাধু-সন্তদের একত্রে শ্রদ্ধা করে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র:
ইকুয়েডর একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। দেশটির সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এখানে রাষ্ট্র ও চার্চ সম্পূর্ণ আলাদা। সরকারি কোনো কাজে কোনো বিশেষ ধর্মের প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই।

ধর্মীয় উৎসব:
ইকুয়েডরের উৎসবগুলো বেশ জাঁকজমকপূর্ণ হয়। বিশেষ করে সেমানা সান্তা  বা পবিত্র সপ্তাহ এবং বড়দিন অত্যন্ত ধুমধাম করে পালন করা হয়। কিটো শহরে ইস্টার উপলক্ষে বের হওয়া বিশাল মিছিল পর্যটকদের কাছে একটি বড় আকর্ষণ।
ইকুয়েডরের ইতিহাস: হাজার হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসারে ইকুয়েডরের ইতিহাসকে কয়েকটি প্রধান যুগে ভাগ করা যায়। যেমন-

১. প্রাক-কলম্বিয়ান যুগ: স্পেনীয়দের আগমনের অনেক আগে থেকেই এখানে বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী বসবাস করত।

  • প্রাচীন সভ্যতা: উপকূলীয় অঞ্চলের ভালদিভিয়া সংস্কৃতি। এর বিকাশ ঘটেছিল  খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের দিকে। একে আমেরিকার অন্যতম প্রাচীন মৃৎশিল্প সমৃদ্ধ সভ্যতা হিসেবে পরিচিত।
  • ইনকা শাসন: পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে (১৪৬০-এর দিকে) শক্তিশালী ইনকা সাম্রাজ্য বর্তমান ইকুয়েডর দখল করে। তারা কিটো-কে তাদের সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করে।
২. স্পেনীয় শাসন (১৫৩৪- ১৮২২):
  • ১৫৩২ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনীয় সেনাপতি ফ্রান্সিসকো পিজারো ইনকা সম্রাট আতাউয়ালপাকে পরাজিত ও হত্যা করেন।
  • ১৫৩৪ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনীয়রা কিটো শহর পুনর্গঠন করে। প্রায় ৩০০ বছর এটি স্পেনের উপনিবেশ ছিল। এ সময় ইউরোপীয় সংস্কৃতি, স্থাপত্য এবং ক্যাথলিক ধর্মের বিস্তার ঘটে।

৩. স্বাধীনতা ও গ্রান কলম্বিয়া (১৮০৯-১৮৩০)

৪. প্রজাতন্ত্রী ইকুয়েডর (১৮৩০- বর্তমান)