আন্দিজ পর্বতমালা
Andes Mountains
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম
প্রান্ত সংলগ্ন
প্রশান্ত
মহাসাগরের উপকূল
বরাবর বিস্তৃত পৃথিবীর দীর্ঘতম মহাদেশীয় পর্বতমালা। এই
পর্বতমালার সাথে
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের
সাতটি দেশ যুক্ত রয়েছে। এগুলো হলো-
আর্জেন্টিনা,
ইকুয়েডর,
কলম্বিয়া, চিলি,
পেরু,
বলিভিয়া ও ভেনিজুয়েলা।
নামকরণ
- প্রধান তত্ত্ব: প্রাচীন
ইনকা সভ্যতার প্রধান ভাষা কেচুয়া থেকে গৃহীত শব্দ ছিল আনতি
(উচ্চ শিখর/পরবত শিরা)। ১৬শ শতাব্দীতে স্প্যানিশরা দক্ষিণ আমেরিকায় এসে স্থানীয় কেচুয়া ভাষায়
Anti পর্বতমালাকে আন্দিজ (
Andes)
উচ্চারণ করা শুরু করে। বর্তমানে এই আন্দিজ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বর্তমানে
নামকরণের এই তত্ত্বটি প্রায় সর্বজন স্বীকৃত।
অন্যান্য তত্ত্ব
১.
anti = east
বা পূর্বদিক। ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী কুস্কো থেকে এই পর্বতমালা পূর্বদিকে অবস্থিত ছিল। ইনকাদের চারটি প্রধান অঞ্চলের একটির নাম ছিল
Antisuyu
(পূর্বাঞ্চল)। তাই কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন, স্প্যানিশরা স্থানীয়দের কাছ থেকে এই নাম শুনে পুরো পর্বতশ্রেণীকে
Andes
নামে অভিহিত করেছিলেন।
২,
anta
= তামা। এই পর্বতমালায় প্রচুর তামা, সোনা, রুপা ইত্যাদি খনিজ সম্পদ ছিল।
সেখান থেকে আন্দিজ নামকরণ হয়েছে। তবে এই তত্ত্বের গ্রহণযোগ্যতা কম। কারণ এই
পর্বতে তামা, সোনা, রুপার ইত্যদির খনি থাকলে শুধু তামা'র পাহাড় হবে কেন।
এর দক্ষিঞ্চলকে কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বেশিরভাগ বিজ্ঞানীদের মতে প্রায় ২ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে দক্ষিণ আমেরিকান
পাতের নিচে নাজকা পাত চাপা পড়লে, দক্ষিণ আমেরিকান পাতের প্রান্তীয় অংশ উত্থিত হতে
থাকে। ৩ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে এটি পর্বতে পরিণত হয়। বর্তমানে এই অংশ পেরু-চিলি ট্রেঞ্চ
নামে অভিহিত হয়ে থাকে। এই অংশের উত্থান ঘটেছিল নাজকা পাত এবং দক্ষিণ আমেরিকান পাতের সংযোগ স্থল থেকে।
বর্তমানে , এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ পাত চাপা অঞ্চলের একটি। পাত চাপা পড়ার কারণে
যে সকল আগ্নয়গিরির সৃষ্টি হয়েছিল, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্নেয়গিরিগুলো হলো-
- ইকুয়েডরের অাগ্নেয়গিরি। এটি উত্তরাঞ্চলীয়
আগ্ন্যুৎপাত অঞ্চল:
(otopaxi)। বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলির একটি (৫,৮৯৭ মি),
সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাত ২০১৫-২০১৬।
তুঙ্গুরাহুয়া (Tungurahua): খুব সক্রিয়, ১৯৯৯-২০১৪ পর্যন্ত অনেক অগ্ন্যুৎপাত
ঘটেছে
রেভেন্তাদোর (Reventador):
প্রায় নিয়মিত অগ্ন্যুৎপাত ঘটে
পেরু (কেন্দ্রীয় অঞ্চল): সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাত ২০১৫, ২০১৯।(Ubinas):
খুব সক্রিয়, ১৯৯৯-২০১৪ পর্যন্ত অনেক অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।
সাবানকায়া (Sabancaya): খুব সক্রিয়, ২০১৬ থেকে চলমান রয়েছে।
হুয়ায়নাপুতিনা (Huaynaputina): ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে ব্যাপক অগ্ন্যুৎপাত
হয়েছিল।
চিলি (দক্ষিণাঞ্চল):
(Villarrica):
দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলির একটি, লেকের মধ্যে অবস্থিত,
২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল।
কালবুকো (Calbuco):
২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল।
চাইতেন (Chaitén):
২০০৮-২০১০ খ্রিষ্টাব্দ্ আগ্নেয় বিস্ফোরণ।
পুয়েহুয়ে-কর্ডন কাউয়ে
(Puyehue-Cordón Caulle): ২০১১ সালে অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল।
ইয়াইমা (Llaima): নিয়মিত অগ্ন্যুৎপাত হয়।
চিলি-আর্জেন্টিনা সীমান্ত (কেন্দ্রীয় অঞ্চল):
(Llullaillaco):
বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আগ্নেয়গির ((৬,৭৩৯ মি)।
বর্তমানে সক্রিয়
ওজোস দেল সালাদো (Ojos del Salado):
বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
(৬,৮৯৩ মি)। শেষ অগ্ন্যুৎপাত ১৯৯৩
সেরো গালান (Cerro Galán)
আর্জেন্টিনার কাতামার্কা প্রদেশে অবস্থিত।
দক্ষিণাঞ্চল (Austral Volcanic Zone):
হুডসন (Hudson)
পুয়েহুয়ে (Puyehue)