![]() |
|
ভেনেজুয়েলার পতাকা |
পতাকার রঙের তাৎপর্য:>ভৌগোলিক অবস্থান:
- হলুদ: দেশের সম্পদ, বিশেষ করে সোনা এবং উর্বর ভূমির প্রতীক।
- নীল: সমুদ্র এবং আকাশকে বোঝায়, যা দেশটিকে স্পেন থেকে আলাদা করে।
- লাল: স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা বীরদের রক্ত ও সাহসের প্রতীক।
- আটটি তারা: ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী সাতটি মূল প্রদেশ এবং অষ্টম তারাটি সাইমন বলিভারের সম্মানে 'গুইয়ানা' প্রদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে।
রাজধানী কারাকাস
(Caracas)।
অক্ষাংশ: ১০°৩০' উত্তর দ্রাঘিমাংশ: ৬৬°৫৬' পশ্চিম। শহরটি ভেনেজুয়েলার উত্তর অংশে, উপকূলীয় পর্বতশ্রেণীর একটি সংকীর্ণ উপত্যকায় অবস্থিত। এটি ক্যারিবীয় সাগর থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে, তবে বিশাল আভিলা পর্বতমালা
শহরটিকে সমুদ্র থেকে আলাদা করে রেখেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৯০০ মিটার (৩,০০০ ফুট), যার কারণে এর আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে।
ধর্ম: ভেনেজুয়েলা ঐতিহাসিকভাবে একটি খ্র িষ্ট ধর্ম
প্রধান দেশ। দেশটির সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত এবং
রাষ্ট্র ও ধর্ম সম্পূর্ণ পৃথক (ধর্মনিরপেক্ষ)। ২০২৬
খ্রিষ্টব্দের প্রাক্কলন অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার ধর্মীয়
রূপরেখা দেওয়া হলো
।
মুদ্রা: ভেনেজুয়েলান বলিভার (Venezuelan Bolívar) । < ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ অক্টোবর থেকে বলিভার ডিজিটাল চালু করা হয়। এর অর্থ এই নয় যে এটি শুধু অনলাইনে চলে; বরং এটি সাধারণ কাগুজে নোট হিসেবেই ব্যবহৃত হয়।১. প্রধান ধর্মসমূহ ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ মানুষ খ্রি ষ্টা ন ধর্মের অনুসারী:
- রোমান ক্যাথলিক (প্রায় ৭০% - ৭৫%): এটি দেশটির বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী। স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় থেকে ক্যাথলিক ধর্ম ভেনেজুয়েলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। দেশের প্রতিটি শহরে অন্তত একটি ঐতিহাসিক গির্জা বা ক্যাথেড্রাল দেখা যায়।
- প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রি ষ্টা ন (প্রায় ১৫% - ২০%): সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ইভানজেলিকাল এবং পেন্টেকোস্টাল চার্চের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে এই ধারার প্রভাব বাড়ছে।
- অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু (প্রায় ২% - ৩%) । ভেনেজুয়েলায় ছোট ছোট কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায় অত্যন্ত সম্প্রীতির সাথে বাস করে:
- ইসলাম: মূলত মধ্যপ্রাচ্য (লেবানন, সিরিয়া) থেকে আসা অভিবাসীদের মাধ্যমে এখানে ইসলামের প্রসার ঘটেছে। কারাকাসে অবস্থিত 'শেখ ইব্রাহিম আল-ইব্রাহিম মসজিদ' দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ মসজিদ।
- ইহুদি ধর্ম: কারাকাসে একটি স্থায়ী ইহুদি সম্প্রদায় রয়েছে, তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তাদের সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।
- বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্ম: মূলত ভারত থেকে আসা মানুষের মধ্যে এই দুটি ধর্মের সামান্য কিছু লোক রয়েছে।
- লোকজ বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতা: ভেনেজুয়েলায় খ্রিষ্টধর্মের পাশাপাশি কিছু লোকজ আধ্যাত্মিক বিশ্বাসও বেশ প্রচলিত। এর মধ্যে 'মারিয়া লায়নজা' পূজা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি আদিবাসী, আফ্রিকান এবং খ্রি ষ্টা ন বিশ্বাসের একটি মিশ্র রূপ, যা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়।
- ধর্মহীন বা নাস্তিক: জনসংখ্যার প্রায় ৮% - ১০% মানুষ নিজেদের কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী বলে পরিচয় দেন না বা তারা নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী।
ঔপনিবেশিক পূর্ব যুগ ও স্প্যানিশ শাসন আদিবাসী: ইউরোপীয়রা আসার আগে এখানে 'আরাওয়াক', 'কারিব' এবং 'চিবচা' জনগোষ্ঠীর মানুষ বাস করত।
- কলম্বাসের আগমন: ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ক্রিস্টোফার কলম্বাস এই অঞ্চলে পৌঁছান। স্প্যানিশরা যখন উপকূলীয় অঞ্চলে পানির ওপর ঘরবাড়ি তৈরি করতে দেখে, তখন তারা এটিকে ইতালির ভেনিসের মতো মনে করে নাম দেয় "ভেনেজুয়েলা" (যার অর্থ ক্ষুদ্র ভেনিস)।
- ঔপনিবেশিক শাসন: পরবর্তী ৩০০ বছর এটি স্পেনের শাসনাধীন ছিল।
- স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সাইমন বলিভার বিপ্লব: ১৯শ শতাব্দীর শুরুতে স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু হয়। ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হলেন সাইমন বলিভার । তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ যুদ্ধের পর ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দে স্প্যানিশ বাহিনীকে পরাজিত করে ভেনেজুয়েলা পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।
- গ্রান কলম্বিয়া: স্বাধীনতার পর ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর এবং পানামা মিলে 'গ্রান কলম্বিয়া' নামক একটি বিশাল রাষ্ট্র গঠন করেছিল। ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে ভেনেজুয়েলা সেই ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- তেলের আবিষ্কার ২০শ শতাব্দীর শুরুতে মারাকাইবো হ্রদে বিশাল তেলের মজুদ আবিষ্কৃত হয়। এটি ভেনেজুয়েলাকে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ধনী দেশে পরিণত করে। এই সূত্রে একানায়কতন্ত্রের সূত্রপাত হয়।
একনায়কতন্ত্র ও গণতন্ত্র: ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দেশটি বারবার সামরিক অভ্যুত্থান এবং একনায়কতন্ত্রের মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে দেশটিতে স্থায়ীভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কয়েক দশক ধরে এটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম স্থিতিশীল রাষ্ট্র ছিল।
- শভিবাদ ও বর্তমান সংকট
- ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে হুগো চাভেজ ক্ষমতায় আসেন। তিনি 'বলিভারিয়ান বিপ্লব' শুরু করেন এবং সমাজতান্ত্রিক নীতি গ্রহণ করেন। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে তিনি দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক কল্যাণমূলক কাজ করেন।
- ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজনৈতিক সংকট ও জুয়ান গুইদো ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুইদো নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশ তাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন বড় ধরনের গণবিক্ষোভ এবং সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা হলেও মাদুরো সামরিক বাহিনীর সমর্থনে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হন। ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে বিরোধীরা গুইদোর 'অন্তর্বর্তী সরকার' বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
- নিকোলাস মাদুরো: ২০ ২ ৩ খ্রিষ্টাব্দে চাভেজের মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতায় আসেন। এরপর তেলের দাম কমে যাওয়া এবং অব্যবস্থাপনার কারণে দেশটিতে তীব্র অর্থনৈতিক মুদ্রাস্ফীতি ও রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়, যা বর্তমানেও চলছে।
- ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচন ও বিতর্ক : ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ২৮ জুলাই ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির জাতীয় নির্বাচন পরিষদ মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও বিরোধী দল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি বড় অংশ (যেমন- জাতিসংঘ ও কার্টার সেন্টার) এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। বিরোধীদের দাবি ছিল, তাদের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের প্রতিবাদ হলেও মাদুরো ক্ষমতা ছাড়েননি।
মাদুরোর ক্ষমতায় টিকে থাকার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর (অবিচল সমর্থন। সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলরা সরকারের বিভিন্ন লাভজনক খাত নিয়ন্ত্রণ করেন, যার ফলে তারা মাদুরোর অনুগত থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মাদুরো সরকারের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, বিশেষ করে তেল খাতের ওপর। এর উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে ক্ষমতাচ্যুত করা। তবে চীন, রাশিয়া, ইরান এবং কিউবার মতো মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতায় মাদুরো সরকার টিকে আছে। এছাড়া- ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে জানুয়ারির শুরুতে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা থেকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছে। মাদুরোর শাসন ব্যবস্থায় এখন ভাইস-প্রেসিডেন্ ট দেলসি রদ্রিগেজ এখন ভেনিজুয়েলা শাসন করছেন।