জর্ডন
Jordan
এশিয়া
মহাদেশের একটি দেশ।
ভৌগোলিকভাবে দেশটি পশ্চিম এশিয়ার দক্ষিণ
লেভান্ট
অঞ্চলে অবস্থিত।
রাষ্ট্রীয় নাম:
Hashemite Kingdom of Jordan
ভৌগোলিক অবস্থান: দেশটির উত্তরে
সিরিয়া, পূর্বে
ইরাক, দক্ষিণ-পূর্বে
সৌদি আরব এবং পশ্চিমে
ইসরায়েল ।
ভৌগৌলিক স্থানাঙ্ক: ৩১° উত্তর অক্ষাংশ
৩৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ প্রায়।
জনসংখ্যা: ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাব অনুসারে প্রায় ১ কোটি
১০ লাখ।
ভাষা: মূল ভাষা আরবি। অন্যান্য ভাষা- আর্মেনীয়,
সার্কাসিয়ান,
চেচেন। ইংরেজি ভাষার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
ধর্ম:
- ইসলাম। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০-৯৫% মুসলিম।
অধিকাংশই সুন্নি মুসলিম
- খ্রিষ্টান। প্রায় ৪–৬% মানুষ খ্রিষ্টান।
প্রধানত:
গ্রিক অর্থডক্স ও
রোমান ক্যাথলিক
- অন্যান্য ধর্ম:
খুব অল্পসংখ্যক- দ্রুজ ও বাহাই
জর্ডনের ইতিহাস: এটি মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক ক্রসপয়েন্টে অবস্থিত। এখানে সংক্ষেপে প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
- প্রাচীনকাল
পূর্ব পুরাতন সভ্যতা: জর্ডনের ভূখণ্ডে প্রাচীনকালে নাবাতীয়, অ্যান্টিক ও কানানীয় জনগোষ্ঠী বসবাস করত।
রোমান ও বাইজেন্টাইন সময়, জর্ডানের অনেক স্থান, যেমন পেত্রা ও জেরাশ, রোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। রোমান স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনার প্রমাণ আজও দেখতে পাওয়া যায়।
- ইসলামিক ও মধ্যযুগ
৭ম শতক: ইসলামের আগমন। উমায়্যাদ ও আব্বাসীয় খিলাফতের শাসনে অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ক্রুসেডের সময় জর্ডান বিভিন্ন সময়ে ক্রুসেডারদের নিয়ন্ত্রণে আসে, পরে মুসলিম শাসকরা পুনরায় দখল করে।
- আধুনিক যুগ
ওসমানীয় শাসন: ১৫১৬ থেকে ১৯১৮ খ্রি৯ষ্টাব্দ পর্যন্ত জর্ডান ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশরা জর্ডানের ওপর প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
হাশেমাইট রাজবংশের প্রতিষ্ঠা:হয় ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে ফয়সাল জর্ডানের শাসক হন এবং ব্রিটিশ প্রোটেক্টরেট হিসেবে জর্ডান গঠিত হয়।
১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে জর্ডান ব্রিটিশ প্রভুত্ব থেকে স্বাধীনতা লাভ করে এবং রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পশ্চিম তীরের কিছু অংশ জর্ডানের অধীনে চলে আসে। ১৯৬৭
খ্রিষ্টাব্দে ইসরায়েল এই অঞ্চলকে পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিয়ে নয়।
সাম্প্রতিক ইতিহাস
জর্ডান স্থিতিশীল রাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে পরিচিত।
হাশেমাইট রাজবংশ এখনও শাসন করে।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, এবং শরিয়াহ ও পশ্চিমা আইন মিশ্রিত সরকার ব্যবস্থা রয়েছে।