এ
[বর্ণ, লিপি,
শব্দ, ব্যাকরণগত উপদান]
বর্ণ উৎস: ব্রাহ্মীলিপি>কুষাণলিপি>গুপ্তলিপি>বাংলা
বাংলা
বর্ণমালা'র এবং
স্বরবর্ণ সেটের অষ্টম বর্ণ। এই
বর্ণের উপরে কোনো মাত্রা নাই । এই বর্ণের কোনো কার-চিহ্ন নেই।
এই বর্ণের কার-চিহ্ন
ে।
যেমন–
ক্ +
এ =কে ।
আধুনিক বানান রীতিতে শব্দের শুরুতে এ-কার থাকলে, এর সাথে মাত্রা
চিহ্ন থাকে না। কিন্তু শব্দের মাঝে থাকলে এ-কারের উপর মাত্রা থাকে
এবং তা ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে মিশে থাকে। যেমন-
- কেন [মাত্রা-বিহীন
এ-কার]
- কেটেছে [ট এবং ছ বর্ণের সাথে মাত্রাযুক্ত এ-কার বসেছে]
রবীন্দ্রনাথ এ-কারের
ধ্বনিগত উচ্চারণের প্রভেদ হিসেবে, শব্দের শুরুতে এ বা এ্যা ধ্বনির বিচারে
মাত্রাযুক্ত এবং মাত্রাছাড়া এ-কারের ব্যবহার নির্দেশিত করেছিলেন। এই বিধির উল্লেখ
রয়েছে- বিশ্বাভারতী থেকে স্বরবিতানগুলোর শেষে 'আকারমাত্রিক স্বরলিপিপদ্ধতির ব্যাখ্যা'
অংশে।
অন্যান্য বাংলা লিপির মতই তই
ব্রাহ্মীলিপি
থেকে এ-বর্ণটি উদ্ভূত হয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে এর আকার ছিল ত্রিভুজের মতো। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে ব্রাহ্মীলিপিতে এই বর্ণটি ক্রমে ক্রমে ইংরেজি ‘ও’ এবং ‘ডি’ অক্ষরের মতো হয়ে গিয়েছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ১ম শতাব্দীতে এর কিরূপ পরিবর্তন ঘটেছিল, তার নির্দশন পাওয়া যায় না। নিচের ছকে খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় ও দ্বিতীয় শতাব্দীর বর্ণের নমুনা দেওয়া হলো।

পরবর্তী সময়ের
কুষাণলিপিতে
ব্রাহ্মীলিপির
ত্রিভূজরূপটি একেবারে বিলোপ হয় নি।
গুপ্তলিপিতে এই ত্রিভুজ রূপটির নানা পরিবর্তন ঘটেছে লিপিকারদের হাতে। নিচে এই লিপির
ক্রমবিবর্তনের চিত্র দেখানো হলো।

শতাব্দী থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত
কুটিললিপি'র
বিবিধ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আমাদের আজকের এ-এর চেহারা পাওয়া গেছে পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে। নিচের ছকে খ্রিষ্টীয় দশম শতাব্দী থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত এ-এর ক্রমবিবর্তনের রূপটি দেখানো হলো।
তথ্যসূত্র:
১. প্রাচীন ভারতীয় লিপিমালা।গৌরীশঙ্কর ওঝা। অনুবাদ ও সম্পাদনা :
মনীন্দ্র নাথ সমাজদার। বাংলা একাডেমী ঢাকা। আষাঢ় ১৩৯৬, জুন ১৯৮৯।
২.
বাঙালা লিপির উৎস ও বিকাশের অজানা ইতিহাস। এস,এম. লুৎফর
রহমান। বাংলা একাডেমী ঢাকা। ফাল্গুন ১৪১১, মার্চ ২০০৫।
৩. বর্ণমালার উদ্ভববিকাশ ও লিপিসভ্যতার ইতিবৃত্ত। দেওয়ান গোলাম
মোর্তজা। বাংলা একাডেমী ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ্য ১৪১০, মে ২০০৩।
৪. সংস্কৃত বর্ণমালার ইতিহাস। রবীন্দ্রনাৎ ঘোষঠাকুর। বাংলা
একাডেমী ঢাকা। কার্তিক ১৩৮৫, নভেম্বরে ১৯৭৮।