চল্ চল্ চল্। চল্ চল্ চল্।
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্ রে চল্ রে চল্
চল্ চল্ চল্॥
উষার দুয়ারে হানি' আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত
আমরা টুটাব তিমির রাত
বাধার বিন্ধ্যাচল।
নব নবীনের গাহিয়া গান
সজীব করিব মহাশ্মশান
আমরা দানিব নূতন প্রাণ
বাহুতে নবীন বল।
চল্ রে নও জোয়ান
শোন্ রে পাতিয়া কান
মৃত্যু-তোরণ-দুয়ারে-দুয়ারে
জীবনের আহবান।
ভাঙ্ রে ভাঙ্ আগল
চল্ রে চল্ রে চল্
চল্ চল্ চল্॥পাঠভেদ: শিখা ও সওগাতে প্রকাশিত গানের সাথে উল্লিখত পাঠের ১১শ ও ১২শ এবং ১৭শ ও ১৮শ চরণের পার্থক্য আছে।
'তাজা-ব-তাজার' গাহিয়া গান
সজীব করিব গোরস্থান,
আমরা দানিব নূতন প্রাণ
বাহুতে নবীন বল।
ঊর্ধে আদেশ হানিছে বাজ
শহিদী ঈদের সেনারা সাজ
দিকে দিকে চলে কুজকাওয়াজ
খোলরে নিদ মহল।
নয়া জমানার মিনারে মিনারে
নব ঊষার আজান
ভাঙরে ভাঙ্ আগল
চল্রে চল্রে চল্।
জাক্রে তখ্ত তাউস
জাগ্রে জাগ্ বেঁহুস্
ডুবিল'রে দেখ রোম গ্রীক
কত পারশ্য রুষ
জাগিল পুনঃ সকল!
আমরা রচিব নতুন করিয়া
ধূলায় তাজমহল
চল্রে চল্রে চল্।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র দ্বিতীয় বার্ষিকীতে (১৩৩৫ বঙ্গাব্দ) 'শিখা' 'নতুনের গান শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এর পাদটীকায় উল্লেখ ছিল- 'দ্বিতীয় বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী সঙ্গীত'।
পাকিস্তানি শাসনামলে এই গানটিতে মহাশ্মশানের পরিবর্তে 'গোরস্থান' শব্দটি গাওয়া হয়েছিল [শ্রবণ নমুনা]]
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন চলচ্চিত্রের প্রচার পুস্তিকায় একটি নতুন স্তবক পাওয়া যায়। এটি হলো-
কবে সে খেয়ালি বাদ্শাহী
সেই সে অতীতে আজো চাহি'
যাস্ মুসাফির গান গাহি'
ফেলিস্ অশ্রুজল।
[সূত্র: প্রচার পুস্তিকা]
এইচএমভি। সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ (১৫ ভাদ্র-১৪ আশ্বিন ১৩৪০)।
এন ৭১৫৫। শিল্পী:
ধীরেন্দ্রনাথ দাস।
সুরকার:
কাজী নজরুল ইসলাম।