বিষয়: রবীন্দ্রসঙ্গীত।
গান সংখ্যা :
শিরোনাম:
নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে,
রয়েছ নয়নে নয়ন
পাঠ ও পাঠভেদ:
৪৮৭
নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে।
হৃদয় তোমারে পায় না জানিতে, হৃদয়ে রয়েছ গোপনে ॥
বাসনার বশে মন অবিরত ধায় দশ দিশে পাগলের মতো,
স্থির-আঁখি তুমি মরমে সতত জাগিছ শয়নে স্বপনে ॥
সবাই ছেড়েছে, নাই যার কেহ, তুমি আছ তার আছে তব স্নেহ॥
নিরাশ্রয় জন, পথ যার গেহ, সেও আছে তব ভবনে।
তুমি ছাড়া কেহ সাথি নাই আর, সমুখে অনন্ত জীবনবিস্তার—
কালপারাবার করিতেছ পার কেহ নাহি জানে কেমনে ॥
জানি শুধু তুমি আছ তাই আছি, তুমি প্রাণময় তাই আমি বাঁচি,
যত পাই তোমায় আরো তত যাচি, যত জানি তত জানি নে।
জানি আমি তোমায় পাব নিরন্তর লোকলোকান্তরে যুগাযুগান্তর—
তুমি আর আমি মাঝে কেহ নাই, কোনো বাধা নেই ভুবনে॥
তুমি ছাড়া
কেহ সাথি নাই আর :স্বরলিপি,
ব্রহ্মসঙ্গীত-স্বরলিপি ১ মাঘ
(১৩১১) ও বৈতালিক (চৈত্র ১৩২৫)
তুমি ছাড়া
কেহ সাথী নাহি আর :গীতবিতান (আশ্বিন ১৩৩৮)
তথ্যানুসন্ধান
ক.
রচনাকাল ও স্থান:
এ গানটি
(প্র) রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনস্মৃতি গ্রন্থে লিখেছেন,-.....একদিন
আমার রচিত দুইটি
পারমার্থিক কবিতা শ্রীকণ্ঠবাবুর নিকট শুনিয়া পিতৃদেব হাসিয়াছিলেন।
তাহার পরে বড়ো বয়সে'র- একদিন আমি তাহার শোধ লইতে পারিয়াছিলাম।
সেই
কথাটা এখানে উল্লেখ
করিতে ইচ্ছা করি।
একবার
মাঘোৎসবে (বাংলা মাঘ ১২৯৩) সকালে ও বিকালে আমি অনেকগুলি গান তৈরি
করিয়াছিলাম।
তাহার মধ্যে একটা গান- নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে রয়েছে নয়নে নয়নে।’
পিতা তখন
চুঁচুড়ায় ছিলেন।
সেখানে আমার এবং জ্যোতিদাদার ডাক পড়িল।
হারমোনিয়ামে জ্যোতিদাদাকে বসাইয়া আমাকে তিনি নূতন গান সব-কটি একে একে গাহিতে
বলিলেন।
কোনো গান দুবারও গাহিতে হইল।
গান গাওয়া
যখন শেষ হইল তখন তিনি বলিলেন,
দেশের রাজা যদি দেশের ভাষা জানিত
ও সাহিত্যের দর বুঝিত,
তবে
কবিকে তা তাহার পুরস্কার দিত।
রাজার দিক হইতে
যখন তাহার কোনো সম্ভাবনা নাই তখন আমাকেই সে-কাজ করিতে হইবে।’
এই বলিয়া
তিনি একখানি পাঁচশো টাকার চেক আমার হাতে দিলেন।
উল্লেখ্য,
১১ মাঘ ১২৯৩ বঙ্গাব্দ শনিবার ২৩ জানুয়ারি ১৮৮৬ তারিখে
সপ্তপঞ্চাশ সাংবৎসরিক মাঘোৎসব উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ এই গানটিসহ ২৬টি
নতুন গান পরিবেশিত হয়েছিল। ধারণা করা হয়, রবীন্দ্রনাথ এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে
এই গানগুলো রচনা করেছিলেন। এই সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ২৫ বৎসর ৯ মাস।
[রবীন্দ্রনাথের
২৫ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সে রচিত গানের তালিকা]
খ. প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ অষ্টমখণ্ড (মজুমদার লাইব্রেরি, ১৩১০)
কাব্যগ্রন্থ, দশম খণ্ড (ইন্ডিয়ান প্রেস, ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩২৩ বঙ্গাব্দ)। ধর্মসঙ্গীত ১। পৃষ্ঠা: ১৯৩-১৯৪। [নমুনা: প্রথমাংশ, শেষাংশ]
কাব্যগ্রন্থাবলী [আদি ব্রাহ্মসমাজ প্রেস, ১৩০৩। ব্রহ্মসঙ্গীত। যোগিয়া বিভাস-একতালা পৃষ্ঠা: ৪৬০-৪৬১][নমুনা: প্রথমাংশ, শেষাংশ]
সিটি বুক সোসাইটি, ১৩১৫ বঙ্গাব্দ। ব্রহ্মসঙ্গীত।
ইন্ডিয়ান প্রেস (১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩১৬ বঙ্গাব্দ)। ব্রহ্মসঙ্গীত। যোগিয়া বিভাস- একক প্রথমাংশ, শেষাংশ]
গানের বহি ও বাল্মীকি প্রতিভা (আদি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিভা, ১৩০০))
প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ [বিশ্বভারতী, আশ্বিন ১৩৩৮। কাব্য-গ্রন্থাবলী (১৩০৩ বঙ্গাব্দ)-এর ব্রহ্মসঙ্গীত অংশ থেকে গৃহীত হয়েছিল। পৃষ্ঠা: ১৫৯]
প্রথম খণ্ড (বিশ্বভারতী ১৩৪৮)
অখণ্ড সংস্করণ, তৃতীয় সংস্করণ (বিশ্বভারতী ১৩৮০)। পূজা: ৪৮৭। উপবিভাগ: বিবিধ-১১২।
গীতিচর্চ্চা (বিশ্বভারতী ১৩৩২)
বৈতালিক (চৈত্র ১৩২৫ বঙ্গাব্দ)। দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত।
ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি প্রথম ভাগ (মাঘ ১৩১১ বঙ্গাব্দ)। মিশ্র যোগিয়া-একতালা। কাঙ্গালীচরণ সেন-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল।
স্বরবিতান সপ্তবিংশ (২৭) খণ্ডের ৭ম গান। পৃষ্ঠা ২৪-২৭।
পত্রিকা:
তত্ত্ববোধিনী (ফাল্গুন ১৮০৮ শকাব্দ ১২৯৩ বঙ্গাব্দ)। যোগিয়া বিভাস-একতালা। পৃষ্ঠা: ২১৪। (ফাল্গুন ১৮২০ শকাব্দ, ১৩০৫ বঙ্গাব্দ)। কীর্তন, আখর যুক্ত। [নমুনা]
সঙ্গীত-প্রকাশিকা পত্রিকা (অগ্রহায়ণ ১৩১১ বঙ্গাব্দ)। কাঙ্গালীচরণ সেন-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল। পৃষ্ঠা ৫৭-৬০।
পরিবেশনা: ১১ মাঘ ১২৯৩ বঙ্গাব্দ শনিবার ২৩ জানুয়ারি ১৮৮৬ তারিখে সপ্তপঞ্চাশ সাংবৎসরিক মাঘোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রাতঃকালীন অধিবেশনে গানটি প্রথম পরিবেশিত হয়েছিল।
গ. সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
স্বরলিপিকার: কাঙালীচরণ সেন-কৃত স্বরলিপিটি ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি প্রথম ভাগ (মাঘ ১৩১১) থেকে সুরভেদ হিসাবে স্বরবিতান-২৭'এর ৭৮-৮০ পৃষ্ঠায় স্থান লাভ করেছে। মূল স্বরলিপিটি কে করেছেন তা জানা যায় না।
সুর ও তাল:
রাগ-মিশ্র যোগিয়া। তাল-একতাল। স্বরবিতান-২৭
রাগ-যোগিয়া বিভাস। তাল-একতাল। তত্ত্ববোধিনী (ফাল্গুন ১৮০৮শকাব্দ ১২৯৩ বঙ্গাব্দ)।
কীর্তনের সুর, খর যুক্ত। (তত্ত্ববোধিনী ফাল্গুন ১৮২০ শকাব্দ ১৩০৫ বঙ্গাব্দ)।
রাগ: যোগিয়া। অঙ্গ: কীর্তন। তাল: দাদরা [রবীন্দ্রসংগীত : রাগ-সুর নির্দেশিকা। সুধীর চন্দ। (প্যাপিরাস, ডিসেম্বর, ২০০৬)] পৃষ্ঠা: ৬১
রাগ: যোগিয়া। তাল: বিভাস [রাগরাগিণীর এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত। প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত আকাদেমী, জুলাই ২০০১। পৃষ্ঠা: ১০৬]
বিষয়াঙ্গ: ব্রহ্মসঙ্গীত।
সুরাঙ্গ: কীর্তনাঙ্গ।
গ্রহস্বর: রমা।