প্রজ্ঞা
জ্ঞান আহরণ, গ্রহণ এবং এর ভিতর দিয়ে উৎকৃষ্ট ফলাফল অন্বেষণের প্রচেষ্টা।
ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা
{প্রজ্ঞা |
জ্ঞান |
অভিজ্ঞা |
মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা |
বিমূর্তন |
বিমূর্ত সত্তা |
সত্তা |
}
ইংরেজি:
content, cognitive content, mental object
ব্যাখ্যা: একটি বিষয়ের জানার ক্ষুদ্র অংশ হলো অভিজ্ঞা, বহুবিধ অভিজ্ঞার
সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় জ্ঞান। আর প্রকৃষ্টরূপে কোনো বিষয় সম্পর্কে জানাটা হলো প্রজ্ঞা।
প্রকৃষ্টরূপে জানার জন্যই প্রজ্ঞার ক্ষেত্রটি অনেক বড়। জ্ঞান যখন বিচার, বিশ্লেষণ, তুলনা, সমন্বয়, অনুশীলন ও প্রয়োগের মাধ্যমে অধিকতর পরিণত ও উৎকর্ষ লাভ করে, তখন তা প্রজ্ঞা-য় উন্নীত হয়। এই বিচারে প্রজ্ঞা হলো জ্ঞানের উৎকৃষ্টতম ও উচ্চতর রূপ।
প্রজ্ঞা কেবল অধিক তথ্য বা বিস্তৃত জ্ঞানের নাম নয়; বরং জ্ঞানের যথার্থ প্রয়োগ, বিষয়ের গভীর উপলব্ধি, কারণ-কার্য সম্পর্ক নির্ণয়, বিচক্ষণ বিচারক্ষমতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতার সমন্বিত প্রকাশ। একই বিষয়ে বহু মানুষের জ্ঞান সমান হতে পারে, কিন্তু তাদের প্রজ্ঞা সমান নাও হতে পারে।
অনুশীলনের সত্তাতাত্ত্বিক কাঠামোতে অভিজ্ঞা → জ্ঞান → প্রজ্ঞা একটি ধারাবাহিক জ্ঞান-বিকাশের স্তর নির্দেশ করে। এই ধারায় সাধারণ জ্ঞান হলো জ্ঞানের প্রাথমিক স্তর, আর প্রজ্ঞা হলো তার পরিণত ও উৎকৃষ্টতম রূপ।
অধঃক্রমবাচকতা
(experience)
: প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ বা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের দ্বারা সৃষ্ট জ্ঞান বা প্রজ্ঞার ব্যবহারিক অবস্থা।
জ্ঞানক্ষেত্র
(knowledge domain, knowledge base)
: কোনো সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রের প্রজ্ঞার দ্বারা সৃষ্টি হয় জ্ঞানক্ষেত্রে।
চিন্তা-ভাবনা
(idea, thought):
প্রজ্ঞার
বিষয়বস্তু; ব্যক্তি যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা বা ভাবনা করছে তার মূল বিষয়।
বিশ্বাস
(belief)
: প্রজ্ঞা যখন সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তার থেকে বিশ্বাস তৈরি হয়।
ভাবনা
(idea, thought)
: প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত বিষয়, যা
কোনোবিষয় সম্পর্কে নিজস্ব চিন্তা।
মনোভাব
(attitude, mental attitude)
: কোনো বিষয় সম্পর্কে গভীর অনুভব এবং বিশ্বাসের সূত্রে
যে মনোগত দিকনির্দেশনার উদ্ভব ঘটে।