বিষয়:
রবীন্দ্রসঙ্গীত।
গান সংখ্যা:
শিরোনাম:
তুমি যত
ভার দিয়েছ সে ভার করিয়া দিয়েছ সোজা।
পাঠ ও পাঠভেদ:
তুমি যত ভার দিয়েছ সে ভার করিয়া দিয়েছ সোজা।
আমি যত ভার জমিয়ে তুলেছি সকলই হয়েছে বোঝা।
এ বোঝা আমার নামাও বন্ধু, নামাও—
ভারের বেগেতে চলেছি কোথায়, এ যাত্রা তুমি থামাও ॥
আপনি যে দুখ ডেকে আনি সে-যে জ্বালায় বজ্রানলে—
অঙ্গার ক’রে রেখে যায়, সেথা কোনো ফল নাহি ফলে।
তুমি যাহা দাও সে-যে দুঃখের দান
শ্রাবণধারায় বেদনার রসে সার্থক করে প্রাণ ॥
যেখানে যা-কিছু পেয়েছি কেবলই সকলই করেছি জমা—
যে দেখে সে আজ মাগে-যে হিসাব, কেহ নাহি করে ক্ষমা
এ বোঝা আমার নামাও বন্ধু, নামাও—
ভারের
বেগেতে ঠেলিয়া চলেছি,
এ যাত্রা মোর থামাও
॥
পাঠভেদ: গানটি 'ভার'
শিরোনামে 'খেয়া'
কাব্যগ্রন্থে প্রথম
গৃহীত হয়। এটি একটি দীর্ঘ কবিতা। পাঁচ স্তবক (৮ ছত্রে গঠিত) বিশিষ্ট এ কবিতার
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তবক বাদ দিয়ে,
রবীন্দ্রনাথ সুরারোপ
করেন। এই গীতিরূপটি ১৩১৫ বঙ্গাব্দের
৭৯তম মাঘোৎসবে প্রথম গীত হয়েছিল। এ ছাড়াও পাঠভেদ
আছে।
স্বরবিতান ষড়্বিংশ খণ্ডের (চৈত্র ১৪১৩)
৭১ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত পাঠ অনুসারে নিচের এই পাঠভেদ দেখানো হলো।
এ যাত্রা মোর থামাও : ব্রহ্মসঙ্গীত-স্বরলিপি ৬
(জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৮)
এ যাত্রা মোরে থামাও : গান (১৯০৯
খ্রিষ্টাব্দ)
তথ্যানুসন্ধান
ক. রচনাকাল ও স্থান:
১৩১২ বঙ্গাব্দের
২৩শে মাঘ থেকে ২৫শে মাঘ পর্যন্ত শিলাইদহে তিনি মোট ৪টি গান ও কবিতা
রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথ আলোচ্য গানটি প্রথম পাঁচ স্তবকে কবিতাকারে
লিখেছিলেন
RBVBMS
110 (i)
পাণ্ডুলিপিতে।
পাণ্ডুলিপিতে লিখিত এই গানের শেষে তারিখও
স্থানের নাম হিসেবে উল্লেখ আছে '২৫শে মাঘ/পদ্মা'।
এই গানটির পরে
'ভার'
শিরোনামে 'খেয়া'
কাব্যগ্রন্থে প্রথম গৃহীত হয়।
প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ (বিশ্বভারতী, আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ)।
পৃষ্ঠা: ২৫৫।
[নমুনা:
২৫৫,
২৫৬ ]
প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ
(বিশ্বভারতী,
মাঘ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)।
প্রার্থনা ৯।
পৃষ্ঠা: ৪৩। [নমুনা]
অখণ্ড সংস্করণ, তৃতীয় সংস্করণ
(বিশ্বভারতী, পৌষ ১৩৮০ বঙ্গাব্দ)।
পর্যায়:
পূজা
১০০। উপবিভাগ:
প্রার্থনা-৯
।
পৃষ্ঠা: ৪৬।
[নমুনা:
প্রথমাংশ,
শেষাংশ]
গীতবিতান (আশ্বিন ১৩৩৮)
[রবীন্দ্রনাথের
৪৭ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সে রচিত গানের তালিকা]
১৩৩৮ বঙ্গাব্দে
প্রকাশিত গীতবিতানের প্রথম খণ্ডের প্রথম সংস্করণে, গীতিমাল্য থেকে
অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এরপর ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে গানটি গীতবিতানের প্রথম খণ্ডের
দ্বিতীয় সংস্করণে পূজা পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়। এরপর
গীতবিতানের অখণ্ড সংস্করণে গানটি গৃহীত হয় এবং ১৩৮০ বঙ্গাব্দে অখণ্ড
গীতবিতানের তৃতীয় ও সর্বশেষ সংস্করণে পূজা পর্যায়ের ১০০ সংখ্যক গান হিসেবে
অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
[কাঙ্গালীচরণ
সেন-কৃত স্বরলিপির তালিকা
[একতালে
নিবদ্ধ রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা]