বিষয়:
রবীন্দ্রসঙ্গীত।
গান সংখ্যা:
শিরোনাম:
জীবনে যত পূজা হল না সারা
পাঠ ও পাঠভেদ:
জীবনে যত পূজা হল না সারা
জানি হে জানি তাও হয় নি হারা ॥
যে ফুল না ফুটিতে ঝরেছে ধরণীতে
যে নদী মরুপথে হারালো ধারা
জানি হে জানি তাও হয় নি হারা ॥
জীবনে আজো যাহা রয়েছে পিছে
জানি হে জানি তাও হয় নি মিছে।
আমার অনাগত আমার অনাহত
তোমার বীণাতারে বাজিছে তারা-
জানি হে জানি তাও হয় নি হারা ॥
পাণ্ডুলিপির পাঠ:
'নিম্নলিখিত গানটি এইবার-কার প্রবাসীর প্রান্তে স্থান পাবে কি? গীতাঞ্জলিতে এ গান অত্যন্ত অশুদ্ধ আকারে বেরিয়েছে- এখনো প্রকাশ হয় নি- অর্থাৎ আশ্বিনের পূর্বে মণিলাল তাকে বাজারে দেবেনা। বিশুদ্ধ পাঠটিকে কোথাও রক্ষা করবার জন্যেই আমার এই ব্যাকুলতা।'
উল্লিখিত 'নিম্নলিখিত গান'টি হলো- জীবনে যত হলো পূজা...'এই বিচারে গীতাঞ্জলি'র প্রথম সংস্করণে (শ্রাবণ ১৩১৭) পাঠটি পাঠভেদে আনা হলো না।
ক. রচনাকাল ও স্থান:
RBVBMS 357
পাণ্ডুলিপিতে গানটির তারিখ
উল্লেখ আছে- '২৩শে শ্রাবণ/১৩১৭'। উল্লেখ্য,
১৩১৭ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসের প্রথম দিন থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ
শান্তিনিকেতনে ছিলেন। এই
সময়ে তিনি এই গানটি-সহ দুটি পূজা পর্যায়ের গান রচনা করেছিলেন। এর ভিতরে
এই গানটি রচনা করেছিলেন শ্রাবণ মাসের ২৩ তারিখে। এই সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ৪৯
বৎসর ৩ মাস।
[রবীন্দ্রনাথের
৪৯ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সের গানের তালিকা]
গীতলিপি চতুর্থ ভাগ [১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ। ১৩১৭ বঙ্গাব্দ। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল]
ধর্ম্মসঙ্গীত [ইন্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস ১৩২১ বঙ্গাব্দ। পৃষ্ঠা: ১৯-২০][নমুনা: প্রথমাংশ, শেষাংশ]
বৈতালিক (চৈত্র ১৩২৫ বঙ্গাব্দ)। দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল।
সঙ্গীত-গীতাঞ্জলি [১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ। ভীমরাও শাস্ত্রী-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল]
সঞ্চয়িতা [বিশ্বভারতী ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ। গীতাঞ্জলি। শিরোনাম: অসমাপ্ত। পৃষ্ঠা: ৪৭৪] [নমুনা]
পত্রিকা:
রেকর্ডসূত্র:
প্রকাশের কালানুক্রম:
গানটি প্রথম ১৩১৭ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত গীতাঞ্জলি'র প্রথম সংস্করণে
অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। গীতাঞ্জলির এই পাঠ অশুদ্ধ ছিল, তাই এর শুদ্ধ পাঠ প্রকাশিত হয়েছিল 'প্রবাসী' পত্রিকার 'আশ্বিন ১৩১৭ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায়।
এরপর
১৩১৭ বঙ্গাব্দের ১১ই মাঘে অনুষ্ঠিত
৮১তম মাঘোৎসবের
প্রাতঃকালীন উপাসনায় গানটি পরিবেশিত হয়েছিল। এই সূত্রে গানটি 'তত্ত্ববোধিনী'
পত্রিকার 'চৈত্র ১৩১৭ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
বৈতালিক
(চৈত্র ১৩২৫ বঙ্গাব্দ)। এরপর যে সকল গ্রন্থাদিতে গানটি
অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলো হলো-
গীতলিপি
চতুর্থ ভাগ (১৩১৭
বঙ্গাব্দ),
ধর্ম্মসঙ্গীত
(১৩২১ বঙ্গাব্দ),
কাব্যগ্রন্থ
অষ্টম খণ্ড
(১৩২৩ বঙ্গাব্দ),
দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর-কৃত স্বরলিপিটি বৈতালিক থেকে স্বরবিতান-৩৮-এ সুরভেদ হিসাবে গৃহীত হয়েছে।
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। গীতলিপি ৪র্থ ভাগ।
ভীমরাও শাস্ত্রী। সংগীত-গীতাঞ্জলি
রাগ ও তাল:
রাগ-ভৈরবী। তাল-তেওরা। স্বরবিতান-৩৮-এর প্রথম স্বরলিপি।
রাগ-ভৈরবী। তাল-রূপকড়া। স্বরবিতান-৩৮-এর দ্বিতীয় স্বরলিপি।
রাগ: ভৈরবী। তাল: তেওরা। [রাগরাগিণীর এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত, প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী, জুলাই ২০০১, পৃষ্ঠা: ৯৩।]
গ্রহস্বর-ন্।
লয়-মধ্য। উভয় স্বরলিপি অনুসারে।