বিষয়:
রবীন্দ্রসঙ্গীত।
গান সংখ্যা:
শিরোনাম:
অকারণে অকালে মোর পড়ল যখন ডাক
পাঠ ও পাঠভেদ:
অকারণে অকালে মোর পড়ল যখন ডাক
তখন আমি ছিলেম শয়ন পাতি।
বিশ্ব তখন তারার আলোয় দাঁড়ায়ে নির্বাক,
ধরায় তখন তিমিরগহন রাতি।
ঘরের লোকে কেঁদে কইল মোরে,
'আঁধারে পথ চিনবে কেমন ক'রে?'
আমি কইনু, 'চলব আমি নিজের আলো ধরে,
হাতে আমার এই-যে আছে বাতি।'
বাতি যতই উচ্চ শিখায় জ্বলে আপন তেজে
চোখে ততই লাগে আলোর বাধা,
ছায়ায় মিশে চারি দিকে মায়া ছড়ায় সে-যে—
আধেক দেখা করে আমায় আঁধা।
গর্বভরে যতই চলি বেগে
আকাশ তত ঢাকে ধুলার মেঘে,
শিখা আমার কেঁপে ওঠে অধীর হাওয়া লেগে—
পায়ে পায়ে সৃজন করে ধাঁদা॥
হঠাৎ শিরে লাগল আঘাত বনের শাখাজালে,
হঠাৎ হাতে নিবল আমার বাতি।
চেয়ে দেখি পথ হারিয়ে ফেলেছি কোন্ কালে—
চেয়ে দেখি তিমিরগহন রাতি।
কেঁদে বলি মাথা করে নিচু,
'শক্তি আমার রইল না আর কিছু!'
সেই নিমেষে হঠাৎ দেখি কখন পিছু পিছু
এসেছে মোর চিরপথের সাথি॥
পাণ্ডুলিপি: RBVBMS 112 [নমুনা: প্রথমাংশ, দ্বিতীয়াংশ ]
পাঠভেদ: স্বরবিতান চতুস্ত্রিংশ খণ্ডের (সংস্করণ বৈশাখ ১৩৭৭) ৬৯ পৃষ্ঠায় নিম্নরূপ পাঠভেদ দেখানো হয়েছে।
পায়ে পায়ে সৃজন করে ধাঁদা : পাণ্ডুলিপি
পায়ে পায়ে সৃজন করে বাধা : গীতিবীথিকা (বৈশাখ ১৩২৬)
গীতবিতান (আশ্বিন ১৩৩৮)
তথ্যানুসন্ধান
ক. রচনাকাল ও স্থান:
পলাতকা-র
পাণ্ডুলিপি
[RBVBMS 112
]-'র
সাথে
১৮টি গান পাওয়া যায়।
উক্ত পাণ্ডুলিপির ৯০ পৃষ্ঠায় এই গানটি রয়েছে। এর সাথে স্থান ও রচনাকালের উল্লেখ নেই।
প্রশান্তকুমার পাল তাঁর
রবিজীবনী সপ্তম খণ্ডে (আনন্দ
পাবলিশার্স, জুন ২০০৭,
পৃষ্ঠা ৩৭১)−
এই গানটিসহ আরও ১৫টি গানের রচনাকাল ১৩২৫ বঙ্গাব্দের ২৪ অগ্রহায়ণের পূর্বে (১৭
অগ্রহায়ণের পরে) রচিত বলে- অনুমান করেছেন।
২৪ই অগ্রহায়ণে
রবীন্দ্রনাথ
শান্তিনিকেতন থেকে রাণুকে লিখেছেলেন-
'..এ দিকে রোজ আমার একটা করে নতুন গান
বেড়েই চলেছে। ...প্রায় পনেরোটা গান শেষ হয়ে গেল। [চিঠিপত্র ১৮, বিশ্বভারতী, মাঘ
১৪২০, পৃষ্ঠা ১১৩]।
এই সময়
রবীন্দ্রনাথের
বয়স ছিল ৫৭ বৎসর ৭ মাস।
[দেখুন: ৫৭ বৎসর
অতিক্রান্ত বয়সে রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা]
স্বরলিপিকার:
দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
[দিনেন্দ্রনাথ
ঠাকুরকৃত স্বরলিপির তালিকা]
সুর ও তাল:
স্বরবিতান চতুস্ত্রিংশ
খণ্ডে (সংস্করণ বৈশাখ
১৩৭৭) গৃহীত গানটির স্বরলিপিতে রাগ-তালের উল্লেখ
নেই।
উক্ত স্বরলিপিটি ৩।৩
মাত্রা ছন্দে
'দাদরা'
তালে নিবদ্ধ।
[স্বরলিপি]
[দাদরা
তালে নিবদ্ধ রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা]
রাগ: সাহানা। তাল: দাদরা [রবীন্দ্রসংগীত: রাগ-সুর নির্দেশিকা। সুধীর চন্দ। প্যাপিরাস, ডিসেম্বর ২০০৩। পৃষ্ঠা: ২৩।]।
রাগ: সিন্ধু, বাঁরোয়া। তাল: দাদরা [রাগরাগিণীর এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত। প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত আকাদেমি, জুলাই ২০০১। পৃষ্ঠা: ৪৬।]।
গ্রহস্বর-মা।
লয়-মধ্য।