সবার মাঝারে তোমারে স্বীকার করিব হে।
সবার মাঝারে তোমারে হৃদয়ে বরিব হে ॥
শুধু আপনার মনে নয়, আপন ঘরের কোণে নয়,
শুধু আপনার রচনার মাঝে নহে- তোমার মহিমা যেথা উজ্জ্বল রহে
সেই সবা-মাঝে তোমারে স্বীকার করিব হে।
দ্যুলোকে ভূলোকে তোমারে হৃদয়ে বরিব হে ॥
সকলই তেয়াগি তোমারে স্বীকার করিব হে।
সকলই গ্রহণ করিয়া তোমারে বরিব হে।
কেবলই তোমার স্তবে নয়, শুধু সঙ্গীতরবে নয়,
শুধু নির্জনে ধ্যানের আসনে নহে- তব সংসার যেথা জাগ্রত রহে,
কর্মে সেথায় তোমারে স্বীকার করিব হে।
প্রিয়ে অপ্রিয়ে তোমারে হৃদয়ে বরিব হে ॥
জানি না বলিয়া তোমারে স্বীকার করিব হে।
জানি ব'লে, নাথ, তোমারে হৃদয়ে বরিব হে।
শুধু জীবনের সুখে নয়, শুধু প্রফুল্লমুখে নয়,
শুধু সুদিনের সহজ সুযোগে নহে- দুখশোক যেথা আঁধার করিয়া রহে
নত হয়ে সেথা তোমারে স্বীকার করিব হে।
নয়নের জলে তোমারে হৃদয়ে বরিব হে ॥
পাণ্ডুলিপির পাঠ: [RBVBMS 426 (ii)] [নমুনা প্রথমাংশ, শেষাংশ]
পাঠভেদ:
তথ্যানুসন্ধান
RBVBMS 426 (ii)
পাণ্ডুলিপিতে লিখিত গানটির নিচে
রচনার স্থান ও তারিখ উল্লেখ আছে-
'২৬শে
জ্যৈষ্ঠ/১৩১১। এই সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ৪৩ বৎসর ২ মাস।
উল্লেখ্য, গ্রীষ্মের ছুটির পর ১৫ জ্যৈষ্ঠ (শনিবার ২৮ মে) তারিখে পুনরায়
বিদ্যালয় খুলবে। এই উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে আসেন। ২০ জ্যৈষ্ঠ থকে ২৬
জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ মোট ছয়টি গান রচনা করেন। আলোচ্য গানটি রচিত
হয়েছিল ২৬শে
জ্যৈষ্ঠ।
[৪৩ বৎসর
অতিক্রান্ত বয়সে রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা]
খ. প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
গ্রন্থ:
পত্রিকা:
রেকর্ডসূত্র: নাই
প্রকাশের কালানুক্রম: গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৩১০ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অষ্টম খণ্ডে। এই গ্রন্থ থেকে বঙ্গদর্শন পত্রিকার 'আষাঢ় ১৩১১ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর এই বছরের ১১ মাঘ [২৪ জানুয়ারি ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দ]-এর ৭৯তম মাঘোৎসবের সন্ধ্যার অধিবেশনে গানটি গীত হয়েছিল। এই সূত্রে গানটি তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার 'ফাল্গুন ১৩১১ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। ১৩১৫ বঙ্গাব্দে গ্রন্থভুক্ত গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল গান নামক গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ । এরপর গানটি তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার ফাল্গুন '১৩১৫ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর গানটি যে সকল গ্রন্থাদিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলো হলো- গান দ্বিতীয় সংস্করণ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), চয়নিকা (১৩১৬ বঙ্গাব্দ, ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি ষষ্ঠ ভাগ (জ্যৈষ্ঠ ১৩১৮ বঙ্গাব্দ), ধর্ম্মসঙ্গীত (১৩২১ বঙ্গাব্দ) ও গীতিচর্চ্চা (পৌষ ১৩৩২)।
এরপর
গানটি ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত
গীতবিতানের
দ্বিতীয় খণ্ড প্রথম সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এরপর ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে
প্রকাশিত
প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণে
পূজা
পর্যায়ের
বিশ্ব উপবিভাগের ৩৪
সংখ্যক গান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এরপর ১৩৭১ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে
প্রকাশিত অখণ্ড গীতবিতানের
পূজা
পর্যায়ের ৩৬৭
সংখ্যক গান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
গ. সঙ্গীতবিষয়ক তথ্যাবলি:
স্বরলিপি: [স্বরলিপি]
স্বরলিপিকার: কাঙ্গালীচরণ সেন।
সুর ও তাল:
স্বরবিতান সপ্তবিংশ (২৭) খণ্ডে (চৈত্র ১৪১৩ বঙ্গাব্দ) গৃহীত গানটির স্বরলিপিতে রাগ-তালের নাম হিসেবে উল্লেখ রয়েছে যথাক্রমে মিশ্র ইমন ও একতাল।
রাগ-ভূপনারায়ণ। তাল-একতাল। [কাব্যগ্রন্থ ৮ম খণ্ড ]
রাগ : ইমন কল্যাণ। তাল : একতাল। [রবীন্দ্রসংগীত: রাগ-সুর নির্দেশিকা, সুধীর চন্দ, প্যাপিরাস, ডিসেম্বর ২০০৬], পৃষ্ঠা: ৮১।
রাগ: ইমন। তাল: একতাল। [রাগরাগিণীর এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত, প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত আকাদেমি, জুলাই ২০০১], পৃষ্ঠা: ১৪০।
বিষয়াঙ্গ: ব্রহ্মসঙ্গীত।
সুরাঙ্গ:
গ্রহস্বর: সা।
লয়: মধ্য।