Jewish Journal , June 20, 2018

অল্টালেনা ঘটনা
ইহুদীবাদী সশস্ত্র বাহিনীর সংঘাত
Altalena Affair

প্রেক্ষাপট

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই মে ইসরায়েল স্বাধীনতা ঘোষণার পরের দিন, অর্থাৎ ১৫ই মে, আরব জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত একাধিক রাষ্ট্রের সম্মিলিত বাহিনী একযোগে ইসরায়েল আক্রমণ করে। এই বাহিনীতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ছিল- মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন এবং ইরাক। এই বাহিনীর ইসরায়েল  আক্রমণের মধ্য দিয়ে আরব -ইসরায়েল যুদ্ধ হয়।  এই যুদ্ধে কয়েকটি পর্যায়ে সংঘঠিত হয়েছিল।

ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পর ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন হাগানাহ, ইর্গুন এবং লেহি'র মতো সশস্ত্র ইহুদীবাদী গোষ্ঠীগুলোকে বিলুপ্ত করে একটিমাত্র জাতীয় সেনাবাহিনী গঠন করার সিদ্ধান্ত নেন। এদের ভিতরে ইর্গুন এই চুক্তিতে রাজি হলেও তারা কিছু নিজস্ব অস্ত্র ও কমান্ড নিজ অধিকারে রাখতে চেয়েছিল। এই উদ্দেশ্যে ইর্গুন বাহিনী ইউরোপ থেকে 'অল্টালেনা' নামক একটি জাহাজে করে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র (প্রায় ৫,০০০ রাইফেল, ২৫০টি স্টেন গান এবং লাখ লাখ রাউন্ড গুলি) এবং প্রায় ৯০০ জন স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধা নিয়ে ইসরায়েলের উপকূলে পৌঁছায়। এই সূত্রে  তখন সরকার ও ইর্গুন নেতা মেনাখেম বেগিন -এর   মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।  মেনাখেম বেগিন এই অস্ত্রের একটি বড় অংশ (২০%)  ইর্গুন ইউনিটের জন্য রাখতে চেয়েছিলেন । তারা এসব অস্ত্র জেরুজালেম যুদ্ধে ব্যবহার করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেইসরায়েল  প্রধানমন্ত্রী বেন-গুরিয়ন এটি মেনে নিতে অস্বীকার করেন। তার যুক্তি ছিল, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে কোনো দলের নিজস্ব অস্ত্রাগার থাকতে পারে না। তিনি একে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং "বিদ্রোহের চেষ্টা" হিসেবে দেখেন।

২২ জুন, অল্টালেনা' জাহাজটি যখন তেল আবিব উপকূলে ভেড়ার চেষ্টা করে, তখন বেন-গুরিয়ন  ইসরায়েল সেনাবিহিনীকে জাহাজটি লক্ষ্য করে কামান দাগার নির্দেশ দেন। কামানের গোলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজে থাকা ইর্গুন সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এই ঘটনায় ১৬ জন ইর্গুন সদস্য এবং ৩ জন ইসরায়েল সেনা নিহত হন। জাহাজটি যখন জ্বলছিল, তখন ইর্গুন নেতা মেনাখেম বেগিন তার অনুসারীদের পাল্টা গুলি চালাতে নিষেধ করেন। তিনি রেডিওতে ঘোষণা দেন, "ইহুদিদের মধ্যে কোনো গৃহযুদ্ধ হবে না।" তার এই সিদ্ধান্তের কারণেই ইসরায়েল এক ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ রক্তপাত থেকে রক্ষা পায়।

এই ঘটনার পর ইর্গুন পুরোপুরি ভেঙে যায় এবং সবাই ইসারয়েল সেনাবহিনীতে যোগ দেয়। এর ফলে বেন-গুরিয়নের "এক রাষ্ট্র, এক সেনাবাহিনী" নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ঘটনাটি ইসরায়েলি রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে রেখেছিল। বেন-গুরিয়ন এবং মেনাখেম বেগিন-এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা তৈরি হয়। ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে মেনাখেম বেগিন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।