ত্রিশঙ্কু
ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা
{
|
রাজা
|
হিন্দু পৌরাণিক সত্তা
|
ভারতীয় পৌরাণিক সত্তা |
পৌরাণিক সত্তা |
কাল্পনিক সত্তা |
কল্পনা |
সৃজনশীলতা |
কর্মক্ষমতা
|
জ্ঞান |
মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা |
বিমূর্তন |
বিমূর্ত-সত্তা
|
সত্তা
|}
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিতে উল্লেখযোগ্য দুটি চরিত্র পাওয়া যায়।
. সুর্যবংশীয় জনৈক রাজা। এই রাজা তাঁর কুলগুরু বশিষ্ঠের কাছে যজ্ঞের প্রভাবে সশরীরে দেবলোকে যাবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। কিন্তু বিষয়টি অসাধ্য বলে বশিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ত্রিশঙ্কু বশিষ্ঠের তপস্যারত শত পুত্রের কাছে একই ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। এঁরাও এই ইচ্ছা পূরণে কোন সাহায্য করবেন না বলে জানান। ত্রিশঙ্কু এতে অসন্তুষ্ট হয়ে- তিনি অন্য গুরুর সন্ধান করবেন জানালে, ঋষিপুত্ররা ত্রিশঙ্কুকে চণ্ডাল হবার অভিশাপ দেন। ফলে ত্রিশঙ্কু চণ্ডালে পরিণত হয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। এরপর তিনি বিশ্বামিত্রকে তাঁর প্রার্থনা জানালে- বিশ্বামিত্র তাঁকে স্বয়ং যাজক হয়ে যজ্ঞের আয়োজন করেন। বশিষ্টপুত্ররা এবং মহোদয় নামে এক ঋষি ছাড়া সকল ঋষিই এই যজ্ঞে এসে উপস্থিত হন। কিন্তু বহুদিন ধরে এই যজ্ঞ করার পরও কোন দেবতা যজ্ঞভাগ গ্রহণ করতে উপস্থিত হলেন না। ফলে বিশ্বমিত্র ক্রুদ্ধ হয়ে আপন তপস্যার প্রভাবে ত্রিশঙ্কুকে সশরীরে স্বর্গে নিয়ে গেলেন। তখন ইন্দ্রসহ অন্যান্য দেবতারা তাঁকে স্বর্গে স্থান দিতে অস্বীকৃত জানিয়ে বলেন যে- যেহেতু ত্রিশঙ্কু গুরুশাপে অভিশপ্ত, সে কারণে তাঁকে অধোমুখে পৃথিবীতে ফিরে যেতে হবে। এইভাবে পৃথিবীতে পতিত হওয়ার সময়- বিশ্বামিত্র তাকে থামিয়ে উর্ধ্বলোকে স্থান করে দেন এবং দক্ষিণ আকাশে অন্য এক সপ্তর্ষিমণ্ডল ও নক্ষত্রলোক সৃষ্টি করেন। তাঁর সৃষ্ট জগতে তিনি নতুন দেবতা ও নতুন ইন্দ্রের সৃষ্টি করার উদ্যোগ নিলে দেবতারা ভীত হয়ে ত্রিশঙ্কুকে স্বীকার করে নেন এবং বলেন যে বিশ্বামিত্র কর্তৃক সৃষ্ট আকাশে নক্ষত্রমণ্ডল থাকবে এবং তার মধ্যে নিম্নশির ত্রিশঙ্কুও দেবতুল্য হয়ে অবস্থান করবেন। ২. হরিবংশের মতে- মহারাজ এষ্যরুণ্যের সত্যব্রত নামে এক পুত্র ছিল। সত্যব্রত অন্যের বিবাহিতা স্ত্রীকে অপহরণ করে ভোগ করেন। এজন্য তাঁর পিতা তাঁকে বার বত্সরের জন্য বাড়ি থেকে বহিষ্কৃত করেন। এই সময় সত্যব্রত তাঁর পিতাকে জিজ্ঞাসা করেন যে- সে কোথায় বাস করবে? উত্তরে পিতা তাঁকে চণ্ডালদের সাথে বাস করতে বলেন। ঋষি বশিষ্ট এষ্যরুণের কুলপুরোহিত হয়েও পিতার এই আদেশের বিরুদ্ধে সত্যব্রতকে কিছু বলেন নি। এই সময় সত্যব্রত যেখানে বাস করছিলেন, ইন্দ্র সেখানে বার বত্সর পর্যন্ত বৃষ্টি বন্ধ করে সে দেশে মহাদুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করেন। এই দেশে বিশ্বমিত্র নিজের স্ত্রীকে রেখে অন্যত্র কঠোর তপস্যায় করছিলেন। সত্যব্রত অন্নাভাবে দুর্দশাগ্রস্ত বিশ্বামিত্রের পরিবারবর্গকে অন্ন-সাহায্য করে প্রাণরক্ষা করেন। বার বত্সর নির্বাসনের সময় পূর্ণ হলে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত অবস্থায় সত্যব্রত বাধ্য হয়ে বশিষ্ঠের কামধেনুকে হত্যা করে আহার করেন। কিছু মাংস বিশ্বামিত্রের পুত্রগণকে দেন। এতে বশিষ্ট ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে ত্রিশঙ্কু নামে অভিহিত করেন। কারণ, সে এক্ষেত্রে তিনটি পাপ করেছিল। প্রথম পাপ, পিতার অসন্তোষ উত্পাদন, দ্বিতীয় গুরুর গাভী হত্যা ও তৃতীয় গোমাংস ভক্ষণ। দুর্ভিক্ষের সময় তাঁর পরিবারকে খাদ্য পরিবেশন করে সাহায্য করেছিলেন বলে বিশ্বামিত্র সত্যব্রতকে বর প্রদানে ইচ্ছুক হন। তখন সত্যব্রত সশরীরে স্বর্গবাসের জন্য প্রার্থনা করেন। বিশ্বামিত্র এই বর দানে সম্মত হন। পরে বিশ্বামিত্র এঁকে পিতৃরাজ্যে অভিষিক্ত করেন। এরপর বিশ্বামিত্র যজ্ঞ করলে দেবতারাও বশিষ্ঠকে অনাদর করে ত্রিশঙ্কুর স্বর্গারোহণ অনুমোদন করেন। উল্লেখ্য ত্রিশঙ্কুর স্ত্রীর গর্ভেই হরিশ্চন্দ্রের জন্ম হয়।১