রাগ নর্ত
প্রাচীন ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতিতে গ্রামরাগ বিশেষ।

খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর সঙ্গীতজ্ঞ দুর্গাশক্তির মতে এই রাগের উৎপত্তি হয়েছিল মধ্যম গ্রামে পঞ্চমী  ও ষড়্‌জ গ্রামে ধৈবতী জাতি থেকে এই রাগের উদ্ভব হয়েছিল। কিন্তু এতে চতুশ্রুতিক পঞ্চম এবং ত্রিশ্রুতিক ধৈবত ব্যবহৃত হতো। এই কারণে- এই রাগটিকে ষড়্‌জগ্রাম থেকে উৎপন্ন গ্রমারাগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

পরবর্তী পঞ্চম-ষষ্ঠ শতাব্দীতে কাশ্যপের সময় রাগটি হয়ে উঠেছিল
মধ্যমগ্রামের পঞ্চমী এবং মধ্যমা জাতির স্বরবিন্যাস অনুসারে। ফলে রাগটি মধ্যমগ্রামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পঞ্চম-ষষ্ঠ শতাব্দীতে মতঙ্গের রচিত বৃহদ্দেশী গ্রন্থে [পৃষ্ঠা: ১৭] এই বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে। এই গ্রন্থ মতে-  নিষাদ ও গান্ধারের প্রয়োগ অল্প এবং কাকলি নিষাদ ব্যবহৃত হয়। 

বৃহদ্দেশী গ্রন্থে [পৃষ্ঠা ১৭]  বর্ণিত এই গ্রামরাগের পরিচিতি অনুসরণে নিচে রাগ পরিচিতিটি তুলে ধরা হলো-

টক্ককৈশিক রাগের পরিচিত

গ্রাম: মধ্যমগ্রাম
রাগ প্রকৃতি:  গ্রামরাগ
রাগ-উৎস:  মধ্যমগ্রামের পঞ্চমী এবং মধ্যমা জাতি থেক
গীত-প্রকৃতি: সাধারণী:
জাতি: সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ [এই রাগে  কাকলী নিষাদ ব্যবহৃত হয়। বৃহদ্দেশীতে [পৃষ্ঠা: ১৭১]  
অংশস্বর: পঞ্চম
গ্রহস্বর: পঞ্চম
ন্যাস স্বর: মধ্যম
মার্গ: চিত্র, বার্তিক ও দক্ষিণ
রস: বৃহদ্দেশী মতে এই রাগ- উদ্ভটনাট্যের চারী এবং মণ্ডলাদিতে ব্যবহৃত হতো। শৃঙ্গারসে রাগটি ব্যবহার হয়।

সঙ্গীতরত্নাকরের কশ্যাপের রচিত চচৎপুট তালে নিবদ্ধ স্বরপদগীতি পাওয়া যায়। এই রূপটি হলো-

এই গ্রামরাগের অধীনস্ত তিনটি ভাষারাগ হলো-মালবা, ভিন্নললিতা ও দ্রাবিড়ী।
তথ্যসূত্র: