প্রাচীন ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতিতে
গ্রামরাগ বিশেষ।
খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর সঙ্গীতজ্ঞ দুর্গাশক্তির মতে এই রাগের
উৎপত্তি হয়েছিল মধ্যম গ্রামে পঞ্চমী ও ষড়্জ গ্রামে ধৈবতী জাতি থেকে এই রাগের
উদ্ভব হয়েছিল। কিন্তু এতে চতুশ্রুতিক পঞ্চম এবং ত্রিশ্রুতিক ধৈবত ব্যবহৃত হতো। এই
কারণে- এই রাগটিকে ষড়্জগ্রাম থেকে উৎপন্ন গ্রমারাগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
পরবর্তী পঞ্চম-ষষ্ঠ শতাব্দীতে কাশ্যপের সময় রাগটি হয়ে উঠেছিল
মধ্যমগ্রামের
পঞ্চমী
এবং
মধ্যমা
জাতির স্বরবিন্যাস অনুসারে। ফলে রাগটি মধ্যমগ্রামের অন্তর্ভুক্ত
করা হয়েছিল। পঞ্চম-ষষ্ঠ শতাব্দীতে মতঙ্গের রচিত বৃহদ্দেশী গ্রন্থে
[পৃষ্ঠা: ১৭৫] এই বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে। এই গ্রন্থ মতে-
নিষাদ ও গান্ধারের প্রয়োগ অল্প এবং কাকলি নিষাদ ব্যবহৃত হয়।
বৃহদ্দেশী গ্রন্থে [পৃষ্ঠা ১৭৫] বর্ণিত এই
গ্রামরাগের পরিচিতি অনুসরণে নিচে রাগ পরিচিতিটি তুলে ধরা হলো-
টক্ককৈশিক রাগের পরিচিত
গ্রাম:
মধ্যমগ্রাম
রাগ প্রকৃতি:
গ্রামরাগ
রাগ-উৎস:
মধ্যমগ্রামের
পঞ্চমী
এবং
মধ্যমা
জাতি থেক
গীত-প্রকৃতি:
সাধারণী:
জাতি:
সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ [এই রাগে কাকলী নিষাদ
ব্যবহৃত হয়। বৃহদ্দেশীতে [পৃষ্ঠা: ১৭১]
অংশস্বর:
পঞ্চম
গ্রহস্বর:
পঞ্চম
ন্যাস স্বর:
মধ্যম
মার্গ: চিত্র, বার্তিক ও দক্ষিণ
রস:
বৃহদ্দেশী মতে এই রাগ- উদ্ভটনাট্যের চারী এবং মণ্ডলাদিতে
ব্যবহৃত হতো। শৃঙ্গারসে রাগটি ব্যবহার হয়।
সঙ্গীতরত্নাকরের কশ্যাপের রচিত চচৎপুট তালে নিবদ্ধ স্বরপদগীতি
পাওয়া যায়। এই রূপটি হলো-

এই গ্রামরাগের অধীনস্ত তিনটি ভাষারাগ হলো-মালবা, ভিন্নললিতা ও দ্রাবিড়ী।
তথ্যসূত্র:
- বৃহদ্দেশী। মতঙ্গ। সম্পাদনা রাজ্যেশ্বর মিত্র।
সংস্কৃত পুস্তক ভাণ্ডার। ১৯৯২। অধ্যায়: রাগ। পৃষ্ঠা
১৬৮
- সঙ্গীতরত্নাকর। শার্ঙ্গদেব। সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় অনূদিত।
রবীন্দরভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। কলিকাতা। ১৪০৮।