নাড়ু
বানান বিশ্লেষণ:
ন্+আ+ড়্+উ
উচ্চারণ:
na.ɽu
(না.ড়ু)
শব্দ-উৎস:
সংস্কৃত
लाड्डु
(লাড্ডু)>বাংলা
লাড়ু>নাড়ু
রূপতাত্ত্বিক
বিশ্লেষণ:
পদ:
বিশেষ্য
ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা {| মিষ্টি | খাদ্যপ্রকরণ | পুষ্টিকরদ্রব্য | খাদ্য-পুষ্টি | বস্তু | দৈহিক সত্তা | সত্তা |}
অর্থ: চালের গুঁড়া,
নারকেলের কুচি, তিল, চিনি বা গুড় ইত্যাদি দিয়ে তৈরিকৃত মিষ্টি স্বাদের মুখোরোচক। এর
আকার বড় মার্বেল পাথরের গুলির মতো। হাতের তালুর ভিতরে নাড়ুর উপাদান নিয়ে, হাতের
ঘুর্ণনের দ্বারা নাড়ু তৈরি করা হয়।
যদিও নাড়ুকে মিষ্টির তালিকায় ফেলা হয়, কিন্তু এর আভিজাত্য অন্যত্র। একা সময় রসগোল্লা, চমচম-এর মতো নাড়ু দোকানে পাওয়া যেতো না। বাড়ির মেয়েরা ঘরের নারকেল, তিল ইত্যাদির সাথে গুড় বা চিনি মিশিয়ে নাড়ু তৈরি করতেন। এর সাথে থাকতো পরিবারের সামনে বা অতিথির সামনে নাড়ু তুলে দেওয়ার ভিতরে ছিল আন্তরিকতা, স্নেহ, ভালোবাসা। সেই কারণে নাড়ু বলতেই বুঝাতো ঘরের খাবার। বিশেষ উৎসবকে সামনে রেখে মেয়েরা তৈরি করতো আনন্দনাড়ু।
নাড়ুর উপাদানের বিচারে নানা নামে অভিহিত করা হয়। যেমন-
নারকেলের নাড়ু: নানাজাতের নাড়ুর মধ্যে নারকেলের নাড়ুকে সাধারণ নাড়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আলাদা করে খাওয়া ছাড়াও এই নাড়ু মুড়ি, খইয়ের সাথে খাওয়ার প্রথা ছিল।
তিলের নাড়ু: নারকেলের নাড়ুর সাথে তিল মিশিয়ে এই নাড়ু তৈরি করা হয়।
চালের নাড়ু: চালের গুঁড়া, নারকেল এবং তিলের সমন্বয়ে সৃষ্ট নাড়ু।
গাজরের নাড়ু: এর মূল উপাদান গাজর। এই নাড়ুর রং রক্ত লাল। নাশতার উপকরণ হিসেবে এই নাড়ু তৈরি করা হয়।
সুজির নাড়ু: সুজি, ক্ষীরসা, ঘি তৈরি নাড়ু।
সূত্র :