তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী,
আমি অবাক্ হয়ে শুনি কেবল শুনি॥
সুরের আলো ভুবন ফেলে ছেয়ে,
সুরের হাওয়া চলে গগন বেয়ে,
পাষাণ টুটে ব্যাকুল বেগে ধেয়ে
বহিয়া যায় সুরের সুরধুনী॥
মনে করি অমনি সুরে গাই,
কণ্ঠে আমার সুর খুঁজে না পাই।
কইতে কী চাই, কইতে কথা বাধে -
হার মেনে যে পরান আমার কাঁদে,
আমায় তুমি ফেলেছ কোন্ ফাঁদে
চৌদিকে মোর সুরের জাল বুনি॥
ক. রচনাকাল ও স্থান:
পাণ্ডুলিপি
RBVBM S 478
-এ র দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় লিখিত
গানটির সঙ্গে
রচনার তারিখ উল্লেখ
আছে '১০ ভাদ্র, রাত্রি'।
গীতাঞ্জলি
-তে তারিখ ও স্থান উল্লেখ আছে ' রাত্রি
১০ ভাদ্র
১৩১৬'।
[সূত্র:
গীতাঞ্জলি
রবীন্দ্ররচনাবলী
একাদশ খণ্ড (বিশ্বভারতী
আশ্বিন ১৩৯৩ বঙ্গাব্দ),
পৃষ্ঠা ২১ ।]
উল্লেখ্য,
রবীন্দ্রনাথ
১৩১৬ বঙ্গাব্দের ৮ ভাদ্রে কলকাতা থেকে
শান্তিনিকেতনে আসেন এবং ১৯শে ভাদ্র পর্যন্ত এখানেই কাটান। ১০ই ভাদ্রে তিনি এই
গান-সহ দুটি গান রচনা করেন। উল্লেখ্য, অপর গানটি ছিল
' জানি
জানি কোন অনাদিকাল হতে [তথ্য]।
এই সময় রবীন্দ্রনাথের
বয়স ছিল ৪৮ বৎসর ৪ মাস।
[দেখুন:
৪৮
বৎসর অতিক্রান্ত বয়সে রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা
]
বিশেষ
দ্রষ্টব্য:
এই
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে একটি বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পাওয়া যায় অধ্যাপক
সুখরঞ্জন রায়ের স্মৃতিকথায়। উল্লেখ্য, ১২ আশ্বিন ১৩১৬ [২৮ সেপ্টেম্বর]
তারিখে ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত সঙ্গীতশিল্পী এনায়েৎ খানের
বক্তৃতা সভায়- রবীন্দ্রনাথ সভাপতিত্ব করেন। প্রখ্যাত সমালোচক অধ্যাপক
সুখরঞ্জন রায় এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এই স্মৃতিকথা
প্রশান্তকুমার পা
লের
রবিজীবনী ষষ্ঠ খ
ণ্ডে
[আনন্দ পাবলিশার্স ফাল্গুন ১৪১৪।
পৃষ্ঠা ১০৪]
পাওয়া যায়। নিচে উল্লিখিত গ্রন্থ থেকে স্মৃতিকথার প্রাসঙ্গিক অংশ যুক্ত করা
হলেও।
সভাপতির বক্তৃতার পর বেদীর উপর যাঁরা ছিলেন তাঁরা
সকলে কবিকে ধরে বসলেন গান গাইবার জন্য। কবি আপত্তি জানালেন। সকলে জিদ করতে
লাগলেন। কবির আপত্তি প্রবল থেকে প্রবলতর হতে লাগলো
তিনি
বললেন
, ―
শরীর
ক্লান্ত
পূর্বের
স্বরও আর নেই
তাছাড়া
এই ওস্তাদের কাছে মুখ খুলতে আমি কিছুতেই রাজী নই। যাঁরা জিদ করছিলেন তাঁদের
মধ্যে গুরুদাস বন্দোপাধ্যায়ই ছিলেন প্রধান।...শেষে গুরুদাস বলে
ফেললেন
―
(বেদীর খু্ব নিকটেই বসেছিলুম ব'লে
স্পষ্ট শুনলুম) ―
'আপনার
ভালো গাইতে পারেন ব'লে
অহংকার আছে,
সেই
অহংকারে পাছে কোনদিক দিয়ে ঘা লাগে তাই গাইতে চাচ্ছেন না'। তখন রবীন্দ্রনাথ
আর না গেয়ে পারলেন না। প্রথম হারমোনিয়াম নিয়ে চেষ্টা করে পরে শুধু
গলাতেই গাইলেন সেই বিখ্যাত গান
―
'কেমন ক'রে
গান করো যে গুণী,আমি
অবাক হয়ে শুনি।'
.....সেটি ছিল তখনো অ-পূর্ব প্রকাশিত। কাজেই স্থান কাল পাত্র বিবেচনায়
গানের অর্থ মিলিয়ে সকলে ধরে নিলেন গুণী এনায়েত খাঁকে উদ্দেশ করেই সেই গান
তখনি মুখে মুখে রচিত হয়েছিল। সমস্ত হল-ভর্তি শ্রোতৃমণ্ডলীর ওপর আশ্চর্য
মায়াজাল বিস্তার করেছিল কবির কণ্ঠ এমন অপরূপ সময়োচিত ভাবে বিকশিত হয়ে।"
এই তথ্যটি যে যথার্থ নয়, তা
বুঝা যায়, গানটি রচনার তারিখ দেখে। পাণ্ডুলিপি অনুসারে গানটির রচনাকাল
১০ ভাদ্র। আর এর প্রায় একমাস পরে, রবীন্দ্রনাথ উল্লিখিত আসরে গানটি গেয়েছিলেন।
I k now not how thou singest, my master! I ever listen in silent amazement.
The light of thy music illumines the world. The life breath of thy music runs from sky to sky. The holy stream of thy music breaks through all stony obstacles and rushes on.
My heart longs to join in thy song, but vainly struggles for a voice. I would speak, but speech breaks not into song, and I cry out baffled. Ah, thou hast made my heart captive in the endless meshes of thy music, my master! সূত্র:নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতাঞ্জলি − রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সম্পাদনা : আবদার রশীদ। বাংলা একাডেমী ঢাকা। (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩ সংস্করণ) পৃষ্ঠা ৬১।
- Gitanjali , Rabindranath Tagore, Visva-Bharati and UBSPD, Thirteenth Reprint 2008, Page 7.