গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে,গানটি গীতবিতানের অখণ্ড সংস্করণ, তৃতীয় সংস্করণ ( বিশ্বভারতী, পৌষ ১৩৮০ বঙ্গাব্দ)-এ 'পূজা ও প্রার্থনা' পর্যায়ের প্রথম গান হিসেবে পাওয়া যায়।
তারকামণ্ডল চমকে মোতি রে ॥
ধূপ মলয়ানিল, পবন চামর করে,
সকল বনরাজি ফুলন্ত জ্যোতি রে॥
কেমন আরতি, হে ভবখণ্ডন, তব আরতি–
অনাহত শব্দ বাজন্ত ভেরী রে॥
"তবে আমাদের মত গ্রাহ্য হলে সেখানে বয়স ও সালটি সংশোধনের প্রয়োজন হবে, লিখতে হবে- 'বয়স ১১। ১২৭৯। ১৮৭৩।' প্রকৃতপক্ষে গানটি রবীন্দ্রনাথ অনুবাদ করেছিলেন ১১ বৎসর বয়সে। কিন্তু প্রকাশকাল এবং পঞ্চচত্বারিংশ সংবাৎসরিক মাঘোৎসবের সূত্রে আমরা এই গানটিকে ১২৮১ বঙ্গাব্দের উল্লেখ পাই। আবার স্বরবিতান ৬৪'র রচনাকাল/প্রকাশকাল পত্রে দেখতে পাই রচনাকাল- ১১ মাঘ ১২৮১। গানটির সুর সংযোজনের সময়কে ১২৮১ বঙ্গাব্দ ধরা হলে, বলা যায় গানটির সুরারোপের সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ১৩ বৎসর।এই গানটি কোনো গ্রন্থভুক্তির আগে, প্রথম পরিবেশিত হয়েছিল ব্রাহ্মসমাজের পঞ্চচত্বারিংশ সাংবাৎসরিক মাঘোৎসবের (১১ মাঘ ১২৮১ বঙ্গাব্দ) সায়ংকালীন উপাসনায়। পরে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার ফাল্গুন ১২৮১ সংখ্যার ২০৯ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছিল। [নমুনা]
ব্রহ্মসঙ্গীত [(দ্বাদশ সংস্করণ)। কলিকাতা; ব্রাহ্মসমাজ, মাঘ ১৩৫৬। পৃ. ৫৮৮]-এ
মুদ্রিত পাঠ—
গগনময়্ থাল, রবি চন্দ্র দীপক বনে,
তারকা-মণ্ডল জনক মোতি ।
ধূপ মলয়ানিলো, পৱন চৱঁরো করে,
সকল বনরাই ফুলন্ত জ্যোতি
॥
ক্যায়্সী আরতি হোৱে ভৱখণ্ডনা তেরী আরতি,
অনাহত শব্দ বাজন্ত
ভেরী
॥
"আদি ব্রাহ্মসমাজ হইতে প্রকাশিত 'ব্রহ্মসঙ্গীত-স্বরলিপি (দ্বিতীয় ভাগ) পুস্তকে ইহা জ্যোতিরিন্দ্রনাথের নামে বাহির হইয়াছে। রবীন্দ্রনাথ মনে করেন এটি তাঁহার রচনা।'ইন্দিরাদেবী চৌধুরানী'র রবীন্দ্রসংগীতের ত্রিবেণীসংগম নামক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় 'বিশ্বভারতী পত্রিকা'র ৮ম বর্ষ ৩য় সংখ্যায় [মাঘ-চৈত্র ১৩৫৬]। এই প্রবন্ধে ইন্দিরা দেবী লিখেছেন-
'এই শিখ-ভজনেরই আর-একটি বহুকাল আগে আমাদের কাছে এসেছিল, কী সূত্রে তা জনি নে; এবং আশ্চর্যের বিষয়, সেটিও জ্যোতিরিন্দ্রনাথ একেবারে অক্ষরে-অক্ষরে অনুবাদ করেছেন।.... কেউ কেউ ভুল করে ভাবেন এটি রবীন্দ্রনাথের।' ইন্দিরাদেবীর এই প্রবন্ধটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৩৬১ বঙ্গাব্দে। এই সময় এই মন্তব্য বর্জিত হয় এবং পাদটীকায় লিখিত হয়- ' কে রচয়িতা, এ বিষয়ে বিতর্ক আছে'। উল্লেখ্য, এই গানটিসহ গীতবিতান তৃতীয় খণ্ড যখন প্রকাশিত হয় এবং তখন এই গ্রন্থের অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন ইন্দিরাদেবী।আদি ব্রাহ্মসমাজের পঞ্চচত্বারিংশ (৪৫) সাংবৎসরিক মাঘোৎসব (মঙ্গলবার, ১১মাঘ ১২৮১ বঙ্গাব্দ, ২৫ জানুয়ারি ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দ) অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবের সন্ধ্যাবেলার উপাসনায় এই গানটি প্রথম অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়েছিল। এরপর তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার ফাল্গুন ১২৮১ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় গানটি প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি দ্বিতীয় ভাগ-এ গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল ১৩১২ বঙ্গাব্দের ১১ মাঘ। এই সময় গানটির সাথে রাগ তালের উল্লেখ ছিল- 'জয়জয়ন্তী-ঝাঁপতাল'। উল্লেখ্য, এই সময় গানটির রচয়িতা হিসেবে উল্লেখ ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর । এরপর ১৩৮০ বঙ্গাব্দ প্রকাশিত প্রথম অখণ্ড গীতবিতানের তৃতীয় সংস্করণে গানটি 'পূজা ও প্রার্থনা' পর্যায়ের প্রথম গান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।