বিষয়: রবীন্দ্রসঙ্গীত।
গান সংখ্যা :
শিরোনাম:
কোথায়
আলো,
কোথায় ওরে আলো
পাঠ ও পাঠভেদ:
গীতবিতান (বিশ্বভারতী, কার্তিক ১৪১২)-এর পাঠ: পূজা : ১২৯
কোথায় আলো, কোথায় ওরে আলো !
বিরহানলে জ্বালো রে তারে জ্বালো ॥
রয়েছে দীপ, না আছে শিখা, এই কি ভালে ছিল রে লিখা—
ইহার চেয়ে মরণ সে যে ভালো
বিরহানলে প্রদীপখানি জ্বালো ॥
বেদনাদূতী গাহিছে, ওরে প্রাণ,
তোমার লাগি জাগেন ভগবান।
নিশীথে ঘন অন্ধকারে ডাকেন তোরে প্রেমাভিসারে,
দুঃখ দিয়ে রাখেন তোর মান।
তোমার লাগি জাগেন ভগবান।'
গগনতল গিয়েছে মেঘে ভরি,
বাদলজল পড়িছে ঝরি ঝরি।
এ ঘোর রাতে কিসের লাগি পরান মম সহসা জাগি
এমন কেন করিছে মরি মরি।
বাদল-জল পড়িছে ঝরি ঝরি ॥
বিজুলি শুধু ক্ষণিক আভা হানে,
নিবিড়তর তিমির চোখে আনে।
জানি না কোথা অনেক দূরে বাজিল গান গভীর সুরে,
সকল প্রাণ টানিছে পথ পানে
নিবিড়তর তিমির চোখে আনে।
কোথায় আলো, কোথায় ওরে আলো !
বিরহানলে জ্বালো রে তারে জ্বালো।
ডাকিছে মেঘ, হাঁকিছে হাওয়া, সময় হবে না যাওয়া—
নিবিড় নিশা নিকষঘনকালো।
পরান দিয়ে প্রেমের দীপ জ্বালো ॥
পাঠভেদ:
তথ্যানুসন্ধান
ক. রচনাকাল ও স্থান:
রবীন্দ্রনাথের
RBVBMS 358
পাণ্ডুলিপিতে গানটির সাথে স্থান ও তারিখ উল্লেখ আছে 'আষাঢ় ১৩১৬/বোলপুর'। উল্লেখ্য, ১৩১৬ বঙ্গাব্দের ২৬ আষাঢ়, রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতায় আসেন। ২৬শে আষাঢ়ের পূর্বে শান্তিনিকেতনে তিনি মোট চারটি গান রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথের ৪৮ বৎসর ২ মাস বয়সের রচনা।
[রবীন্দ্রনাথের
৪৮ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সে রচিত গানের তালিকা]
খ. প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ অষ্টম খণ্ড [ইন্ডিয়ান প্রেস ১৩২৩, গীতাঞ্জলি,গান সংখ্যা ১১, পৃষ্ঠা ২৮৮-৮৯] [নমুনা]
প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ (বিশ্বভারতী, আশ্বিন ১৩৩৮), পৃষ্ঠা: ২৮৯-২৯০] [নমুনা: প্রথমাংশ, শেষাংশ]
প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ (বিশ্বভারতী, মাঘ ১৩৪৮), পর্যায়: পূজা, উপবিভাগ: বিরহ ২, পৃষ্ঠা: ৫৫-৫৬। [নমুনা: ১, ২]
অখণ্ড, তৃতীয় সংস্করণ (বিশ্বভারতী ১৩৮০)। পূজা ১২৯। উপবিভাগ: বিরহ ২। পৃষ্ঠা ৫৯-৬০।
গীতলিপি ৬ষ্ঠ ভাগ (১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩২৫ বঙ্গাব্দ)। সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল।
প্রথম সংস্করণ [ইন্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস (২০ ভাদ্র ১৩১৭), ১৮ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ২১-২২।] [নমুনা: প্রথমাংশ, শেষাংশ]
রবীন্দ্ররচনাবলী একাদশ খণ্ড (বিশ্বভারতী, আশ্বিন ১৩৯৩)। ১৭ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা ১৭-১৮।
স্বরবিতান সপ্তত্রিংশ
(৩৭)
(বিশ্বভারতী,
ভাদ্র ১৪১৩)
খণ্ডের ১১ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা ৩০-৩৪।
রবীন্দ্রনাথ-কৃত অনুবাদ ইংরেজি গীতাঞ্জলির পাঠ GITANJALI (Song offerings)। ২৭ সংখ্যক গান:
Light, oh
where is the light ? Kindle it with burning fire of desire!
There is the lamp but never a flicker of a flame,- is such thy fate, my heart!
Ah, death were better by far for thee !
Misery knocks at thy door, and her message is that thy lord is wakeful, and he
calls thee to the love-tryst through the darkness of night.
The sky is overcast with clouds and the rain is ceaseless. I know not what this
is that stirs in me,- I know not its meaning.
A moment's flash of lightning drags down a deeper gloom on my sight, and my
heart gropes for the path to where the music of the night calls me.
Light! oh where is the light! Kindle it with the burning fire of desire ! It
thunders and the wind rushes screaming through the void. The night is black as a
black stone. Let not the hours pass by in the dark. Kindle the lamp of love with
thy life.
সূত্র:
সুপ্রভাত
(শ্রাবণ ১৩১৬ বঙ্গাব্দ)। শিরোনাম-দুঃখাভিসার'।
পৃষ্ঠা ২-৩। মিশ্র দেশ-ঝাঁপতাল। দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর-কৃত স্বরলিপি-সহ
মুদ্রিত হয়েছিল। পৃষ্ঠা ৩-৬। [নমুনা:
বাণী,
স্বরলিপি]
উল্লেখ্য, সুপ্রভাত পত্রিকার সম্পাদিকা কুমুদিনী মিত্রকে
এই গানটির বাণী অংশ লিখে
পাঠিয়েছিলেন। ২১ আষাঢ় [সোমবার ৫ জুলাই],
কুমুদিনী মিত্রের একটি পত্রের উত্তরে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন-
'আমার ছোট কবিতাটি তোমার ভাল লাগিয়াছে শুনিয়া খুসি হইলাম। ইহার নাম দিতে পার- দুঃখভিসার। এই কবিতা সুরে বসাইয়াছি- যদি ইচ্ছা কর দিনেন্দ্রকে দিয়া স্বরলিপি করাইয়া তাহা তোমাদিগকে পাঠাইয়া দিতে পার।'
সুপ্রভাত -৩-৬ পৃষ্ঠায় গানটি দিনেন্দ্রনাথ-কৃত স্বরলিপি-সহ প্রকাশিত হয়েছিল।
স্বরবিতান ৩৭ খণ্ড থেকে জানা যায় দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর-কৃত স্বরলিপিটি
প্রবাসী পত্রিকার ৬/১৩১৬ (আশ্বিন ১৩১৬) থেকে গৃহীত হয়েছে। কিন্তু প্রবাসী
পত্রিকার 'আশ্বিন
১৩১৬' সংখ্যায় এই গান বা তার স্বরলিপি মুদ্রিত হয় নি। মুলত গানটি
সুপ্রভাত
পত্রিকার 'শ্রাবণ ১৩১৬ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায়
দিনেন্দ্রনাথ-কৃত
স্বরলিপি-সহ প্রকাশিত
হয়েছিল
প্রকাশিত হয়েছিল। গানটির শিরোনাম ছিল দুঃখাভিসার'।
রেকর্ডসূত্র: পাওয়া যায় নি
প্রকাশের কালানুক্রম: গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল গীতাঞ্জলি প্রথম সংস্করণ (১৩১৭)-এ। এরপর এরপর যে সকল গ্রন্থাদিতে গানটি প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলো হলো- গান দ্বিতীয় সংস্করণ
গ. সঙ্গীতবিষয়ক তথ্যাবলী:
স্বরলিপি:
স্বরলিপিকার :
দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সুপ্রভাত
(শ্রাবণ ১৩১৬ বঙ্গাব্দ)। এই স্বরলিপিটি করেছিলেন দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
[দিনেন্দ্রনাথ
ঠাকুর -কৃত স্বরলিপির তালিকা]
ভীমরাও শাস্ত্রী। [সংগীত-গীতাঞ্জলি] [ভীমরাও শাস্ত্রী -কৃত স্বরলিপির তালিকা]
সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়। [গীতলিপি ষষ্ঠ খণ্ড থেকে,
স্বরবিতান
সপ্তত্রিংশ খণ্ডে গৃহীত হয়েছে]।
[সুরেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায়
-কৃত স্বরলিপির তালিকা]
সুর ও তাল:
সুপ্রভাত পত্রিকার 'শ্রাবণ ১৩১৬ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায় দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর-কৃত স্বরলিপির শিরোদেশে রাগ-তালের নাম ছিল 'মিশ্রদেশ -ঝাঁপতাল'। কিন্তু স্বরবিতান একাদশ খণ্ডে গৃহীত স্বরলিপিটিতে রাগ-তালের উল্লেখ নেই। উক্ত স্বরলিপিতে ছন্দোবিভাজন দেখানো হয়েছে, ৩।২ ছন্দ; অর্থাৎ ‘ঝম্পক’ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে। কেতকী’র শ্রাবণ ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ সংস্করণে গৃহীত দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর-কৃত স্বরলিপিতে গানটির ৩।২।৩।২ ছন্দ লক্ষ্য করা যায়।
রাগ-দেশ। তাল-ঝম্পক।
মিশ্র দেশ- ঝাঁপতাল। [দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। সুপ্রভাত (শ্রাবণ ১৩১৬ বঙ্গাব্দ)]
দেশ-ঝম্পক। [স্বরবিতান সপ্তত্রিংশ (৩৭) (বিশ্বভারতী, ভাদ্র ১৪১৩)]
[রবীন্দ্রসংগীত : রাগ-সুর নির্দেশিকা। সুধীর চন্দ। (প্যাপিরাস, জানুয়ারি ১৯১৩)। পৃষ্ঠা : ৪৭]
[রাগরাগিণীর এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত। প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত আকাদেমি, জুলাই ২০০১। পৃষ্ঠা: ৮৫।]
বিষয়াঙ্গ: ব্রহ্মসঙ্গীত।
সুরাঙ্গ:
গ্রহস্বর:
র্সা। [স্বরবিতান একাদশ (১১, কেতকী) (বিশ্বভারতী, আশ্বিন ১৪১৬)]
না। [স্বরবিতান সপ্তত্রিংশ (৩৭) (বিশ্বভারতী, ভাদ্র ১৪১৩)]
লয়: মধ্য।
সূত্র:
স্বরবিতান একাদশ (১১, কেতকী) (বিশ্বভারতী, আশ্বিন ১৪১৬), পৃষ্ঠা ১০৮ এবং স্বরবিতান সপ্তত্রিংশ (৩৭) (বিশ্বভারতী, ভাদ্র ১৪১৩), পৃষ্ঠা ১০০।
স্বরবিতান সপ্তত্রিংশ (৩৭) (বিশ্বভারতী, ভাদ্র ১৪১৩), পৃষ্ঠা ১০০।