এটি সপুষ্পক উদ্ভিদের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ধাপ। কারণ এই থাপের পর থেকেই উদ্ভিদের বৈচিত্র্য
দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে । পৃথিবীর প্রায় ৭০% সপুষ্পক উদ্ভিদই এই গ্রুপের অন্তর্গত। যেমন:
পুষ্পের বৈশিষ্ট্য: কোর-ইউডিকোটসদের ফুলের গঠন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং স্থির। এদের অধিকাংশ ফুলে একটি বিশেষ গাণিতিক নিয়ম লক্ষ্য করা যায় ।
যেমন-
পেন্টামেরাস: এদের ফুলের অঙ্গগুলো সাধারণত ৫-এর গুণিতকে থাকে। যেমন: ৫টি বৃতি , ৫টি পাপড়ি এবং ৫ বা ১০টি পুংকেশর।
চক্রাকার বিন্যাস: ফুলের অংশগুলো সর্পিলভাবে না থেকে সুনির্দিষ্ট বৃত্ত বা চক্রে সাজানো থাকে।
পরাগরেণুর গঠন :
ইউডিকোটসদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো 'ট্রাইকোলপেট' পরাগরেণু (যাতে তিনটি লম্বা খাঁজ থাকে)। তবে কোর-ইউডিকোটসদের ক্ষেত্রে এটি আরও উন্নত হয়ে ট্রাইকোলপোরেট হয়। অর্থাৎ, প্রতিটি লম্বা খাঁজের ঠিক মাঝখানে একটি করে গোল ছিদ্র থাকে, যা দিয়ে পরাগনালি বের হয়।
বৃতি ও পাপড়ি : বৃতি ও পাপড়ির
স্পষ্ট পার্থক্য
আদি উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় বৃতি ও পাপড়িকে আলাদা করা যায় না (যাকে টেপাল বলে)। কিন্তু কোর-ইউডিকোটসদের ক্ষেত্রে:
এদের বৃতি এবং দলমণ্ডল স্পষ্টভাবে আলাদা এবং ভিন্ন গঠনবিশিষ্ট।
সাধারণত বাইরের স্তরে ৫টি সবুজ বৃতি এবং ভেতরের স্তরে ৫টি রঙিন পাপড়ি থাকে।
পুংকেশরের অবস্থান ও গঠন :
এদের পুংকেশরগুলো সাধারণত পাপড়ির সাথে নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে।
পুংকেশরের দণ্ডটি পরাগধানীর পেছনে যুক্ত থাকে, যা আদি ইউডিকোটসদের চেয়ে ভিন্ন।
আণবিক বৈশিষ্ট্য :
গবেষণায় দেখা গেছে, কোর-ইউডিকোটসদের কোষে
DELLA
প্রোটিন এনকোডিং জিনের দ্বিত্বকরণ ঘটে, যা এদের বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ক্রমবিবর্তন
১৩ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
স্পের্ম্যাটোফাইট
থাক থেকে উৎপন্ন হয়েছিল
এন্জিয়োসফার্ম থাক
তথা সপুস্পক উদ্ভিদ। এরপর এই থাক থেকে উৎপন্ন হয়েছিল
ইউডিকোটস থাকের
উদ্ভিদ।