• Domain (স্বক্ষেত্র): ইউক্যারিয়েটা
  • Clad (থাক): বাইকোন্টা
  • Clad (থাক): ডাইয়াফোরটোক্স
  • Clad (থাক): আর্কিপ্লাস্টিডা
  • Kingdom ( রাজ্য ):  ভিরিডিপ্ল্যান্টে / প্লান্টি (উদ্ভিদ জগৎ )
  • Clad (থাক): স্ট্রেপ্টোফাইটা
  • Division (বিভাগ): চ্যারোফাইটা
  • Clad (থাক): ফ্র্যাগ্‌মোপ্লাস্টোফাইটিনা
  • Clad (থাক): এম্ব্রায়োফাইটা
  • Subkingdom (উপ-জগত): ট্রাকিওবায়োন্টা
  • Clad (থাক): পোলিস্পোরাঙ্গিয়োফাইটা
  • Clad (থাক):ট্রাকিয়োফাইটা
  • Clad (থাক): স্পের্ম্যাটোফাইটা
  • Clad (থাক): এন্‌জিয়োসফার্ম (আবৃতবীজী)
  • Clad (থাক): ইউডিকটস [দ্বিবীজপত্রী]
  • Clad (থাক): সুপার ইউডিকোটস
  • Clad (থাক): কোর- ইউডিকোটস
  • Clad (থাক): সুপাররোসিডস
  • Clad থাক): রোসিডস্
  • Clad থাক): মালভিড্‌স
  • Order (বর্গ): অক্সালিডেলিস
  • Family (গোত্র): এলায়োকার্পাসি
  • Genus (গণ): এলায়োকার্পাস
  • Species (প্রজাতি): E. ganitrus
  • বৈজ্ঞানিক নাম: Elaeocarpus ganitrus Roxb. ex G.Don

    রুদ্রাক্ষ
    একপ্রকার বৃহৎ ও চওড়া পাতাওয়ালা চিরহরিৎ বৃক্ষ।

    রুদ্র অর্থ শিব, অক্ষ অর্থ চোখ বা চক্ষুজল। পৌরাণিক কাহিনীর একটিতে আছে, দুর্বিনীত অসুর ত্রিপুরকে বধ করতে গিয়ে শিব দীর্ঘকাল অপলক নেত্রে যুদ্ধ করার কারণে তার অবসাদগ্রস্ত চোখ থেকে মাটিতে গড়িয়ে পড়ে এক ফোঁটা অশ্রু। সেই অশ্রুকণা থেকেই জন্ম হয় রুদ্রাক্ষের।

    এর আদি নিবাস মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চল বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। নেপাল ভারতের হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চল (বিশেষত উত্তর ভারত, আসাম, দার্জিলিং, সিকিম প্রভৃতি) বাংলাদেশ মিয়ানমার (বার্মা) এছাড়া এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে।

    আকৃতি: রুদ্রাক্ষ একটি মাঝারি থেকে বড় আকারের চিরহরিৎ বৃক্ষ। সাধারণত এটি প্রায় ১৫–৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে; অনুকূল পরিবেশে আরও বড় হতে পারে। কাণ্ড সোজা ও শক্ত; বাকল ধূসর বা ধূসর-বাদামি রঙের।

    গাছটি দেখতে অনেকটা বকুল গাছের মত। গাছের শেকড়ে ঝাউ-শিমুল-বুদ্ধনারিকেল গাছের মত অধিমূল বা বাট্রেসিং দেখা যায়। গাছের ফল দেখতে গাঢ় নীল রঙের, যে কারণে এর ইংরাজি এক নাম ব্লুবেরি বিডস্‌।

    পাতা: এর পাতা সরল, একান্তর বিন্যাসযুক্ত। পাতার আকৃতি ডিম্বাকার বা লম্বাটে। পাতা গাঢ় সবুজ ও চকচকে। পুরোনো পাতা ঝরার আগে অনেক সময় লালচে বা হলদে রঙ ধারণ করে।

    ফুল: ফুল ছোট, সাদা বা হালকা সবুজাভ-সাদা। ফুল সাধারণত ঝুলন্ত মঞ্জরতে ধরে। ফুলে হালকা সুগন্ধ থাকতে পার
    ফল ও বীজ:
    এই গাছের ফলকে রুদ্রাক্ষ বল হয়। ফল গোলাকার বা ডিম্বাকার হয়। কাঁচা ফল সবুজ এবং পাকলে নীলাভ বা নীলচে-বেগুনি রঙের হয়। ফলের ভেতরের শক্ত বীজই রুদ্রাক্ষ নামে পরিচিত। বীজের গায়ে প্রাকৃতিক খাঁজ থাকে, যাকে 'মুখ' বলা হয়।

    লোকিউল বা বীজকোষের বিভাজন রেখার গভীর দাগ থেকেই এর মুখ-সংখ্যা নিরূপণ করা যায়। সাধারণত পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষই দেখতে পাওয়া যায় সবচে বেশি। তবে ১ থেকে শুরু করে ৩৮ মুখী পর্যন্ত রুদ্রাক্ষের সন্ধানও পাওয়া যায়। সহজলভ্য নয় বলে ১৪ থেকে ২১ মুখী রুদ্রাক্ষের মূল্যও বেশি।

    বৃদ্ধি ও পরিবেশ: আর্দ্র, উষ্ণ ও বৃষ্টিবহুল পরিবেশে ভালো জন্মে। পাহাড়ের পাদদেশ, নদী-উপত্যকা ও আর্দ্র বনাঞ্চলে এর স্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যায়। ভালো নিষ্কাশনযুক্ত মাটি এ গাছের জন্য উপযোগী।

    ব্যবহার: ধর্মীয় ক্ষেত্রে রুদ্রাক্ষের বীজ দিয়ে জপমালা তৈরি করা হয়। কাঠ কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ঐতিহ্যগত চিকিৎসা ব্যবস্থায় এর বিভিন্ন অংশ ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।

    এই ফল মৃগীরোগীদের জন্যে উৎকৃষ্ট। হিমালয়ের সাধুরা তৃষ্ণা নিবারণের জন্যে একে ব্যবহার করেছেন। স্বাদে টকজাতীয় বলে নেপালের মানুষ এই ফল থেকে পিকলস্‌ জাতীয় মুখরোচক খাবার তৈরি করে থাকে। প্রাচীনকালে বসন্ত-গুটির প্রলেপে এবং যক্ষ্মা ও শ্লেষ্মার আধিক্যে ব্যবহৃত হয়েছে রুদ্রাক্ষ-ঘষা ক্ক্বাথ।

    রুদ্রাক্ষের মালা হাজার বছর ধরে হিন্দু সম্প্রদায়, বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বাউলদেরও এটা ব্যবহার করতে দেখা গেছে, কারণ রুদ্রাক্ষ তখন ছিল সহজলভ্য। ধর্মীয় গুরুত্ব হিন্দু শৈব ঐতিহ্যে রুদ্রাক্ষকে ভগবান শিব-এর সঙ্গে সম্পর্কিত পবিত্র বস্তু হিসেবে গণ্য করা হয়। “রুদ্রাক্ষ” শব্দের প্রচলিত ব্যাখ্যা হলো-রুদ্রের অক্ষ (চোখের অশ্রু)।  
    এ কারণে শিব-পুজারী এবং ধার্মিকদের মধ্যেই ছিল এর প্রাথমিক বিস্তার। এখন তেমন নেই, জ্যোতিষবিদদের ব্যবসায়িক প্রবণতার কারণে প্রচার হয়েছে, রুদ্রাক্ষ যে কোনো ধর্মের এবং যে কোনো বয়সের নারী-পুরষই ধারণ করতে পারে, গলায় বাজুতে এবং কব্জিতে। আরো প্রচার হয়েছে গাছের তলায় পড়ে থাকা রুদ্রাক্ষ ব্যবহার্য নয়, গাছ থেকে চয়ন করতে হবে সেসব যার ২-৩% মাত্র রুদ্রাক্ষের জন্য উপযোগী। রুদ্রাক্ষের লাল কালো হলুদ ধূসর নানা রঙ এবং এর সঙ্গে গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাব, পাপস্খালন, দাম্পত্য জীবনে সুখ, ব্যবসায়িক সাফল্য ইত্যাদি বিষয়গুলোকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যার পরিপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্পর্কে আমরা অজ্ঞাত।