অক্ষয়
বানান বিশ্লেষণ: অ+ক্+ষ্+অ+য়
উচ্চারণ: ɔk.kʰɔe̯]
[অক্.খয়্]
শব্দ-উৎস:
সংস্কৃত অক্ষয়>
বাংলা অক্ষয়
রূপতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: অ (নাই) ক্ষয়/নঞ্ তৎপুরুষ
সমাস
পদ:
বিশেষণ
অর্থ: যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না
সমনাম: অবিনশ্বর, অক্ষুণ্ণ, অমর, অম্লান, অবিকৃত, অব্যয়, অনশ্বর,
চিরস্থায়ী, শাশ্বত, নিত্য, চিরন্তন, অক্ষত, অবিনাশী, নাশহীন
পদ:
বিশেষ্য
ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা
{|
হিন্দু দেবতা |
হিন্দু দৈবসত্তা |
দৈবসত্তা |
অতিপ্রাকৃতিক সত্তা |
অতিপ্রাকৃতিক বিশ্বাস |
বিশ্বাস |
প্রজ্ঞা |
জ্ঞান |
অভিজ্ঞা |
মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা |
বিমূর্তন |
বিমূর্ত সত্তা |
সত্তা |
}
অর্থ: যার ক্ষয় নেই, যা অবিনশ্বর, চিরস্থায়ী।
বিষ্ণুর ক্ষেত্রে “অক্ষয়” নামটি তাঁর নিত্য,
অবিনশ্বর ও অনন্ত স্বরূপকে নির্দেশ করে। বৈষ্ণব দর্শনে বিষ্ণু হলেন জগতের পালনকর্তা
ও পরম সত্তা। সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের পরিবর্তনের মধ্যেও তাঁর স্বরূপ অপরিবর্তনীয়
বলে বিবেচিত। তাঁকে এমন এক চিরন্তন সত্তা হিসেবে কল্পনা করা হয়, যাঁর কোনো
জন্ম-মৃত্যু, ক্ষয় বা বিনাশ নেই; তিনি অনাদি ও অবিনশ্বর।
সমনাম:
অ,
অক্ষজ,
অক্ষধর,
অক্ষয়,
অঘানাশক, অঘানাশন, অচ্যুত, অজ, অজগ, অজিত, অতীন্দ্রিয়, অদিতিজ, অদিতিতনয়,
অদিতিনন্দন, অদিতিপুত্র, অদিতিসূত, অধৃত, অধোক্ষজ, অনন্ত, অনন্তদেব, অনন্তশয়ান,
অনীশ, অব্দিশয়ন, অব্যক্ত, অব্যয়, অমৃতপ, অমৃতপা, অম্বরীষ, অযোনি, অযোনিজ,
অরবিন্দনাভ, অরিষ্টমথন, অরিষ্টসূদন, অর্ক, অর্ধলক্ষ্মী, অর্ধলক্ষ্মীহরি, অসুরসূদন,
অসুরারি, ঈপতি, কঞ্জনাভ, কমলাকান্ত, কমলাপতি, কুন্দর, কিরীটী,
ক্রম, খগাসন, খিল,
গদাধর, গদাপাণি, গরুড়ধ্বজ, গরুড়বাহন, গোলকনাথ, গোলকপতি, গোলকবিহারী, চক্রধর,
চক্রধারী, চক্রপাণি, চক্রায়ধ, চক্রী, চতুর্ভুজ, চতুর্বাহু, চতুষ্কর, জগন্নাথ,
জনার্দন, জয়পাল, জহ্নু, জিষ্ণু, তুষ্ট, দর্পহা, দর্পহারী, দানবারি, দামোদর,
দীননাথ, দীনবন্ধু, দীনেশ, দৈত্যারি, দ্বিজবাহন, ধরণীধর, ধরণীশ্বর, ধর্মনাভ,
নরকান্তক, নারায়ণ, পদ্মনাভ, পদ্মপলাশ লোচন,
পদ্মপাণি,
পদ্মেশয়,পদ্মেশয়, পরব্যোম, পরমেষ্ঠী, পারায়ণ, পুরুষোত্তম, পুষ্করাক্ষ, বলিন্দম,
বলিসূদন, বারিশ, বিশ্বম্ভর, বৈকুণ্ঠ, ব্রহ্মদেব, ব্রহ্মনাভ, মনোজব, লোকনাথ,
শশবিন্দু, শার্ঙ্গদেব, শার্ঙ্গপাণি, শিপিবিষ্ট, শ্রীকান্ত, শ্রীধর, শ্রীনিবাস,
শ্রীপতি, শ্রীবৎসলাঞ্ছন, রমাকান্ত, রমানাথ, রমাপতি, রমেশ, লক্ষ্মীপতি,
লক্ষ্মীকান্ত, লক্ষ্মীজনার্দন, লক্ষ্মীনারায়ণ, লক্ষ্মীশ্বর, শ্রীশ, সত্যনারায়ণ,
সনাতন, সহস্রাস্য, সাত্বত, সুদর্শনধারী, হ, হরি, হৃষিকেশ। [বিস্তারিত
দেখুন:
বিষ্ণু, হিন্দু পৌরাণিক দেবতা]
সূত্র:
- চলন্তিকা। রাজশেখর বসু। এমসি সরকার অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লিঃ।
১৪০৮।
- বঙ্গীয় শব্দকোষ (প্রথম খণ্ড)। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সাহিত্য
অকাদেমী। ২০০১।
- বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান।বাংলা
একাডেমী, ঢাকা। মার্চ ২০০৫।
- বাংলা একাডেমী সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান স্বরবর্ণ অংশ। আবু ইসহাক।
ফাল্গুন ১৪০৪/ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮।
- বাংলা বানান চিন্তা (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)। অধ্যাপক পি.
আচার্য। জুলাই ১৯৯৭।
- বাঙ্গালা ভাষার অভিধান (প্রথম খণ্ড)। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস। সাহিত্য
সংসদ। নভেম্বর ২০০০।
- বাঙ্গালা শব্দকোষ। যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি। ভূর্জপত্র।
দোলযাত্রা ১৩৯৭।
- ব্যবহারিক শব্দকোষ। কাজী আব্দুল ওদুদ। প্রেসিডেন্সী লাইব্রেরী।
- ব্যাবহারিক বাংলা উচ্চারণ অভিধান। আনিসুজ্জামান, ওয়াহিদুল হক, জামিল
চৌধুরী, নরেন বিশ্বাস। জাতীয় গণমাধ্যম ইনসটিটিউট। ৮ ফাল্গুন ১৩৯৪
- শব্দবোধ অভিধান। আশুতোষ দেব। দেব সাহিত্য কুটির। মার্চ ২০০০।
- শব্দসঞ্চয়িতা। ডঃ অসিতকুমার বন্দোপাধ্যায়। নিউ সেন্ট্রাল বুক
এজেন্সি প্রাঃ লিমিটেড। ২৩শে জানুয়ারি, ১৯৯৫।
- শব্দার্থ প্রকাশিকা। কেশবচন্দ্র রায় কর্মকার। দেব সাহিত্য কুটির।
মার্চ ২০০০।
- সংসদ বাংলা অভিধান। সাহিত্য সংসদ। শৈলেন্দ্র বিশ্বাস। মার্চ ২০০২।
- সংস্কৃত বাংলা অভিধান। শ্রীঅশোককুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সংস্কৃত
পুস্তক ভাণ্ডার, বইমেলা ১৪০৮
- সরল বাঙ্গালা অভিধান। সুবলচন্দ্র মিত্র।