মধুকৈটভ
ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা { পৌরাণিক সত্তা | কাল্পনিকসত্তা | কল্পনা | সৃজনশীলতা | দক্ষতা | জ্ঞান | মনস্তাত্ত্বিক বিষয় | বিমূর্তন | বিমূর্ত-সত্ত | সত্তা |}

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে  দৈত্য। মধু ও কৈটভ নামক দু্জন দৈত্যের একত্রিত নাম হলো মধুকৈটভ। মার্কেণ্ডয় পুরাণ মতে প্রলয়-সমুদ্রে বিষ্ণু যখন অনন্তনাগের উপর যোগ নিদ্রায় ছিলেন, তখন তাঁর নাভি থেকে ব্রহ্মার উৎপত্তি হয় এই সময় বিষ্ণুর কর্ণমল থেকে দুটি দৈত্য জন্মলাভ করেনই দৈত্য দুটির নাম ছিল মধু ও কৈটভদৈত্যরা ব্রহ্মাকে হত্যা করতে উদ্যত হলে ইনি যোগনিদ্রারূপী মহামায়ার বন্দনা করেন। মহামায়া বিষ্ণুর দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে বিচ্ছুরিত হয়ে নিজেকে ব্রহ্মা সামনে নিজেকে প্রকাশ করেন। পরে ব্রহ্মাকে অভয় দান করে অন্তর্হিত হলে বিষ্ণু নিদ্রা থেকে জেগে উঠে দৈত্যদের আক্রমণ করেন। এরপর বিষ্ণু এদের সাথে পাঁচ হাজার বছর যুদ্ধ করেনকারণ এই দৈত্যরা মহামায়ার দ্বারা অনুগ্রহভাজিত ছিল। ফলে শেষ পযর্ন্ত যুদ্ধে কোন পক্ষই জয়লাভ করতে সক্ষম হলো না এর দৈত্যরা বিষ্ণুর যুদ্ধে সন্তুষ্ট হয়ে বিষ্ণুকে বর দিতে ইচ্ছা করেন বিষ্ণু বলেন যে লোক হিতার্থে তোমরা মার বধ্য হও দৈত্যরা বিষ্ণুকে বলেন যে তুমি মাদেরকে জলহীনস্থানে হত্যা কর। এরপর বিষ্ণু তাঁর হাটুর উপর উভয় দৈত্যকে রেখে সুদর্শন চক্র দ্বারা তাঁদের শিরোশ্ছেদ করেন পরে এই দুই দৈত্যের দেহের মেদ থেকেই পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে বলে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে পৃথিবীর অপর নাম মেদিনী। 

এঁদের পুত্রের নাম ছিল ধুন্ধু। [ত্র্যধিকদ্বিশততম। বনপর্ব। মহাভারত]