ধূমকেতু
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। প্রকাশিত
হতো সপ্তাহের শুক্রবার ও মঙ্গলবার।
১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (শুক্রবার ১১ আগস্ট ১৯২২
খ্রিষ্টাব্দ) আত্মপ্রকাশ করে। এর সম্পাদক ছিলেন
কাজী নজরুল ইসলাম। প্রকাশক ছিলেন
আফ্জাল-উল হক্। পত্রিকার প্রথম পাতায় গ্রহ-নক্ষত্র পরিমণ্ডলসহ পৃথিবীর ছবি রয়েছে
এবং পৃথিবীর আকাশে গতিময় ধূমকেতুর আবির্ভাব ঘটেছে। হাতে আঁকা এই ছবির নিচে পত্রিকার প্রকাশের সময় উল্লেখ
ছিল- 'সপ্তাহে দুইবার করিয়া বাহির হইবে।'
পত্রিকাটির দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল ৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির অভিনন্দনবার্তা।
এই ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন-
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সরোজিনী,
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,
বারীন (পদবী জানা যায় নি), যতীন্দ্রমোহন বাগচী, পরিসুন্দরী ঘোষ, উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও
বিরজাসুন্দরী দেবী। এর ভিতরে রবীন্দ্রনাথ ও যতীন্দ্রমোহন বাগচী অভিনন্দন
জানিয়েছিলেন কবিতায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর অভিনন্দনে লিখেছিলেন-
রবীন্দ্রনাথের এই অভিন্দন বার্তা পত্রিকার সকল সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হতো। পত্রিকাটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ১৬, পৃষ্ঠার মাপ ছিল ক্রাউন ১৫"x২০"। এর বার্ষিক মূল্য ছিল ৫ টাকা। আর নগদ মূল্য ছিল ৪ আনা।অমঙ্গলের মঙ্গল ঘট
কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষুআয় চলে আয়, রে ধূমকেতু,
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু,
দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।
অলক্ষণের তিলক রেখা,
রাতের ভালে হোক্ না লেখা
জাগিয়ে দেরে চমক্ মেরে'
আছে যারা অর্দ্ধচেতন।
২৪ শ্রাবণ
২৩২৯ শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রথমবর্ষ। দ্বিতীয় সংখ্যা [৩০ শ্রাবণ ১৩২৯, মঙ্গলবার, ১৫ আগষ্ট ১৯২২]
গান। ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও
[তথ্য]
দ্বিতীয় সংখ্যা [৩০ শ্রাবণ ১৩২৯, মঙ্গলবার, ১৫
আগষ্ট ১৯২২। পৃষ্ঠা: ৩]
জাগরণী [জাগৃহি]। ধূমকেতু পত্রিকার প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা (৩০ শ্রাবণ ১৩২৯, মঙ্গলবার ১৫ আগষ্ট ১৯২২) প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। শিরোনাম ছিল- 'জাগরণী'। পৃষ্ঠা: ৩।
প্রথমবর্ষ। তৃতীয় সংখ্যা [১লা ভাদ্র ১৩২৯, শুক্রবার ১৮ আগষ্ট ১৯২২]
প্রথমবর্ষ। চতুর্থ সংখ্যা [৫ ভাদ্র ১৩২৯, মঙ্গলবার ২২ আগষ্ট ১৯২২ ]
রক্তাম্বরধারিণী মা। কবিতা। পৃষ্ঠা: ৩। অগ্নি-বীণা গ্রন্থে সংকলিত
হুগলীর ডাব-নারকেল শিরোনামে একটি সংবাদ পরিবেশিত হয়। [পৃষ্ঠা ৯]। উক্ত সংবাদ থেকে জানা যায়- 'গত মঙ্গলবার' অর্থাৎ ৩০ শ্রাবণ ১৩২৯, ১৫ আগ্ষ্ট ১৯২২, তারিখে নজরুল কলকাতা থেকে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করেছিলেন। সংবাদটি বেশ রঙ্গব্যঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল। যেমন-
';গত মঙ্গলবার হুগলী জাতীয় বিদ্যামন্দিরের বার্ষিক পারিতোষিক বিতরণ সভা হয়েছিল । কলকাতা থেকে যান শ্রীযুক্তা মোহিনী দেবী, তাঁর তৃতীয় মেয়ে, ছোট মেয়ে আর এক নাতনী, এবং কাঁজী নজরুল ইসলাম ও দুটি কাপড়ের বোঁচকা। বিপুল সমাদরের সঙ্গে তাঁদরে অভ্যর্থনা করেন হুগলী কংগ্রেস-কর্ম্মীগণ। স্কুলের ছেলেরা রক্ত-রাঙ্গা খদ্দর পরে এক অভিনব চোখ-জুড়ানো দৃশ্যের সৃজন করেছিল। সে এক দেখবার মত জিনিস, ওখানের জাতীয় বিদ্যামন্দিরের কর্ম্মিগণের মত উৎসাহ্ বাঙলা অন্য কোথাও দেখা যায় না। সাধারণতঃ ছেলেদের দেশকে ভালোবাসা "শিক্ষার বই উপহার দেওয়া হয়। ছেলেদের গান - আবৃত্তি হয়। কাজী নজরুল ইস্লাম সভায় প্রথমে ও শেষে কয়েকটী গান করেন। শ্রীযুত অতুল সেন তাঁর অপূর্ব্ব কৌতুক অভিনয় দেখিয়ে "মধুরেণ সমাপয়েৎ করেন। হাঁ বলতে ভুলে গেছি, মধ্যে কয়েকজন বক্তার বক্তিমের গরমে লোক একেবারে ভেপ্সে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। দেশ-মাতার প্রতি শ্রদ্ধায়-ভক্তিতে অনেক বক্তাই স্বরভঙ্গ দোষ-দুষ্ট হয়ে পড়লেন, কিন্ত দেশের জন্য তাঁদের কাছে ভিক্ষা চাওয়ায় তারা মাসিক গোটাই একটা ক'রে টাকা দেবেন ব'লে দিব্যি ক'রে বসলেন। কিন্তু বলেই তাদের প্রাণ আই ঢাই করতে লাগ্ল ব'লে বাড়ীমুখো হয়ে দে ছুট । এই সব বাক্যি সার রায় বাহাদুরের গোষ্ঠীকে কেনই বা “বিব্রত” করা হয়েছিল আর কেনই যে এমন হীন ভিক্ষা নেওয়া হয়েছিল, তা বুঝে উঠ্তে পারিনি আর পার্বও না। এ, একটা ক'রে টাকা তাদের মুখের ওপর ছুঁড়ে ফেলে দিলে তবে কখনো ইয়ে হ'ত। সভানেত্রী মাতা মোহিনী দেবী সুন্দর কয়েকটা কথা বলার পর সভা ভিসমিস।
সম্পাদকীয়: আমরা লক্ষ্মীছাড়ার দল। পৃষ্ঠা: ৩]। দুর্দিনের যাত্রী (অক্টোবর ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ) প্রবন্ধগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
ধূমকেতু
।
প্রথম বর্ষ। সপ্তম সংখ্যা
১২ ভাদ্র ১৩২৯, মঙ্গলবার ২৯ আগষ্ট ১৯২২
ধূমকেতুর প্রথম বর্ষ ষষ্ঠ ও সপ্তম সংখ্যা একই দিনে প্রকাশিত হয়েছিল। মূলত সপ্তম সংখ্যা ছিল মোহরেমের বিশেষ সংখ্যা। এই সংখ্যায় নজরুলের রচিত যে সকল রচনা প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলো হলো-
- সম্পাদকীয়: মোহর্রম। পৃষ্ঠা: ৩। রুদ্র-মঙ্গল নামক প্রবন্ধ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
- মোহরম [কবিতা] [পৃষ্ঠা: ৯]। অগ্নি-বীণা নামক কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
ধূমকেতু
।
প্রথম বর্ষ। অষ্টম সংখ্যা
২৬ ভাদ্র ১৩২৯, মঙ্গলবার ১২ সেপ্টেম্বর ১৯২২
এই সংখ্যা থেকে ধূমকেতুর সারথি হিসেবে নজরুলের নাম পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, আগের সংখ্যাতে নজরুলের নাম যুক্ত ছিল সম্পাদক হিসেবে। এই সংখ্যা থেকে ধূমকেতু ৭ নম্বর প্রতাপ চাটুয্যের লেন থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হতে থাকে।ধূমকেতু। প্রথম বর্ষ। নবম সংখ্যা
- সম্পাদকীয় ' বিষ-বাণী '। [পৃষ্ঠা: ৩-৫] রুদ্র-মঙ্গল নামক প্রবন্ধ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
- কামাল পাশা [কবিতা]। উপাসনা পত্রিকার 'আশ্বিন ১৩২৮' সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। ধূমকেতু পত্রিকার [২৬ ভাদ্র ১৩২৯, মঙ্গলবার ১২ সেপ্টেম্বর ১৯২২] সংখ্যায় কবিতাটির অংশবিশেষ ছাপা হয়েছিল। পরে অগ্নি-বীণা নামক কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
- 'বাংলার বিপ্লব যুগের প্রথম সেনানায়ক/পুরুষ সিংহ যতীন্দ্রনাথ' প্রবন্ধ। রুদ্রমঙ্গল প্রবন্ধগ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
সম্পাদকীয় পথিক! তুমি পথ হারাইয়াছ?। [পৃষ্ঠা: ৩] দুর্দিনের যাত্রী (অক্টোবর ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ) প্রবন্ধগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
এই সংখ্যায় 'অবসর গ্রহণ' শিরোনামে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এই বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়- শারদীয় পূজাপলক্ষে ধূমকেতুর প্রকাশ বন্ধ থাকবে। এই কারণে ১২, ১৬ ও ১৯শে আশ্বিন, পত্রিকটা প্রকাশিত হবে না।
ধূমকেতু।
প্রথম বর্ষ। ত্রয়োদশ সংখ্যা
২৬ আশ্বিন ১৩২৯, শুক্রবার ১৩ অক্টোবর ১৯২২
ধূমকেতু।
প্রথম বর্ষ। পঞ্চদশ সংখ্যা
৩ কার্তিক
১৩২৯, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ১৯২২
রণ-ভেরী [কবিতা] পৃষ্ঠা: ৩-৪]।
পরে
অগ্নি-বীণা
নামক কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
ধূমকেতু।
প্রথম বর্ষ। সপ্তদশ সংখ্যা
১০ কার্তিক
১৩২৯, শুক্রবার ২৭ অক্টোবর ১৯২২
দুঃশাসনের রক্ত-পান [কবিতা] [পৃষ্ঠা: ৩-৪]। পরে ভাঙার গান নামক কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
সম্পাদকীয়:
নিশান-বরদার পতাকা-বাহী।
[পৃষ্ঠা: ৩]।
অগ্রন্থিত প্রবন্ধ
ধূমকেতু। প্রথম বর্ষ। একবিংশ সংখ্যা
২৪ কার্তিক ১৩২৯, শুক্রবার ১০ নভেম্বর ১৯২২
- তোমার পণ কি [সম্পাদকীয় পৃষ্ঠা: ৩] অগ্রন্থিত প্রবন্ধ
ধূমকেতু।
প্রথম বর্ষ। দ্বাবিংশ সংখ্যা
১ অগ্রহায়ণ ১৩২৯,
শুক্রবার ১৭ নভেম্বর ১৯২২
এই সংখ্যার সারথি ছিলেন অমরেশ কাঞ্জিলাল।
পত্রিকা প্রকাশের সময় নজরুল সমস্তিপুর ছিলেন। এই সংখ্যায় ধূমকেতু অফিসে পুলিশের
তল্লাসি চালানোর খবরটি প্রকাশিত হয়েছিল এই ভাবে-
'গত ৮ই নভেম্বর সকাল বেলা, লালবাজারের গ্রহ ধূমকেতু কেন্দ্রে উদয় হয়েছিলেন। একই সময়ে আর একদল প্রেসেও দেখা দিয়াছিলেন। তারা কাজী নজরুল ইসলাম চাইলেন। কিন্তু তিনি অনুপস্থিত থাকায় দেওয়ালী (১৫শ) এবং আগমনী (১২শ) সংখ্যার সব কাগজ, চিঠিপত্র ও হিসেব ইত্যাদি নিয়ে যান। সবে 'গ্রহণ' লাগা শুরু হোল।'
এই সংখ্যায় প্রকাশিত নজরুলের রচনা
ধূমকেতু।
প্রথম বর্ষ। ষড়্বিংশ সংখ্যা
২৬ অগ্রহায়ণ ১৩২৯,
শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর ১৯২২
মন বুঝানো [কবিতা। রচনা সারথী। নজরুলের কবিতা কিনা সংশয় আছে]
বহ্ন্যুৎসব। পৃষ্ঠা: ৭। [রচয়িতার নাম নেই]
নপুংসকের ন্যাকামি ৭-৮। [রচয়িতার নাম নেই]
ধূমকেতু।
প্রথম বর্ষ। সপ্তবিংশ সংখ্যা
২৯ অগ্রহায়ণ ১৩২৯,
শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ১৯২২।
এই সংখ্যার সারথি হিসেবে নাম মুদ্রিত হয়-অমরেশ কাঞ্জিলাল।
এই সংখ্যায় সহকারী সম্পাদক ছিলেন
জিতেন্দ্রনাথ লাহিড়ি'র নাম মুদ্রিত হয় নি। এই
সংখ্যায় পত্রিকা র প্রকাশের দিন পাল্টানোর কথা লেখা হয়। লেখাটি ছিল- 'প্রেসের
সুবিধার জন্য সামনের সংখ্যা থেকে ধূমকেতু প্রতি বুধবার ও শনিবারে দেখা দেবে।'
ধূমকেতু।
প্রথম বর্ষ। অষ্টবিংশ সংখ্যা
৫ পৌষ ১৩২৯, বুধবার ২০ ডিসেম্বর ১৯২২]
প্রতিষ্ঠাতা: কাজী নজরুল ইসলাম
সারথি: অমরেশ কাঞ্জিলাল
সম্পাদকীয় [লাঞ্ছিত। পৃষ্ঠা: ৩]
ধূমকেতু।
প্রথম বর্ষ। ঊনত্রিংশ সংখ্যা
৮ পৌষ ১৩২৯, শনিবার ২৩ ডিসেম্বর ১৯২২]
প্রতিষ্ঠাতা: কাজী নজরুল ইসলাম
সারথি: অমরেশ কাঞ্জিলাল
সম্পাদকীয় [ভাববার কথা। পৃষ্ঠা: ৩]
ধূমকেতু।
প্রথম বর্ষ। ত্রিংশ সংখ্যা। কংগ্রেস সংখ্যা
১২ পৌষ ১৩২৯, বুধবার ২৭ ডিসেম্বর ১৯২২]
প্রতিষ্ঠাতা: কাজী নজরুল ইসলাম
সারথি: অমরেশ কাঞ্জিলাল
- আত্মকথা। কবিতা। অগ্রন্থিত কবিতা
- রাজবন্দীর জবানবন্দী। প্রবন্ধ। ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জানুয়ারি (২৩ পৌষ ১৩২৯), প্রেসিডেন্সি জেলে এই প্রবন্ধটি রচনা করেছিলেন। ধূমকেতু পত্রিকার এই সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর উপাসনা ও সহচর পত্রিকায় ফাল্গুন ১৩২৯ (ফেব্রুয়ারি-মার্চ ১৯২৩) সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।