নজরুলসঙ্গীতের
কালানুক্রমিক সূচি
তৃতীয় পর্ব
১৮ বছর অতিক্রান্ত বয়স
১৩২৪ বঙ্গাব্দের
১০ই জ্যৈষ্ঠ (বৃহস্পতিবার
২৪শে মে ১৯১৭
খ্রিষ্টাব্দ) নজরুলের ১৭ বৎসর বয়স পূর্ণ
হয়েছিল। পরদিন, ১৩২৪ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (শুক্রবার, ২৫ মে ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দ) তাঁর ১৮তম বয়সবর্ষের সূচনা হয়।
এই ১৮তম বয়সবর্ষটি স্থায়ী ছিল ১৩২৫ বঙ্গাব্দের ১০ জ্যৈষ্ঠ (শুক্রবার, ২৪ মে ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত। ওই দিন নজরুলের ১৮ বছর পূর্ণ হয় এবং পরদিন, ১৩২৫ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (শনিবার, ২৫ মে ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ) তাঁর ১৯তম বয়সবর্ষ শুরু হয়।
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ১৮তম বয়সবর্ষে সিয়ারসোল রাজ স্কুলের দশম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছিলেন এবং ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই সময়
ইউরোপ
জুড়ে চলছিল
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য মিত্রপক্ষের হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করায় যুদ্ধের প্রয়োজন মেটাতে ভারতসহ বিভিন্ন উপনিবেশ থেকে সৈন্য সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
এই সময় বাংলার যুবকদেরও ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে বাঙালিদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার এই উদ্যোগটি ব্রিটিশ সরকারের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহে শুরু হয়নি। বরং বাংলার কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির দীর্ঘদিনের দাবি ও চাপের ফলে ব্রিটিশ সরকার বাঙালিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ব্যাপারে উদ্যোগী হয়। এর পেছনে ছিল বাঙালিদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত না করার একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক পটভূমি।
[বিস্তারিত:
বাঙালি পল্টন ]
নজরুলের কৈশোরে গড়ে ওঠা শারীরিক সাহস, অভিযাত্রিক
মানসিকতা এবং যুদ্ধজীবনের প্রতি আকর্ষণের সঙ্গে এই নতুন সুযোগের একটি যোগসূত্র তৈরি
হয়। তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার প্রস্তুতি ও প্রিটেস্টের পর্যায়ে পড়াশোনা
ছেড়ে বাঙালি পল্টনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে নজরুলের এই সিদ্ধান্তকে কেবল যুদ্ধের প্রতি আকর্ষণ
দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। সিয়ারসোল রাজ স্কুলে পড়ার সময় তিনি ইতিমধ্যেই
ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী ভাবধারার সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁর শিক্ষক
নিবারণচন্দ্র ঘটক-এর প্রভাব এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিবেশ তাঁর মানসিক জগতে
গভীর ছাপ ফেলেছিল। প্রত্যক্ষ বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হলেও,
এই সময় তাঁর মধ্যে যে স্বাধীনতাকামী ও বিদ্রোহী চেতনার বিকাশ ঘটেছিল, পরবর্তী
জীবনে তার বহুমুখী প্রকাশ দেখা যায়।
বাঙালি পল্টনে যোগদানের ফলে তাঁর জীবনে একদিকে সামরিক অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে
সাহিত্য, সংগীত, ভাষা ও বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কে নতুন অভিজ্ঞতার দ্বার খুলে যায়।
পরবর্তী কালে তাঁর রচনায় যুদ্ধ, সাম্য, বিদ্রোহ, মানবমুক্তি ও বিশ্বমানবতার যে
তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, তার বিকাশে এই সময়কার অভিজ্ঞতার বিশেষ ভূমিকা
ছিল।
বাঙালি পল্টনে নজরুলের যোগদান
১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে নজরুল সিয়ারসোল রাজ স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যেই তিনি বাঙালি পল্টনে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন।
বাঙালি পল্টনে যাওয়ার আগে ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুলাই তিনি সিয়ারসোল থেকে তাঁর প্রাক্তন শিক্ষক মৌলবি আব্দুল গফুরকে একটি চিঠি লিখেছিলেন।
[দ্রষ্টব্য:
আব্দুল
গফুরকে পাঠানো পত্র]
চিঠিটিতে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কিছু দায়দায়িত্বের উল্লেখ ছিল। সেই দায় পরবর্তীকালে কীভাবে মিটেছিল, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না। চিঠিটি থেকে অবশ্য বোঝা যায় যে, তখন নজরুলের জীবনে একটি পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছিল।
এরপর তিনি বাঙালি পল্টনে যোগদানের ব্যাপারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। জীবনীমূলক সূত্র অনুযায়ী, ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩২৪ বঙ্গাব্দ) তিনি কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। প্রথমে লাহোর এবং পরে পেশোয়ারের নিকটবর্তী নওশেরা সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পৌঁছান।
নৌশেরাতে তিন মাসের সামারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে নৌশেরাতে সামারিক শিক্ষাকালে, তিনি একজন পাঞ্জাবী
মৌলবী সাহেবের কাছে ইরানি কবি হাফিজের রুবাই এবং গজল শুনে ফারসি ভাষা শেখা শুরু
করেন। এ প্রসঙ্গে নজরুল তাঁর 'রুবাই-ই-হাফিজ' অনুবাদ গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেলেন-
'আমি তখন স্কুল পালিয়ে যুদ্ধে গেছি। সে আজ ইরেজি ১৯১৭ সালের
কথা। সেইখানে প্রথম আমার হাফিজের সাথে পরিচয় হয়।
আমাদের বাঙালি পল্টনে একজন পাঞ্জাবী মৌলবী সাহেব থাকতেন। একদিন তিনি
দীওয়ান-ই-হাফিজ' থেকে কতকগুলি কবিতা আবৃত্তি ক'রে শোনান। শুনে আমি এমনি মুগ্ধ
হয়ে যাই, যে, সেইদিন থেকেই তাঁর কাছে ফার্সি ভাষা শিখতে আরম্ভ করি।'
হাফিজের সঙ্গে এই পরিচয় নজরুলের সাহিত্যজীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে তাঁর কবিতা ও গানে ফারসি শব্দ, ভাব, প্রতীক এবং সুফি কাব্যধারার যে প্রবল উপস্থিতি দেখা যায়, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল এই নওশেরার অভিজ্ঞতা।
করাচি সেনানিবাসে নজরুল
নওশেরায় প্রশিক্ষণ শেষে নজরুল ৪৯তম বেঙ্গলিজের সঙ্গে করাচি অঞ্চলে যান এবং করাচির গাজী লাইনে রেজিমেন্টের সদর দফতরে সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন।
এই সময় ৪৯তম বেঙ্গলিজের একটি অংশ মেসোপটেমিয়ায় সামরিক দায়িত্ব পালন করছিল। ব্রিটিশ বাহিনী বাগদাদ দখলের পর রেজিমেন্টের বিভিন্ন দল সেখানে নিরাপত্তা ও সামরিক-বেসামরিক স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে রেজিমেন্টের বিভিন্ন অংশ আজিজিয়া, কূত ও তানুমায় অবস্থান করে।
বাগদাদ ও মেসোপটেমিয়ার এই সামরিক দায়িত্বের সঙ্গে নজরুলের ব্যক্তিগত অবস্থানকে অবশ্য আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, নজরুলের সামরিক জীবনের প্রধান সময়টি করাচি সেনানিবাসেই অতিবাহিত হয়েছিল। ফলে ৪৯তম বেঙ্গলিজের মেসোপটেমিয়া-অভিযানের তথ্যকে সরাসরি নজরুলের ব্যক্তিগত যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করা সমীচীন নয়।
কোয়ার্টার স্টাফে নজরুল
১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাস (পৌষ-মাঘ, ১৩২৪ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত বাঙালি
পল্টনের একটি দল বাগদাদে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তবে ব্রিটিশ বাহিনী বাগদাদ দখল
করলে, বেঙ্গল পল্টনকে বাগদাদের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত হয়। এই সময় বাঙালি পল্টন
বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করে। বাগদাদে
অবস্থানের শেষের দিকে অসুস্থ হয়ে ৬৩ জন বাঙালি সৈন্য মৃত্যুবরণ করে ।
এ কারণে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে, ৪৯তম বেঙ্গলিজকে বাগদাদ থেকে আজিজিয়া এবং কূত-এ
পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থানকালে সৈনিকদের স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিশেষ উন্নতি না
হওয়ায়, অক্টোবর মাসের শেষের দিকে কূত থেকে এদেরকে বসরার সন্নিকটে তানুমাতে পাঠানো
হয়। তানুমা, কূত ও আজিজিয়া অবস্থানকালে বাঙালি সৈন্যরা মুলত বিভিন্ন নিরাপত্তা দায়িত্ব
পালন করে এবং এর পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।
যতদূর জানা যায়, ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের শুরু থেকেই নজরুল করাচিস্থ ৪৯তম বেঙ্গলিজের সদর দফতরে অবস্থান করছিলেন। বাঙালি পল্টনের সৈনিক শম্ভু রায়-এর লেখা চিঠি থেকে তাঁর সামরিক দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যায়।
প্রাণতোষ ভট্টাচার্যের কাছে লেখা শম্ভু রায়ের পত্রে জানা যায়, কোয়ার্টার মাস্টার জমাদার মণীরুদ্দীন আহমদ শম্ভু রায়কে অনুরোধ করেছিলেন যেন নজরুলকে তাঁর অধীনে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই আবেদনের ফলে নজরুল কোয়ার্টার স্টাফে নায়েক হিসেবে নিযুক্ত হন।
[শম্ভু রায়ের পত্র:
৫ম পত্র]
এই নিয়োগ তাঁর জীবনে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এর ফলে তিনি নিয়মিত প্যারেড, গার্ড ডিউটি ও ফেটিগ ডিউটির মতো কিছু কঠোর সামরিক দায়িত্ব থেকে তুলনামূলকভাবে অবকাশ পান। ফলে সৈনিকজীবনের বাঁধাধরা কাজের বাইরে বাংলা সাহিত্য পাঠ ও লেখালেখির জন্য তিনি পর্যাপ্ত সময় পেতে থাকেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পদে উন্নীত হন। কোয়ার্টার স্টাফের অন্যতম কাজ ছিল সৈনিকদের প্রয়োজনীয় পোশাক ও অন্যান্য সামরিক সামগ্রী সরবরাহ করা। বুট, প্যান্ট, কোট, মোজা, কম্বল ইত্যাদি সরঞ্জামের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
এই কাজের সুবাদে নজরুলের হাতে তুলনামূলক অবসর সময় আসে এবং সেই সময়টিই তিনি সাহিত্যচর্চায় কাজে লাগান।
এই কাজে থাকার সুবাদে তিনি সে সময়ের তিনি তৎকালীন প্রখ্যাত
বাঙালি লেখকদের
রচনা পাঠ করার প্রচুর সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর এই পাঠের প্রধান উৎস ছিল কলকাতা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলা সাময়িকী।
এর ভিতরে উল্লেখযোগ্য সাময়িকী ছিল
প্রবাসী,
ভারতী,
বঙ্গীয়
মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা,
সওগাত ,
মানসী ও মর্ম্মবাণী,
সবুজপত্র
ইত্যাদি।
শম্ভু রায়ের পত্র থেকে জানা যায়, এই নজরুলের সংগ্রহে ছিল
রবীন্দ্রনাথ
ও
শরৎচন্দ্রের
রচনা। এরই মধ্য দিয়ে তাঁর ভিতরে জেগে উঠেছিল তাঁর
লেখক হওয়ার বাসনা। এই সূত্রে তিনি করাচি সেনানিবাস থেকে পত্রযোগে বিভিন্ন পত্রিকার
সাথে যোগাযোগ করা শুরু করেন। এসকল পত্রের সাথে তিনি তাঁর রচিত গল্প ও কবিতা পাঠানো
শুরু করেন। কিন্তু সদ্য পাঠানো রচনাগুলো- অপটু হাতের লেখা বিবেচনায় বাতিল হয়ে যেতো।
তারপরেও তিনি নিরুৎসাহিত না হয়ে সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রাখেন। অবশেষে তাঁর প্রথম রচনা
সওগাত
পত্রিকার
জ্যৈষ্ঠ ১৩২৬ (মে-জুন
১৯১৯) সংখ্যায় 'বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী' নামে প্রকাশিত হয়েছিল।
সে সময়ে এই সেনানিবাসের বাঙালি সৈনিকদের সঙ্গীতদল নজরুলের ঘরের সামনে গানের আসর
বসাতেন। সে আসরে নজরুল গান পরিবেশন করে দর্শকদের আনন্দ দিতেন। সৈনিকদের পরিবেশিত
কয়েকটি গানের উল্লেখ পাওয়া যায়
শম্ভু রায়ের পত্র
থেকে। এ গানগুলোর ভিতরে ছিল- চালাও পানসি বেলঘরিয়া, ঘি চপচপ কাবলী মটর, দে গরুর
গা ধুইয়ে। নজরুলের
হারমোনিয়ামে হাতে খড়ি হয়েছিল
চুরুলিয়াতে। তবে অর্গযান বাজানো
শিখেছিলেন হাবিলদার নিত্যানন্দ দে-র কাছে।
রুশ বিপ্লব ও নজরুলের রাজনৈতিক চেতনা
করাচিতে অবস্থানকালে নজরুল সমকালীন বিশ্বরাজনীতির প্রতিও গভীর আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিশেষভাবে ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের রুশ বিপ্লব তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সে সময়ে ব্রিটিশ
বাহিনীতে রুশ বিপ্লব সম্পর্কে আলোচনা বা এই বিষয়ের কোনো রচনা পড়া নিষিদ্ধ ছিল। সে কারণে
রুশ বিপ্লবে আগ্রহী সৈনিকরা গোপনে সে
সব রচনা পাঠ করতেন। নজরুল এই দলে ছিলেন। পল্টনের
জীবন শেষ
কলকাতায় নজরুলের সাথে
মুজাফ্ফর আহমদরে
সমাজতন্ত্রের দর্শনে যে মতৈক্য হয়েছিল, তার সূত্রপাত ঘটেছিল করাচি সেনানিবাসে।
পত্রযোগাযোগের মাধ্যমে সখ্য গড়ে উঠেছিল
বঙ্গীয়
মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার সহ-সম্পাদক
মুজাফ্ফর আহমদরে
সাথে। উল্লেখ্য, ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে (বৈশাখ ১৩২৫) কলকাতার ৪৭/২ মির্জাপুর
স্ট্রিট থেকে
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা'র প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। শুরুর দিকে
ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ও
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের
যৌথ সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো। এর সহ-সম্পাদক ছিলেন তিনজন। এঁরা হলেন
মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ, মঈনউদ্দীন হোসায়েন ও
কমরেড মোজাফ্ফর আহমদ
। নজরুল এই পত্রিকার শুরু থেকেই গ্রাহক হয়েছিলেন
মুজাফ্ফর আহমদ-এর মাধ্যমে।
মুজাফ্ফর আহমদ তাঁর কাজী নজরুল স্মৃতি কথা' গ্রন্থে
এ সম্পর্কে লিখেছেন-
'৪৯ নম্বর বেঙ্গলী রেজিমেন্টের
(49th Bengali Regiment)
কয়েকজন সৈনিক শুরু
থেকেই অর্থাৎ ১৯১৮ সালের এপ্রিল-মে মাস হতেই "
বঙ্গীয়
মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার গ্রাহক হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্য হতে কেউ কেউ আমাদের সঙ্গে পত্রালাপও করতেন। কাজী
নজরুল ইসলামও এই পত্রালাপকারীদের একজন ছিল।'
নজরুলের ১৮ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সে কোনো রচনা ছাপার অক্ষরে
প্রকাশিত হয় নি। কিন্তু বাঙালি পল্টনে যোগদান নজরুলের জীবনে শুধু সামরিক অধ্যায়ের সূচনা করেনি; এটি তাঁর মানসিক ও সাহিত্যিক বিকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।
সিয়ারসোলের ছাত্রজীবনে তিনি বিপ্লবী ভাবধারার সংস্পর্শে এসেছিলেন। নওশেরায় এসে পরিচিত হন হাফিজ ও ফারসি সাহিত্যের সঙ্গে। করাচিতে তিনি বিস্তৃতভাবে বাংলা সাহিত্য পাঠ করেন, গল্প-কবিতা লেখা শুরু করেন, সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখেন এবং সমকালীন বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে রুশ বিপ্লব, সাম্যবাদী চিন্তা ও মানবমুক্তির ধারণার প্রতিও তাঁর আগ্রহ জন্মায়।
অতএব, সিয়ারসোল থেকে বাঙালি পল্টন, নওশেরা থেকে করাচি—এই সামরিক যাত্রাপথই নজরুলের জীবনে এক বিশেষ সৃজনশীল প্রস্তুতিপর্ব। সৈনিকের পোশাকের আড়ালে এই সময়েই ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিলেন ভবিষ্যতের কবি, গীতিকার, সংগীতস্রষ্টা ও বিদ্রোহী নজরুল ইসলাম।
নজরুলের ১৯ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স
১৩২৫ বঙ্গাব্দের ১০ই জ্যৈষ্ঠ (শুক্রবার, ২৪ মে ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ)
কাজী নজরুল ইসলামের ১৮ বৎসর বয়স পূর্ণ হয়েছিল। তাঁর ১৯ বৎসরে বয়সের সূচনা হয় ১৩২৫
বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ (শনিবার, ২৫ মে ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ) এবং ১৯ বৎসর পূর্ণ হয়
১৩২৬ বঙ্গাব্দের ১০ই জ্যৈষ্ঠ (শনিবার, ২৪ মে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ)।
নজরুলের ১৯ বৎসর বয়সের এই পর্বের অধিকাংশ সময় কেটেছিল করাচিস্থ ৪৯ নম্বর বেঙ্গলি রেজিমেন্টের সদর দফতরে। সৈনিকজীবনের আড়ালে সিয়ারসোলের ছাত্রজীবনের কবি, লেটো দলের গীতিকার ও সংগীতশিল্পী নজরুলের সাহিত্যপ্রেম এ সময় নতুনভাবে জেগে ওঠে। করাচি সেনানিবাসের শিল্প-সাহিত্যবর্জিত এবং প্রধানত অবাঙালি পরিবেশে কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্র-পত্রিকাগুলো তাঁর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
সৈনিকজীবনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বাংলা সাহিত্য পাঠ করতেন, বিভিন্ন পত্রিকার সঙ্গে পত্রযোগাযোগ করতেন এবং নিজের লেখা কবিতা ও গল্প প্রকাশের জন্য পাঠাতে থাকেন। এই সময়েই তাঁর সাহিত্যিক আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হতে থাকে।
সওগাত ও নজরুল
নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের প্রথম প্রকাশিত রচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল
সওগাত পত্রিকা। পত্রিকাটি
মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ২ ডিসেম্বর (সোমবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ)। প্রথমদিকে এটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হতো। পত্রিকাটিকে কেন্দ্র করে কলকাতায় একটি সাহিত্যিক পরিমণ্ডলও গড়ে উঠেছিল।
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কিছুদিন পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে
পুনরায় প্রকাশিত হয়। নজরুল এই পত্রিকার গ্রাহক হয়েছিলেন এবং ১২জন গ্রাহক সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন। গ্রাহক
সংগ্রহের জন্য
সওগাত পত্রিকার 'বৈশাখ ১৩২৬' সংখ্যায়
নজরুলকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছিল।
নজরুল শুধু পত্রিকাটির গ্রাহকই ছিলেন না; তিনি নিয়মিতভাবে নিজের লেখা
সওগাত-এ পাঠাতেন। তবে প্রথমদিকে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়নি। পত্রিকার সম্পাদকমোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন পরবর্তীকালে
'সওগাত ও নজরুল' প্রবন্ধে এই
সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন-
'এই সময়েই হাবিলদার কাজী নজরুল ইসলামের করাচীর বাঙালী পল্টন থেকে 'সওগাত'-এর
লেখা পাঠাতে শুরু করেন। প্রতি লেখার সাথেই তিনি দীর্ঘ পত্র পাঠাতেন। তখনকার
লেখাগুলো ছিল কিছুটা উচ্ছ্বাস-ভরা, সামঞ্জস্যহীন। এসব কারণে তাঁর লেখা 'সওগাতে'
প্রকাশ করা তখন সম্ভবপর হয় নি। একজন, উচ্ছ্বাসময় ও আবেগময় কবিযশপ্রার্থীর কাঁচা
রচনা হিসাবেই তখন সে-সব লেখা বিবেচিত হত, এবং যথারীতি নিক্ষিপ্ত হতো কাগজ-ফেলার
ঝুড়িতে। কিন্তু এতেও এই কবিযশপ্রার্থী নিবৃত্ত হতেন না, তিনি লেখা পাঠাতেই
থাকতেন।'
নাসিরুদ্দিনের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, তখনকার লেখাগুলো ছিল কিছুটা উচ্ছ্বাসপূর্ণ ও অসংলগ্ন। ফলে সেগুলো প্রকাশের উপযোগী বলে সম্পাদক মনে করেন
নি। কিন্তু বারবার লেখা প্রত্যাখ্যাত হলেও নজরুল লেখা পাঠানো বন্ধ করেননি।
এই প্রত্যাখ্যান তাঁর সাহিত্যসাধনাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। বরং করাচি সেনানিবাসে বসেই তিনি নিজের লেখার ভাষা ও প্রকাশভঙ্গি ক্রমশ পরিশীলিত করতে থাকেন।
বাউন্ডেলের
আত্মকাহিনী
লেখা ছাপা না হওয়ার দুঃখ ও অভিমান নজরুলের মনে জমা হয়েছিল। এরই ভিতরে নজরুলের
প্রথম একটি রচনা '
বাউন্ডেলের
আত্মকাহিনী' প্রকাশিত হয়েছিল সওগাত পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩২৬ (মে-জুন
১৯১৯) সংখ্যায়।
মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন
এ বিষয়ে তাঁর -'সওগাত' ও নজরুল' প্রবন্ধে লিখেছেন-
'একদিন নজরুলের এক চিঠি এসে হাজির। তাতে আবেগ আর অভিমানের সুর জড়ানো। 'সওগাতে'
প্রকাশের জন্য বহু কবিতা পাঠালাম, কিন্তু একটিও ছাপা হলো না।'- যতদূর মনে পড়ে
চিঠিতে এই ছিল আবেদন। অবশ্য তখন পর্যন্ত কোনো কবিতা 'সওগাত'-এ প্রকাশিত না হলেও '
বাউন্ডেলের
আত্মকাহিনী ' নামে আবেগময় রচনা প্রকাশিত হয়েছিল। 'সওগাত'-এর
প্রথম বর্ষ ৭ম সংখ্যা, জ্যৈষ্ঠ ১৩২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত এই রচনাটি উচ্ছ্বাসপূর্ণ
হলেও ছিল বেশ সুন্দর আর আকর্ষণীয়। এই গুণেই রচনাটি প্রকাশিত হয়েছিল 'সওগাত'।
ছাপার অক্ষরে এটাই নজরুলের প্রথম গদ্যরচনা।'
যদিও মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন
'বাউন্ডেলের
আত্মকাহিনী'-কে 'ছাপার অক্ষরে এটাই
নজরুলের প্রথম গদ্যরচনা' উল্লেখ্ করেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে নজরুলের যেকোনো রচনার
বিচারে এটাই ছিল প্রথম ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত রচনা। স্মৃতিচারণা অনুসরণ করলে, অনুমান করা যায়
১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ-এপ্রিলের দিকে '
বাউন্ডেলের
আত্মকাহিনী' নামক গল্প রচিত হয়েছিল।
পরে এই গল্পটি '
রিক্তের
বেদন' (ডিসেম্বর ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দ) গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল।
করাচি সেনানিবাসে থাকাকালে
'বাউন্ডেলের
আত্মকাহিনী' ছাড়া
নজরুলের রচিত বেশ কিছু রচনা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল ১৩২৬ বঙ্গাব্দের
জ্যৈষ্ঠ মাসের পরে। এই রচনাগুলোর রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দষ্টভাবে জানা যায় নি। তাই
প্রকাশের বিচারে এ সকল রচনাগুলোকে নজরুলের ২০ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সের ঘটনবলীর সাথে
আলোচনা করা হলো।
১৯১৯-এর রাজনৈতিক পরিবেশ ও নজরুল
এই সময় ভারতীয় রাজনীতিতে দুটি বিশেষ ঘটনা নজরুলকে তীব্রভাবে
আঘাত হেনেছিল। যা তাঁর ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাবকে আরো তীব্রতর করেছিল। ঘটনা দুটি হলো-
- ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই মার্চ (মঙ্গলবার,
৪ চৈত্র ১৩২৫ বঙ্গাব্দ) একটি সন্ত্রাস বিরোধী এবং দমনমূলক আইন হিসেবে
রাওলাট
আইন
১৯১৯ (The Rowlatt Act of 1919)
পাশ হয়।
মহাত্মা গান্ধী, এই আইন
বাতিলের জন্য দরখাস্ত করেন। এপ্রিল মাসে সর্বভারতীয় সত্যগ্রহ আন্দোলন শুরু হয়,
এবং হরতাল পালিত হয়।
- ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই এপ্রিল (রবিবার, ৩০ চৈত্র ১৩২৫ বঙ্গাব্দ) তারিখে
জালিয়ানওয়ালবাগ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
নজরুলের পরবর্তী সাহিত্য ও রাজনৈতিক চেতনার দিকে তাকালে দেখা যায়, এই সময়কার ভারতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁর মধ্যে স্বাধীনতা, অন্যায়বিরোধিতা ও মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে আরও তীব্র করে তুলেছিল। তবে তাঁর কোনো নির্দিষ্ট রচনার সঙ্গে এই দুটি ঘটনার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে পৃথক প্রমাণের প্রয়োজন; তাই কালগত নৈকট্যকে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
১৯ বৎসর বয়সের সমাপ্তি
১৩২৬ বঙ্গাব্দের ১০ই জ্যৈষ্ঠ (শনিবার, ২৪ মে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ) নজরুলের ১৯ বৎসর বয়স পূর্ণ হয়। এই সময় পর্যন্ত তিনি ৪৯ নম্বর বেঙ্গলি রেজিমেন্টের সদস্য হিসেবে করাচিতে অবস্থান করছিলেন।
এই বয়সপর্বে তাঁর জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল- একদিকে সৈনিকজীবনের শৃঙ্খলা, অন্যদিকে সাহিত্য ও সংগীতের প্রতি ক্রমবর্ধমান আকর্ষণ। নওশেরায় হাফিজের সঙ্গে পরিচয় ও ফারসি ভাষাশিক্ষা, করাচিতে বাংলা সাহিত্য পাঠ, পত্র-পত্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ, নিজের লেখা প্রকাশের চেষ্টা এবং সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে সচেতনতা-
সব মিলিয়ে এই সময়টি তাঁর ভবিষ্যৎ সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক জীবনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিপর্ব হয়ে ওঠে।
পরবর্তী বয়সপর্বে করাচি সেনানিবাসের এই সাহিত্যচর্চার ফল আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হবে। তাঁর একের পর এক কবিতা, গল্প ও অন্যান্য রচনা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হতে শুরু করবে এবং সৈনিক নজরুল ধীরে ধীরে বাংলা সাহিত্যের পরিসরে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন।
সূত্র:
- কাজী নজরুল। প্রাণতোষ ভট্টাচার্য। ন্যাশনাল বুক এজেন্সী প্রাইভেট লিমিটেড।
কলকাতা-১২। ১৩৭৩ বঙ্গাব্দ
- কাজী নজরুল ইসলাম। বসুধা চক্রবর্তী। ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট ইন্ডিয়া। নয়
দিল্লী। জানুয়ারি ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- কেউ ভোলে না কেউ ভোলে। শৈলাজানন্দ মুখোপাধ্যায়। নিউ এজ পানলিশার্স প্রাইভেট
লিমিটেড। আগষ্ট ১৯৬০।
- নজরুল-জীবনী। রফিকুল ইসলাম। নজরুল ইন্সটিটউট, ঢাকা। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ।
- নজরুল তারিখ অভিধান। মাহবুবুল হক। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জুন ২০১০
খ্রিষ্টাব্দ।
- নজরুল জীবনী। অরুণকুমার বসু। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি। জানুয়ারি ২০০০।
- নজরুল রচনা সম্ভার। আব্দুল কাদির সম্পাদিত। ইউনিভার্সল বুক ডিপো। কলিকাতা।
১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দ।
- নজরুল রচনাবলী। জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। নবম খণ্ড। বাংলা একাডেমি। ঢাকা। মাঘ
১৪১৫/ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
- বিদ্রোহী-রণক্লান্ত, নজরুল জীবনী। গোলাম মুরশিদ। প্রথমা, ঢাকা। ফেব্রুয়ারি
২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ।