নিয়োআর্কিয়ান যুগ

Neoarchean era
২৮০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।


আর্কিয়ান কালের দ্বিতীয় যুগ। আগের মেসোআর্কিয়ান যুগ ২৯০ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে বাল্টিক ঢাল-ভূখণ্ড অবলম্বনে যখন কেনোরল্যাণ্ডের গড়ে উঠা শুরু হয়, তখন ভাল্বারা মহা-মহাদেশ এবং উর মহাদেশ সুস্থির অবস্থাতেই ছিল। কিন্তু ২৮১ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে উর এবং ভাল্বারা উভয়েরই ভাঙন শুরু হয়। এর ভিতরে উর মহাদেশটির বৃহৎ অংশ পরে কেনোরল্যান্ড মহা-মহাদেশের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।

ইতিমধ্যে ভাল্বারা মহা-মহাদেশের ভাল্‌বারা এবং অষ্ট্রেলিয়ার পিলবারা ক্র্যাটন কেনোরল্যান্ডের সাথে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। ২৭৭ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে পিলবারা ক্র্যাটনের দক্ষিণাঞ্চলে হ্যামারস্লে বেসিন (Hamersley Basin) আত্মপ্রকাশ করে। আর কাপ্‌ভাল ক্র্যাটনের উত্তর প্রান্তে ২৭৫ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে তৈরি হয় রেনোস্কটের্কোপ্পিস গ্রিনস্টোন বেল্ট তৈরি হয়। ২৭৩ কোটি ৬০ লক্ষ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে কানাডার টেমাগামি গ্রিনস্টিন বেল্ট তৈরি হয়।

এই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে ২৭০ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে কেনোরল্যাণ্ড একটি বিশাল আকার লাভ করে। ২১০ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে কেনোরল্যাণ্ড মহা-মহাদেশটি বিভাজিত হয়ে যায়।

এই সময় প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছিল দীর্ঘসময় ধরে।  ফলে ভূভগের উপর প্রবল পানির চাপসহ প্রবল স্রোতের কারণে মহা-মহাদেশটির বিভাজনকে সহজ করে দিয়েছিল। বৃষ্টিপাতের ফলে বাতাসের কার্বন-ডাই-অক্সাইড দ্রবীভূত হয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে শীতলীকরণে পথে ঠেলে দিয়েছিল। এই সূত্রে পৃথিবীতে নেমে এসেছিল, প্রথম বরফ যুগ (ice age, এই যুগ ভূতাত্ত্বিক সময়-মানের একক নয়) সুচনা ঘটেছিল। একে বলা হয় হুরোনিয়ান বরফযুগ বলা হয়।

২৭০ কোটি ৭ লক্ষ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে তৈরি হয় ব্ল্যাকল রিভার মেগাক্যাল্ডেরা কম্প্লেক্স তৈরি হয়। এই অঞ্চল বর্তমানে কানাডার ওন্টারিও এবং কুইবেক অংশ উৎপন্ন হয়।
২৫০ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে আর্কিটিকা মহাদেশ তৈরি হয়েছিল। এর ভিতর দিয়ে শেষ হয়ে যায়  আর্কিয়ান কাল। এর
পর শুরু হয় প্রোটেরোজোইক কাল

জীবন (life)
স্বক্ষেত্র
(Domain) : Archaea

জীবজগৎ
জীবের ক্রমবিকাশের ধারায় আদি জীবকোষে
প্রাণকেন্দ্র  যুক্ত হয়ে, জীবজগতের নতুন ধারার সূচনা হয়। এই জাতীয় কোষকে বলা হয় সু-প্রাণকেন্দ্রিক  কোষ (Eukaryotic cell)। ১৯৯৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ভূতত্ত্ববিদরা উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিছু পাথরের সন্ধান এদের সন্ধান পান। এই পাথরগুলো ২৭০ কোটি বৎসর আগে সৃষ্টি হয়েছিল। এই পাথরের গায়ে কিছু তৈলাক্ত পদার্থ পাওয়া যায়। এই তেলের ভিতর পাওয়া গেছে স্টেরয়েড এ্যালকোহল। যেহেতু এই এ্যালেকোহল যুক্ত ফ্যাটি এ্যাসিড একমাত্র প্রাণকেন্দ্র-যুক্ত জীবকোষে পাওয়া যায়। তাই ধারণা করা যায় প্রাণকেন্দ্র-যুক্ত জীবকোষের সু-প্রাণকেন্দ্রীয় কোষ উদ্ভব এই যুগেই হয়েছিল। এর অর্থই হলো সু-প্রাণকেন্দ্রীয় কোষ-এর অন্যতম উপাদান ডিএনএ [deoxyribonucleic acid (DNA)] তৈরি হয়েছিল আরও আগে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, প্রাণকেন্দ্র-যুক্ত কোষের আবির্ভাব ঘটেছিল দুটি পৃথক ধরনের একক জীব কণিকার সমন্বয়ে। এই ধরনের জীব-কণিকাগুলো পারস্পরিক স্বার্থে একটি অপরটি ভিতরে জায়গা করে নিত। এদের একটি অক্সিজেন থেকে চিনি জাতীয় জৈবিক খাদ্য প্রস্তুত করতে পারতো এবং এই চিনি  অপর জীবকণিকাকে প্রদান করতো। অপর জীবকণিকা এই চিনি গ্রহণ করে, তা থেকে শক্তি উৎপাদন করতো এবং তা উভয় জীবকণিকা ভাগাভাগি করে নিত। চিনি উৎপাদনকারী এই জীবকণিকা বা ব্যাক্টেরিয়াগুলো অর্গানেলস (organelles) বলা হয়ে থাকে। এরা নিজেদের বংশ বিস্তার করার ক্ষমতা অর্জন করেছিল।


সূত্র
http://en.wikipedia.org/wiki/Paleogene