মেসোআর্কিয়ান যুগ

Mesoarchean  Era
৩২০-২৮০ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দ।

আর্কিয়ান কালের তৃতীয় যুগ। এই যুগের পূর্ববর্তী যুগ হলো- প্যালেয়োআর্কিয়ান যুগ ৩৬০-৩২০ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দ

এই যুগের শুরুতে উর মহাদেশের প্রাথমিক গঠন সম্পন্ন হয় এবং ধীরে ধীরে মহাকাশীয় অবয়ব ধারণের পথে অগ্রসর হয়। মূলত ৩২০ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দের দিকে ভাল্বারার উত্তরাংশে একটি পৃথক স্থলভূমি তৈরির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এর আকার ছিল বর্তমান অষ্ট্রেলিয়ার চেয়েও ছোট। ভাল্বারার বিচারে তুলনা করে বিজ্ঞানীরা একে মহাদেশ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। নতুন এই  মহাদেশকে বিবেচনা করা হয়, পৃথিবীর প্রথম মহাদেশ। জর্মান 'Ur' শব্দের অর্থ হলো আদি বা মূল। প্রথম মহাদেশে হিসেবে বিজ্ঞানীরা 'উর (Ur)' গ্রহণ করেছেন। বাংলায় Ur continent -এর অর্থ হয় 'আদি মহাদেশ'। ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে এর নামকরণ করেছিলেন Rogers, John J.W.
 

৩২০ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দের দিকে ভারতের পশ্চিম কর্ণাটক ক্র্যাটন এবং সিংহভূম ক্র্যাটন যুক্ত হয়ে একটি অখণ্ড ভূখণ্ড তৈরি হয়েছিল। ৩০০ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দের এই ক্র্যাটন দুটি সুস্থির দশায় পৌঁছেছিল।  এর ফলে উর মহাদেশ সামায়িকভাবে দৃঢ়তা লাভ করে।

৩১০ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দে ভাল্বার একটি পরম আকার লাভ করেছিল। কিন্তু এরপর থেকে এর বড় বড় ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। বিশেষ করে বাল্টিক ঢাল-ভূখণ্ড কোলা সাগরের নিচে ডুবে যায়।

৩০০ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দের দিকে শেষ পর্যন্ত ভাল্বারা ভেঙে যেতে থাকে। এই সময় তাঞ্জানিয়া ক্র্যাটনের প্রাথমিক শিলাস্তরে তৈরি হয়।

২৯০ কোটি পূর্বাব্দে বাল্টিক ঢাল-ভূখণ্ড অবলম্বনে যখন কেনোরল্যাণ্ডের গড়ে উঠা শুরু হয়, তখন ভাল্বারা মহা-মহাদেশ এবং উর মহাদেশ সুস্থির অবস্থাতেই ছিল। এরপর ভাল্বারা মহা-মহাদেশের ভাঙন শুরু হয়।

২৯৪ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দের ভিতরে পূর্বে সৃষ্ট ছোটো ছোটো ভূখণ্ড মিলে তৈরি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ইলগ্রিন ক্র্যাটন।

৮১ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দের ভিতরে  ভাল্বার এবং উর মহামহাদেশের ভাঙন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। এই সময় বাল্টিক ঢাল-ভূখণ্ড অবলম্বনে কেনোরল্যাণ্ড নামক মহা-মহাদেশের সূচনা হয় এবং ধীরে তা এই মহা-মহাদেশের আকার ধারণ করে। এর ভিতর দিয়ে মেসোআর্কিয়ান যুগ-এর অবসান ঘটে। এরপর শুরু হয় নিয়ো-আর্কিয়ান যুগ-এর।

জীবকোষের নতুন ধারা: সু-প্রাণকেন্দ্রিক কোষ
প্যালেয়োআর্কিয়ান যুগ ৩৫০ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাদের দিকে প্রাক্-প্রাণকেন্দ্রিক কোষ-ভিত্তিক আদি জীবকণিকা বিভাজিত হয়ে দুটি ধারার জীবজগতের সূচনা করে। এই ভাগ দুটি হলো ব্যাক্টেরিয়া (bacteria ) এবং আর্কিয়া  (archaea)। জীববিজ্ঞানের শ্রেণিকরণে এই দুই জাতীয় জীবকে জীব-স্বক্ষেত্র (Domain) বলা হয়। ৩০০ বৎসর থেকে ১৬০ কোটি পূর্বকালে পৃথিবীর জীবজগতের প্রতিনিধি ছিল ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া'র এবং আর্কিয়া ব্যাক্টেরিয়াগুলোতে ছিল প্রাক্-প্রাণকেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotes)। অর্থা এই সকল কোষে কোন নিউক্লিয়াস, ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া, কোষ গহ্বর ইত্যাদি ছিল না। ৩৫০-৩০০ কোটি বছরের এই জীবকণিকাগুলো বিকশিত হয়েছিল।


সূত্র
http://en.wikipedia.org/wiki/Paleogene