প্যালেয়োআর্কিয়ান যুগ

Paleoarchean  Era
৩৬০ কোটি থেকে ৩২০ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দ।

আর্কিয়ান কালের দ্বিতীয় যুগ। উল্লেখ্য, প্রথম যুগটি ছিল ইয়ো-আর্কিয়ান যুগ (৪০০ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি পূর্বাব্দ)। গ্রিক Palaios শব্দের অর্থ প্রাচীন। এই শব্দ থেকে এই যুগের নামকরণ করা হয়েছে।


 

এই যুগের শুরুতে অর্থাৎ ৩৬০ কোটি পূর্বাব্দের দিকে পিলবারা ক্র্যাটনটি আদি দশা নিয়ে কাপ্‌ভালের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। পরে  পিলবারা ক্র্যাটন পূর্ণতা লাভ করেছিল ২৭০ কোটি পূর্বাব্দের ভিতরে। উল্লেখ্য পিলবারা ক্র্যাটন এখন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার অংশ। উভয় ক্র্যাটনের মিলিত হয়ে তৈরি হয় পৃথিবীর প্রথম মহা-মহাদেশ ভাল্বারা এই দুই ক্র্যাটনের নামানুষরে, ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে এই মহা-মহাদেশের নামকরণ করা হয় উভয় ক্র্যাটনের চারটি করে বর্ণ নিয়ে।
  Kaapvaal + Pilbara =
Vaalbara

ধারণা করা হয় ৩৬০ থেকে ৩২০ কোটি বৎসরে দিকে কাপ্‌ভালা ক্র্যাটনের বার্বের্টোন গ্রিনস্টোন বলয়ে উদ্ভব হয়েছিল মাখোঞ্জওয়া পর্বতমালা।  এই পর্বতমালার দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ৬০ কিলোমিটার। এর শৃঙ্গগুলোর উচ্চতা ৬০০ থেকে ১৮০০ মিটার। অন্যদিকে ৩৫০-৩২০ কোটি পূর্বাব্দে ভাল্বারার পিলবারা অঞ্চলের এই রুক্ষ প্রান্তরে হঠাৎ আঘাত হেনেছিল ছিটকে পড়া অন্তত চারটি কার্বন-সমৃদ্ধ গ্রহাণু। এর ফলে বিপুল উত্তাপ এবং ধুলোবালি বায়ুমণ্ডলকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছিল নানা ধরনের গ্যাসীয় উপকরণ। উভয় প্রক্রিয়ার ভিতরে এই সময় পুরো ভাল্বারা জুড়ে ছিল এবড়ো থেবড়ো বন্ধুর ভূমি। কোথায় মাথা উঁচু করে ছিল আদিম পর্বতশৃঙ্গ। আবার পাথুরে ভূত্বকের কোথাও জমেছিল বিপুল পরিমাণ জমেছিল ধুলোর স্তর। কোথাও কিম্বা বৃষ্টিতে পানিতে ভিজে তৈরি হয়েছিল কাদার আস্তরণ।

জীবজগৎ
ইয়ো-আর্কিয়ান যুগের (৪০০ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি পূর্বাব্দ) ৩৯০ কোটি বছর আগের আদি জীবকণিকাগুলোর দেহে তৈরি হয়েছিল কেমো-অটোট্রোপ্স (chemoautotrophs) উপকরণ। এর সাহায্যে এরা বাতাসের কার্বন-ডাই-অক্সাইড থেকে কার্বন সংগ্রহ করতো এবং অক্সিজেন-ঘটিত পদার্থ ত্যাগ করতো। এই জীবকণিকা থেকে তৈরি হয়েছিল প্রাক্-প্রাণকেন্দ্রিক কোষ উদ্ভব হয়েছিল জৈবিক-পদার্থের সমন্বয়ে। এদের দেহে সৃষ্টি হয়েছিল গ্লাওকোলাইসিস Glycolysis প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত শক্তি জীবকণিকাগুলোর ভিতরে সঞ্চালিত হতো।

আদি জীবকোষগুলো ছিল প্রাক্-প্রাণকেন্দ্রিক (Prokaryotes)। অর্থা এই জাতীয় কোষে কোনো সুষ্পষ্ট প্রাণকেন্দ্র  ছিল না। অধিকাংশ প্রাক্-প্রাণকেন্দ্রিক কোষযুক্ত জীবদেহ একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত হয়েছিল এই কোষে সুসংগঠিত ডিএনএ, মাইটোকণ্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, লাইসোজোম, গলজি বস্তু অনুপস্থিত। সাধারণত এই কোষের আকার এক থেকে দশ মাইক্রোমিটার (µm) এর মধ্যে হয়ে থাকে।  ৩৮০ কোটি বছর আগে এই আদি জীবকোষেরই একটি প্রজাতি আর্কেব্যাক্টেরিয়ার  উদ্ভব ঘটেছিল। প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগের পুরানো জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে, এই ব্যাক্টেরিয়া পূর্বপুরুষদের অস্তিত্বের কথা জানা গেছে। এরা ভিন্ন প্রক্রিয়ায় সালোকসংশ্লেষণের কাজ করতো। কার্বন , হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ম্যাগনেশিয়াম-এর একটি যৌগিক অণুর সাথে- হাইড্রোকার্বন যৌগ যুক্ত হয়ে তৈরি হয়েছিল ক্লোরোফিল

৩৫০ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দে, প্রাক্-প্রাণকেন্দ্রিক কোষ-ভিত্তিক আদি জীবকণিকা বিভাজিত হয়ে দুটি ধারার জীবজগতের সূচনা করে। এই ভাগ দুটি হলো ব্যাক্টেরিয়া (bacteria ) এবং আর্কিয়া  (archaea)। জীববিজ্ঞানের শ্রেণিকরণে এই দুই জাতীয় জীবকে জীব-স্বক্ষেত্র (Domain) বলা হয়।

আর্কিব্যাক্টেরিয়ার প্রাচীনতম নমুনা পাওয়া গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Yellowstone National Park.-এ

বহুদিন ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে ব্যাক্টেরিয়া এবং আর্কেব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য স্পষ্ট ছিল না। ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে Carl Woese এবং George Fox উভয় জীবকণিকার পার্থক্য নিরূপণ করে আর্কেব্যাক্টেরিয়াকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করতে সমর্থ হন। উল্লেখ্য  আর্কেব্যাক্টেরিয়ার প্রাচীনতম নমুনা পাওয়া গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Yellowstone National Park.-এ। এই বিজ্ঞানীদ্বয় কিছু জীবকণিকা প্রাপ্তির সূত্রে আর্কিয়া এবং ব্যাক্টেরিয়া ডোমেইন হিসেবে ভাগ করেন। ধারণা করা হয়, ৩০০ বৎসর থেকে ১৬০ কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দে পৃথিবীর জীবজগতের প্রতিনিধি ছিল ব্যাক্টেরিয়া'র এবং আর্কিয়া এই ব্যাক্টেরিয়াগুলোতে ছিল প্রাক্-প্রাণকেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotes)। অর্থা এই সকল কোষে কোন নিউক্লিয়াস, ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া, কোষ গহ্বর ইত্যাদি ছিল না। ৩৫০-৩০০ কোটি বছরের এই জীবকণিকাগুলো বিকশিত হয়েছিল।

এর পরবর্তীয় যুগ হলো  মেসোআর্কিয়ান যুগ (৩২০ কোটি থেকে ২৮০ কোটি পূর্বাব্দ)।
 


সূত্র
http://en.wikipedia.org/wiki/Paleogene