পঞ্চম
ভারতীয় সঙ্গীতশাস্ত্রের একটি
রাগ বিশেষ।
খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে মতঙ্গের রচিত বৃহদ্দেশী গ্রন্থে
[পৃষ্ঠা: ১৯২]
যাষ্টিকে উদ্ধৃতিতে
গ্রামরাগ ও এর ভাষারাগের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, পঞ্চমকে গ্রামরাগ হিসেবে উল্লেখ করা
হয়েছে। এই রাগের অধীনস্থ রাগের
সংখ্যা ১০টি। এগুলো হলো-
আভীরী,
ভাবিনী, মাঙ্গালী, সৈন্ধবী, গুর্জরী,
দাক্ষিণাত্যা, আন্ধ্রী (অন্ধালী), তানোদ্ভবা, ত্রাবণী (ত্রাপণী) ও কৈশিকী।
আবার একই গ্রন্থে এই রাগকে গীতপ্রকরণের বিচারে বলা হয়েছে শুদ্ধ বা
চোক্ষগীত । বৃহদ্দেশীতে একে বলা হয়েছে 'লোকরঞ্জনী'।
যাষ্টিকের উদ্ধৃতিতে টক্ক রাগের অন্তর্গত
১৬টি ভাষা রাগের যে বিবরণ পাওয়া যায়, সেখানে । আবার গীতরীতিতে একে
চোক্ষ
গীতের অন্তর্গত ভাষা রাগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাচীন এই রাগের
পঞ্চম-ঋষভ এবং ষড়্জ-মধ্যম স্বরসঙ্গতি ঘটতো।
বৃহদ্দেশীতে বর্ণিত পঞ্চম রাগের পরিচিতি [পৃষ্ঠ: ২০০]
গ্রাম:
ষড়্জ গ্রাম
গ্রামরাগ:
টক্ক
রাগ প্রকৃতি:
ভাষা (গীত)
আরোহণ
:
স, র, অন্তর গান্ধার,
ম, প, ধ, কাকলী নিষাদ, র্সা
আরোহণ: র্সা, কাকলী নিষাদ, প, ধ, ম, অন্তর গান্ধার, র, স
জাতি:
সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ
অংশস্বর:
পঞ্চম
ন্যাস স্বর: ষড়্জ
বৃহদ্দেশীতে বর্ণিত পঞ্চম
রাগের
আক্ষিপ্তিকা।

প্রাচীন ভারতের
ধ্রুবাগানে ব্যবহৃত এই রাগ বিবর্তিত হয়ে উত্তর
ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতিতে
নতুন রূপ লাভ করেছিল। খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে
ঠাট পদ্ধতি তে এই রাগটি মারবা
ঠাটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
এই সময়ে কিছু রাগের মতো - এই রাগে চিত্ররূপ প্রকাশিত হয়েছিল।
[চিত্ররূপ
-১৬৯০-১৬৯০
খ্রিষ্টাব্দ ]
বর্তমানে এর দুটি প্রকরণ প্রচলিত রয়েছে।
প্রথম প্রকরণ
আরোহণ:
স ম হ্মগ, হ্মধ ন ধ র্স
অবরোহণ:
র্স ন ধ হ্মমগ হ্ম ম গ ঋ
স
ঠাট:
মারবা।
জাতি:
ষাড়ব (পঞ্চম বর্জিত) -ষাড়ব (পঞ্চম বর্জিত)
বাদীস্বর: মধ্যম
সমবাদী
স্বর: ষড়্জ
অঙ্গ:
পূর্বাঙ্গ।
সময়:
রাত্রির শেষ প্রহর
দ্বিতীয় প্রকরণ
আরোহণ:
স গ হ্ম, মধ ন র্স
অবরোহণ:
র্স ন ধ হ্মম গ ঋ
স
ঠাট:
মারবা।
জাতি:
ঔড়ব (ঋষভ পঞ্চম বর্জিত) -ষাড়ব (পঞ্চম বর্জিত)
বাদীস্বর: মধ্যম
সমবাদী
স্বর: ষড়্জ
অঙ্গ:
পূর্বাঙ্গ।
সময়:
দিবা প্রথম প্রহর
তথ্যসূত্র:
- বৃহদ্দেশী। মতঙ্গ। সম্পাদনা রাজ্যেশ্বর মিত্র।
সংস্কৃত পুস্তক ভাণ্ডার। ১৯৯২। পৃষ্ঠা: ২০০
- রাগ অভিধান। নিত্যান্ন্দ কর্মকার। প্রগ্রেসিভ
পাবলিসার্স। ফেব্রুয়ারি ২০০৭। পৃষ্ঠা ১৮, ২৫।
- সঙ্গীতশাস্ত্র তৃতীয় খণ্ড। ইন্দুভূষণ রায়। আদিনাথ ব্রাদার্স। কলকাতা।
জানুয়ারি ২০১৮। পৃষ্ঠা ২৩১