ক্যাম্ব্রিয়ান
অধিযুগ
(Cambrian period)
৫৪.১-৪৮.৫৪ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
ক্যাম্রিয়ান
মহাকালের অনতর্গত
ফ্যানেরোজোয়িক
কালের- তিনটি
যুগের প্রথম যুগ হলো
প্যালোজোয়িক।
আর
প্যালোজোয়িক যুগের
প্রথম অধিযুগ হলো ক্যাম্ব্রিয়ান।
৫৪ কোটি ১০ লক্ষ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এই যুগের সূচনা হয়েছিল। আর শেষ হয়েছিল ৪৮ কোটি
৫৪ লক্ষ বৎসর আগে।
ক্যাম্ব্রিয়ান
মহাকালের নামেই এই অধিযুগের নামকরণ করা হয়েছে।
১৮৩৫ সালে ইংরেজ ভূতত্ত্ববিদ এ্যাডাম সেজউয়িক (Adam Sedgwick) এর নামকরণ করেন।
সাধারণভাবে ক্যাম্ব্রিয়ান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। এই ভাগগুলো হলো-
-
আদ্য ক্যাম্ব্রিয়ান
(Early Cambrian):
এর সময়সীমা ৫৪.১-৫০.৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
-
মধ্য
ক্যাম্ব্রিয়ান
(Middle Cambrian):
এর সময়সীমা ৫০.৯-৪৯.৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
-
অন্তিম ক্যাম্বরিয়ান
( Late Cambrian):
এর সময়সীমা ৪৯.৭-৪৮.৫৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
 |
ক্যাম্ব্রিয়ান
অধিযুগের শুরুতে পৃথিবীর মহাদেশ যেমন ছিল |
ভূতাত্ত্বিক বিবর্তন:
পূর্ববর্তী
প্রিক্যাম্ব্রিয়ান
মহাকালের
অন্তর্গত
নেওপ্রোটারোজোয়িক যুগের তৃতীয় এবং শেষ
এডিয়াকারান অধিযুগ
অধিযুগের
৬০ কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
প্যান্নোশিয়া (Pannotia)
মহাদেশ তৈরি হয়েছিল।
প্যান্নোশিয়া খুব বেশিদিন
স্থায়ী ছিল না। ৫৫ কোটি ৪০ লক্ষ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এই মহা-মহাদেশের বিশালাকার ভূ-অংশগুলো
বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে। অন্যদিকে
প্রায় ৫৭
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে কিছু ক্ষুদ্র মহাদেশ যুক্ত হয়ে গোণ্ড্ওয়ানা মহা-মহাদেশটির
তৈরি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ক্রমে ক্রমে এই মহাদেশটি দুটি বড় খণ্ডে পরিণত হয়। এই
ভাগ দুটিকে চিহ্নিত করা হয় পূর্ব গোণ্ড্ওয়ানা এবং পশ্চিম গোণ্ড্ওয়ানা নামে।
-
 |
৫০ কোটি ৪০ লক্ষ বৎসর আগের ভূভাগ |
৫০.৪০ লক্ষ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ:
প্যান্নোশিয়া মহা-মহাদেশ
ভেঙে যায়
এবং ভূখণ্ডগুলো নতুনভাবে সজ্জিত হতে থাকে। এবং
ভূখণ্ডগুলো নতুনভাবে সজ্জিত হয়ে চারটি প্রধান মহা-মহাদেশে পরিণত হয়। এই
মহাদেশগুলো হলো লাউরেনশিয়া (Laurentia),
বাল্টিকা (Baltica),
সাইবেরিয়া (Siberia)
এবং গণ্ডোওয়ানা (Gondwana)।
-
৫০ কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ: এই সময়
প্যান্নোশিয়া
মহা-মহাদেশের খণ্ডিত অংশগুলো জোড়া লেগে তৈরি হয়েছিল
লাউরেশিয়া মহাদেশ।
এই মহাদেশে ছিল উত্তর আমেরিকান পাত এবং
ইউরেশিয়ান পাত।
এ ছাড়া লাউরেশিয়ার ভিতরে
ছিল বলকান অঞ্চল ব্যতীত ইউরোপ, ভারত ব্যতীত এশিয়ার সকল অংশ এবং উত্তর আমেরিকা।
এএই সময়
উল্কাপাতের ফলে অস্ট্রেলোয়ার এ্যাক্রামান খাদের সৃষ্টি হয়েছিল।
এরই ভিতরে পূর্ব
গোণ্ড্ওয়ানা এবং পশ্চিম গোণ্ড্ওয়ানা
একত্রিত হয়ে
তৈরি হয়েছিল বিশাল গোণ্ড্ওয়ানা মহা-মহাদেশ। উল্লেখ্য, এর নামকরণ করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান
বিজ্ঞানী
Eduard Suess।
- ৪৮.৮ কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ: এই
সময়ের ভিতরে লাউরেনশিয়া সঙ্কুচিত হতে থাকে।
একই সময়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের আধিক্যের ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত উত্তপ্ত
হয়ে উঠেছিল। এই প্রক্রিয়ার ভিতর হয়ে যায়
ক্যাম্ব্রিয়ান
অধিযুগ।
জীবজগতের ক্রমবিবর্তনের ধারা
উদ্ভিদজগৎ
এই অধিযুগের জীবজগৎ ছিল সামুদ্রিক। তখন স্থল ও আকাশে কোনো
প্রজাতি ছিল না।
উদ্ভিদরাজ্যের প্রজাতিগুলো ছিল আণুবীক্ষিক। এই অধিযুগের শুরুতে নানা ধরনের
আনুবীক্ষিক উদ্ভিদ সাগরজলের বিশাল অংশ জুড়ে মাদুরের মতো বিছিয়ে থাকতো। এসব মৃত
উদ্ভিদের দেহাবশেষ সাগরতলে জমা হয়ে, বিশেষ স্তর তৈরি করেছিল। কিন্তু এই অধিযুগের
শেষের দিকে সাগরের জলজ প্রজাতিসমূহ উদ্ভিদের আধিপত্য ধ্বংস করে দিয়েছিল। বিশেষ করে
সাগরের উপরে ভাসমান উদ্ভিদের মাদুর তছনছ হয়ে গিয়েছিল। জীবকূলের চলাচল এবং খাদ্য
হিসেবে এসব
আণুবীক্ষিক উদ্ভিদকে গ্রহণ করার কারণে
উদ্ভিদ-মাদুরের অধিকাংশ বিলুপ্ত হয়ে
গিয়েছিল। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল পৃথিবীর তাপমাত্রার হেরফের। সব মিলিয়ে আদিম উদ্ভিদের
আদিম প্রজাতিসমূহের একটি বিশাল অংশ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একই সাথে কিছু কিছু
উদ্ভিদ নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য পরিবর্তিত হয়েছিল। সেই সূত্রে
উদ্ভব হয়েছিল উদ্ভিদের নতুন নতুন প্রজাতিসমূহ।
পূর্বর্তী
এডিয়াকারান
অধিযুগের ৫৫.৫
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
ইউমেটাজোয়া
উপরাজ্যের প্রজাতিকুল থেকে উদ্ভব হয়েছিল
টিনোফোরা
পর্বের প্রজাতিসমুহ। ৫৪.১
খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে
টিনোফোরা
প্রজাতিসমূহ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এই
সময়ে এদের দেহ দ্বি-অরীয় প্রতিসম দশায় পৌঁছেছিল। এদের চলাচলের জন্য দেহের বাইরে আট
সারির চিরুনির মতো অঙ্গ আছে। এদের অধিকাংশ প্রজাতি এই চলনাঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের
জলে মুক্তভাবে ভেসে বেড়ানোর মতো দশায় পৌঁছিল। এই পর্বের কিছু প্রজাতি আবার
সমুদ্রতলে হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করতো। প্রজননের বিচারে এরা ছিল উভলিঙ্গিক।
অন্যদিকে ৫৮ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ৫৫.৫ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের
ভিতরে
বিলাটেরিয়া
থাক থেকে উদ্ভব হয়েছিল
নেফ্রোজোয়া
থাকের প্রজাতিসমূহ।
৫৪.১
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে
নেফ্রোজোয়া
থাক দুটি ভাগে বিভাজিত হয়ে
গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা এই ভাগের নাম দিয়েছেন- প্রোটোস্টোমিয়া
থাক ও
এক্ডাইসোজোয়া থাক।
- প্রোটোস্টোমিয়া
থাক:
৫৪.১
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের শেষের দিকে এই থাক ৩টি ভাগে বিভাজিত হয়ে গিয়েছিল। এই
ভাগগুলো হলো-
স্পাইরালিয়া,
এক্ডাইসোজোয়া ও
চিটোগ্নাথা।
-
স্পাইরালিয়া থাক: আবির্ভাব কাল- ৫৪.১
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের শেষের দিক।
এই থাকটি দুটি ভাগে বিভাজিত হয়ে
গিয়েছিল। এই ভাগ দুটি হলো-
প্লাটিট্রোকোজোয়া ও ন্যাথিফেরা।
-
প্লাটিট্রোকোজোয়া: আবির্ভাব কাল- ৫৪.১
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের শেষের দিক।
৫৪.১
-৫৩.৬ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে এই থাকটি দুটি ভাগে বিভাজিত
হয়ে গিয়েছিল। এই ভাগ দুটি হলো-
- রৌফোজোয়া:
আবির্ভাবকাল ৫৪.১
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের শেষের দিক।
-
লোফোট্রোকোজোয়া উপপর্ব: আবির্ভাবকাল
৫৩.৬
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের শেষের দিক। ৫৩ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এই
উপপর্ব থেকে
মোলাস্কা
পর্বের প্রাণিকুলের আবিরভাব ঘটেছিল।
- ন্যাথিফেরা: আবির্ভাব কাল- ৫৪.১
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের শেষের দিক।
-
এক্ডাইসোজোয়া থাক:
আবির্ভাব কাল-
৫৪.১
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের শেষের দিক। এক্ডাইসোজোয়া থাকের প্রজাতিকুল
৫৪.১-৫৩
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে বিভাজিত হয়ে যায়। এই ভাগগুলো হলো-
- স্ক্যালিডোফোরা থাক: আবির্ভাব কাল-
৫৪.১-৫৩
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
- নেমাটোডিয়া থাক: আবির্ভাব কাল-
৫৪.১-৫৩
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
- সাইক্লোনিউরালিয়া থাক: আবির্ভাব কাল-
৫৪.১-৫৩
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
-
প্যানার্থ্রোপোডা
থাক: আবির্ভাব কাল-৫৪.১-৫৩
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ। এই সময়ের ভিতরে দিকে ৩টি প্রধান ভাগে বিভাজিত হয়ে যায়। এই সূত্রে যে সকল থাকের উদ্ভব
হয়, সেগুলো হলো-
- ওনিকোফোরা পর্ব: আবির্ভাব কাল-৫৪-৫৩
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- লোবোপোডিয়া পর্ব: আবির্ভাব কাল-৫৪-৫৩
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
-
ট্যাক্টোপোডা থাক: আবির্ভাব কাল-৫৪-৫৩
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ। এই সময়ের ভিতরে
এই থাক ২টি ভাগে বিভাজিত হয়েছিল। এই ভাগ দুটি হলো-
- টার্ডিগ্রেড পর্ব: আবির্ভাব কাল-৫৪-৫৩
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
-
আর্থ্রোপোডা
পর্ব: আবির্ভাব কাল-৫৪-৫৩
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ। এই
পর্বের প্রজাতিসমূহ ৫৪-৪১.৯২ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে
বিভাজিত হয়ে যায়। এই সূত্রে যে সকল থাক উ উপপর্বের উদ্ভব হয়,
সেগুলো হলো-
- আর্কোনোফোরা থাক: আবির্ভাব কাল-৫৪-৫০.৮
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
-
ট্রাইলোবিটোমোর্ফা
উপপর্ব: আবির্ভাবকাল-
৫২.৬
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
উপপর্ব থেকে উদ্ভব হয়েছিল এই শ্রেণির আবির্ভাব
হয়েছিল ৫১.৬
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে।
- প্যানক্রস্টাসিয়া
থাক: আবির্ভাবকাল- ৫১.১
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- মাইরিয়াপোডা
উপপর্ব: এই
উপপর্বের আবির্ভাব হয়েছিল ক্যাম্ব্রিয়ান কালের পরে
প্রিডোলি অন্তঃযুগ (৪২.৩-৪১.৯২)।
ক্যাম্ব্রিয়ান অধিযুগের
৫৪
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে
প্রাণিজগতের
ট্যাক্টোপোডা থাক
থেকে আর্থ্রোপোডা পর্বের
প্রাণীর আবির্ভাব হয়েছিল। এই পর্বের প্রজাতিসমূহ পরবর্তী ৫৪ থেকে ৪১.৯২ কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে বিভাজিত হয়ে গিয়েছিল। এই সূত্রে যে সকল থাক ও উপপর্বের
উদ্ভব হয়, সেগুলো হলো-
-
আর্কোনোফোরা
থাক: আবির্ভাব কাল-৫৪-৫০.৮
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
-
ট্রাইলোবিটোমোর্ফা
উপপর্ব:
আবির্ভাবকাল- ৫৪
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- প্যানক্রস্টাসিয়া
থাক: আবির্ভাবকাল- ৫১.১
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- মাইরিয়াপোডা
উপপর্ব: আবির্ভাবকাল-
৪২.৩-৪১.৯২ (প্রিডোলি অন্তঃযুগ) কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
৫৪
কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে
ট্রাইলোবিটোমোর্ফা
উপপর্ব থেকে
প্রথম ট্রাইলোবাইট শ্রেণিটি
পৃথক হয়ে গিয়েছিল। ৫৪ থেকে ৪৮ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে এই
শ্রেণিটি ৮টি ভাগে বিভাজিত হয়ে গিয়েছিল।
-
অগ্নোস্টিডা
(Agnostida)
বর্গ:
আবির্ভাব কাল ৫৪
কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- লিব্রোসম্টোমা
(Librostoma)
উপশ্রেণি:
আবির্ভাব কাল ৫৪
কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- কোরিনেক্সোচিডা
(Corynexochida)
বর্গ:
আবির্ভাব কাল ৫২
কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- রেডলিচিডা (Redlichiida)
বর্গ:
আবির্ভাব কাল ৫২.৫
কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- লিচিডা (Lichida):
বর্গ:
আবির্ভাব কাল ৪৯.৭
কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- ওডোন্টোপ্লেয়ুরিডা
(Odontopleurida)
বর্গ:
আবির্ভাব কাল ৫২.৫
কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- ফ্যাকোপিডা
(Phacopida)
বর্গ:
আবির্ভাব কাল ৪৯.৭
কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- প্রোয়েটিডা
(Proetida):
বর্গ:
আবির্ভাব কাল ৪৮
কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
- চিটোগ্নাথা থাক: আবির্ভাব কাল- ৪৮.৫৪ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
-
ডুটারিস্টোমিয়িয়া ঊর্ধবপর্ব।
৫৩.১ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে
ডুটারিস্টোমিয়া
ঊর্ধবপর্ব দুটি ভাগে বিভাজিত হয়ে যায়। এই ভাগ দুটি হলো-কর্ডাটা পর্ব
এবং এ্যাম্বুলাক্রারিয়া থাক।
- ৫৩.১ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের
শেষের দিকে
কর্ডাটা পর্ব
বিভাজিত হয়ে গিয়েছিল। এগুলো হলো-
-
সেফালোকর্ডাটা:
আবির্ভাব কাল- ৫৩.১.থেকে ৫২.১ কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
-
ওল্ফ্যাক্টোরেস:
আবির্ভাব
কাল- ৫৩.১.থেকে ৫২.১ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
-
ভেটুলিকোলিয়া:
আবির্ভাব কাল-
এর সময়সীমা ৫২.১-৫০.৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
।
৫৩.১ থেকে ৩৫.৮৯ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে
ওল্ফ্যাক্টোরেস থাক বিভাজিত হয়ে যায়। এই থাক থেকে যে সকল প্রাণিকুলের উদ্ভব হয়েছিল,
তা হলো-
-
ঝংঝিনিসকাস গণ:
আবির্ভাব কাল ৫৩.১ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
-
ভার্টিব্রাটা উপপর্বের:
আবির্ভাব কাল ৫৩.১ থেকে ৫২.১ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
-
ইউরোকর্ডাটা
(টুনিকেট): আবির্ভাব কাল ৫২.২.থেকে ৫২.১ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
এই উপপর্বকে অনেক সময় টুনিকেট নামে অভিহিত করা হয়।
এই উপপর্বের তিনটি শ্রেণি
রয়েছে। এই শ্রেণি তিনটি হলো―Ascidiacea,
Thaliacea,
Appendicularia
ও
Sorberacea
৫৩ কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ:
এই সময়ে
প্রথম শক্ত খোলসযুক্ত প্রাণীর আবির্ভাব ঘটে এবং
একই সাথে সাগর জলে আদিম মৎস্য জাতীয় প্রাণীর
উদ্ভব ঘটে।
- ৫২.৬ কোটি
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ:
অন্যদিকে কর্ডাটা পর্বের প্রাণীর উল্লেখযোগ্য উপপর্ব
ভার্টিব্রাটার আবির্ভাব
ঘটে। পরবর্তী সময়ে এই উপপর্বের প্রাণী থেকে থেকে উদ্ভব হয়েছিল সরীসৃপ, পক্ষী,
স্তন্যপায়ীরা।
- ৪৯-৪৮ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ: এই সময়ের ভিতরে আর্থোপোডা
পর্বের অন্ত্রর্গত
আর্থ্রোপোডা
শ্রেনির প্রাণী বিভাজিত হয়ে যায়। এই সূত্রে
আবির্ভূত হয় ফ্যাসোফিডা বর্গের প্রাণী।
 |
কাইনোপ্স
(Kainops) |
এই সময়ের ভিতরে উল্লেখযোগ্য
আর্থ্রোপোডা ছিল- কাইনোপ্স
(Kainops)।
শেষ পর্যন্ত এর অধিকাংশ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে এই প্রোয়েটাইডা বর্গের
আর্থোপোডাগুলো পর্বর্তী
অর্ডোভিসিয়ান অধিযুগের ২৫১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে
সক্ষম হয়েছিল।
-
কালবিভাজনের সূত্রে
ক্যাম্ব্রিয়ান
অধিযুগের সমাপ্তি ঘটেছিল
৪৮.৫৪ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দে।
এরপর
শুরু হয় প্যালোজোয়িক যুগের
দ্বিতীয়
অধিযুগ
ওর্ডোভিসিয়ান।
সূত্র :