চিকা/ছুঁচো
shrew
এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং আমেরিকা মহাদেশের
স্তন্যপায়ী প্রাণিকুলের
ম্যাক্রোস্কেলিডিয়া
বর্গের সাধারণ নাম।
এই বর্গের সকল প্রজাতিই আকারে ছোটো হয়ে থাকে। এদের মুখের অগ্রভাগ সরু
হয় এবং ধারালো দাঁত থাকে।
এরা প্রজনন ঋতুতে জোড় বাঁধে, অন্য সময় একাকী থাকে। গর্ভবতী চিকা মাটিতে গর্ত করে
শুকনো লতাপাতা, খড়কুটো দিয়ে বাসা বানায়। প্রজাতি ভেদে এরা ৫-১০টি সন্তান প্রসব করে।
প্রজাতিভেদে এরা দেড় বৎসর থেকে ৪-৫ বৎসর বাঁচে।
এদের মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত গড় দৈর্ঘ্য ২১ সেন্টিমিটার। ওজন ১.৪১-১১ আউন্স।
দেহের উপরিভাগ বাদামী পশম দ্বারা আবৃত।
এরা মূলত পতঙ্গভোজী। তবে ফল, ফুল, বীজও খেয়ে থাকে। এদের
কানের পিছনের একটি গ্রন্থি থেকে গন্ধ বের হয়। এই গন্ধ দ্বারা এরা নিজেদের এলাকা
নির্ধারণ করে রাখে।
চিকার
ক্রমবিবর্তন
লুটেশিয়ান আমলে
(৪.৭৮-৪.১২ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)
স্তন্যপায়ী
শ্রেণির প্রাণিকূল থেকে উদ্ভব হয়েছিল
ম্যাক্রোস্কেলিডিয়া
বর্গের
প্রাণিকুল। এই বর্গ থেকে
পরবর্তী সময়ে উদ্ভব হয়েছিল
ম্যাক্রোস্কেলিডিডি
গোত্রের প্রাণিকুল। এই গোত্র থেকে
উদ্ভব হয়েছিল চারটি গণ। এই গণগুলো হলো-
-
Elephantulus:
আবির্ভাব কাল
লুটেশিয়ান আমলে
(৪.৭৮-৪.১২ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)।
এদের সাধারণ নাম হস্তিচিকা
(elephant shrew)।
এই গণের প্রজাতিগুলো পাওয়া যায় আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে। এই গণের
প্রজাতিগুলো হলো-
- Short-snouted elephant shrew
(E. brachyrhynchus):
এই প্রজাতির চিকা আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে পাওয়া যায়। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব
নামিবিয়া, পূর্ব ও মধ্য বোৎসোয়ানা, এ্যাঙ্গোলা, জাম্বাবুয়ে, মালাউই, জাম্বিয়া এবং
মোজাম্বিক, কঙ্গো, পূর্ব আফ্রিকা, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া এবং উগান্ডা।
- Cape elephant shrew
(E.edwardii): এই প্রজাতির
চিকা দেখা যায় আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকাতে।
- Dusky-footed elephant shrew (E.
fuscipes): এই প্রজাতির চিকা
দেখা যায় আফ্রিকা মহাদেশের কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান এবং উগান্ডা অঞ্চলে।
- Dusky elephant shrew (E. fuscus):
এই প্রজাতির চিকা দেখা যায় আফ্রিকা মহাদেশের মালাউই, মোজাম্বিক, জাম্বিয়া অঞ্চলে।
- Bushveld elephant shrew (E. intufi):
এই প্রজাতির চিকা দেখা যায় আফ্রিকা মহাদেশের এ্যাঙ্গোলা, বোৎসোয়ানা, নামিবিয়া এবং
দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে।
- Eastern rock elephant shrew (E.
myurus): এই প্রজাতির চিকা দেখা যায়
আফ্রিকা মহাদেশের বোৎসোয়ানা, মোজাম্বিক, জিম্বাবুয়ে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে।
- Karoo rock elephant shrew (E.
pilicaudus): এই প্রজাতির চিকা দেখা
যায় আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কেপ প্রদেশে।
- Somali elephant shrew (E. revoili):
এই প্রজাতির চিকা দেখা যায় আফ্রিকা মহাদেশের সোমালিয়াতে।
- North African elephant shrew (E.
rozeti): এই প্রজাতির চিকা দেখা যায়
আফ্রিকা মহাদেশের আলজেরিয়া, লিবিয়া, মরোক্কো ও তিউনেশিয়াতে।
- Rufous elephant shrew (E. rufescens):
এই প্রজাতির চিকা দেখা যায় আফ্রিকা মহাদেশের ইথিওপিয়া, কেনিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ
সুদান, তাঞ্জানিয়া এবং উগান্ডা অঞ্চলে।
- Western rock elephant shrew (E.
rupestris): এই প্রজাতির চিকা দেখা
যায় আফ্রিকা মহাদেশের নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, এ্যাঙ্গোলা, বোৎসোয়ানা।
- Macroscelides:
আবির্ভাব কাল
লুটেশিয়ান আমল
(৪.৭৮-৪.১২ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)।
এদের সাধারণ নাম ক্ষুদ্রচিকা
(Small shrew)।
এই গণের প্রজাতিগুলো পাওয়া যায় আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে।
এই গণের প্রজাতিগুলো
হলো-
- Macroscelides flavicaudatus:
এই প্রজাতির চিকা দেখা যায় আফ্রিকা
মহাদেশের মধ্য নামিবিয়া মরুভূমি এবং নামিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অঞ্চলে।
- Macroscelides micus:
এই প্রজাতির চিকা দেখা যায় আফ্রিকা মহাদেশের মধ্য উত্তর-পশ্চিম নামিবিয়া অঞ্চলে।
- Macroscelides proboscideus:
এই প্রজাতির চিকা দেখা যায় আফ্রিকা
মহাদেশের মধ্য বোৎসোয়ানা, নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে।
- Petrodromus:
আবির্ভাব কাল
লুটেশিয়ান আমল
(৪.৭৮-৪.১২ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)।
এই গণের প্রজাতিগুলো পাওয়া যায় আফ্রিকা মহাদেশ
জুড়ে।
এই গণের একমাত্র প্রজাতি
Petrodromus tetradactylus
পাওয়া যায়- মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকা
অঞ্চলে। বিশেষ করে এ্যাঙ্গোলা, কঙ্গো, কেনিয়া, মালাউই, মোজাম্বিক, দক্ষিণ আফ্রিকা,
তাঞ্জানিয়া, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
- Petrosaltator:
আবির্ভাব কাল
লুটেশিয়ান আমল
(৪.৭৮-৪.১২ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)।
এই গণের একমাত্র প্রজাতি
Petrosaltator
rozeti
পাওয়া যায় আফ্রিকা মহাদেশের আলজেরিয়া, লিবিয়া, মরোক্কো এবং তিউনেশিয়াতে।
- Rhynchocyon:
আবির্ভাব কাল
লুটেশিয়ান আমল
(৪.৭৮-৪.১২ কোটি খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)।
এই গণের তিনটি প্রজাতি পাওয়া যায় এগুলো হলো-
- Rhynchocyon chrysopygus:এই
প্রজাতির চিকা পাওয়া যায় আফ্রিকা মহাদেশের মধ্য কেনিয়াতে।
- Rhynchocyon cirnei:
এই প্রজাতির চিকা পাওয়া যায় আফ্রিকা মহাদেশের মধ্য কঙ্গো, মালাউই, মোজাম্বিক,
উগান্ডা, জাম্বিয়া এবং মধ্য আফ্রিকান রিপাবগলিক অঞ্চলে।
- Rhynchocyon petersi:
এই প্রজাতির চিকা দেখা যায় আফ্রিকা মহাদেশের তাঞ্জানিয়া অঞ্চলে।
সূত্র::