১৯ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স
২৫ বৈশাখ ১২৮৭ বঙ্গাব্দ থেকে ২৪ বৈশাখ ১২৮৮ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত (৭ মে ১৮৮০- ৬ মে ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দ)

১৮ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের রচিত ৪৫টি গান পাওয়া যায়। গতবছরের সর্বশেষ গান ছিল 'হম যব না রব, সজনী'। গানটি প্রকাশিত হয়েছিল ভারতী পত্রিকার 'বৈশাখ ১২৮৭' সংখ্যায়। ধারণা করা হয়, এ গানটি রচিত হয়েছিল ১২৮৬ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে।

১২৮৬ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসের প্রথম সপ্তাহে রবীন্দ্রনাথ বিলেত থেকে কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করেন। এই সময় জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'মানময়ী' গীতি-নাটকটি রচনায় মগ্ন ছিলেন। জ্ঞানদানন্দিনী দেবী এই নাটকটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে মঞ্চস্থ করার উদ্যোগ নেন। জ্ঞানদানন্দিনী দেবী'র উৎসাহে রবীন্দ্রনাথও এই নাটক নিয়ে মেতে উঠেন। ধারণা করা হয়, নাটকটি বৈশাখের  প্রথমার্ধেই মঞ্চস্থ হয়েছিল। এই সময়ে রবীন্দ্রনাথ 'য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্র' নামক রচনাটি ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া শুরু হয়। এর ভিতরে এই বছরের তাঁর প্রথম গান  'ছি ছি সখা, কী করিল' ভারতী পত্রিকার 'ভাদ্র ১২৮৭' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। এই গানটির রচনাকাল সম্পর্কে কিছু জানা যায় নাই। ভারতী পত্রিকায় গানটি প্রকাশের সময় (ভাদ্র ১২৮৭) রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল - ১৯ বৎসর ৩-৪ মাস।         

৪৬. ছি ছি সখা, কী করিলে [পরিশিষ্ট ৩] [তথ্য]

ভারতী পত্রিকার 'কার্তিক ১২৮৭' সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথের ভগ্নহৃদয় কাব্যের প্রথম সর্গ প্রকাশিত হয়। পত্রিকার ৩৩৭ পৃষ্ঠায় ভগ্নহৃদয়ের উপরের পাওয়া যায়, 'তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা। 'ভগ্নহৃদয়'-এর মূল অংশে প্রকাশিত হয় দুটি গান 'ক্ষমা করো মোরে সখী' এবং 'সখী, আর কত দিন' গান দুটি। এই ৩টি গানের রচনাকাল সম্পর্কে কিছু জানা যায় নাই। ভারতী পত্রিকায় প্রকাশের সময় (কার্তিক ১২৮৭) রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল - ১৯ বৎসর ৫-৬ মাস।
       
  ৪৭. তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা [প্রেম-১২১] [তথ্য]
          ৪৮. ক্ষমা করো মোরে সখী [নাট্যগীতি-৪] [তথ্য]
          ৪৯. সখী, আর কত দিন [নাট্যগীতি-৫] [তথ্য]

ভারতীতে রবীন্দ্রনাথের 'য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্র' ও ভগ্নহৃদয় প্রকাশের কারণে ব্যস্ত ছিলেন। ভারতী পত্রিকার 'অগ্রহায়ণ ১২৮৭' সংখ্যায় ভ্গ্নহৃদয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্গ প্রকাশিত হয়। এর ভিতরে ভগ্নহৃদয়ের সাথে প্রকাশিত হয়- নাচ্ শ্যামা, তালে তালে তালে। এই গানটি বিলেতে রচিত হয়েছিল। এ গানটি ছাড়া ভারতীর এই সংখ্যাতে প্রকাশিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুরের একটি পদ 'সখি লো, সখি লো, নিকরুণ মাধব'। এই গানটির রচনাকাল সম্পর্কে কিছু জানা যায় নাই। ভারতী পত্রিকায় প্রকাশের সময় (অগ্রহায়ণ ১২৮৭) রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল - ১৯ বৎসর ৭ মাস। গানগুলো হলো-
        ৫০
. সখি লো, সখি লো, নিকরুণ মাধব [ভানুসিংহঠাকুরের পদাবলী-১৭] [তথ্য]

ভারতী পত্রিকার '
পৌষ ১২৮৭' সংখ্যায় প্রকাশিত হয় ভগ্নতরীর চতুর্থ সর্গ (পৃষ্ঠা: ৪০৩-৪০৬)। এই সর্গে মোট ৮টি গান রয়েছে। এর ভিতরে মাত্র ১টি গান গীতবিতানে গৃহীত হয়েছে। এই গানগুলোর রচনাকাল সম্পর্কে কিছু জানা যায় নাই। ভারতী পত্রিকায় প্রকাশের সময় (কার্তিক ১২৮৭) রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল - ১৯ বৎসর ৮ মাস। নিচে ভারতীর  'পৌষ ১২৮৭' সংখ্যায় প্রকাশিত গানের তালিকা দেওয়া হলো।

৫১. [প্রথম গান] বিপাশার তীরে ভ্রমিবারে যাই [নাট্যগীতি-৮] [তথ্য]
       [দ্বিতীয় গান] প্রতিদিন যাই সেই পথ দিয়া। [
কাব্যগ্রন্থাবলী (১৩০৩)]
       [তৃতীয় গান] প্রতিদিন দেখি তারে
[কাব্যগ্রন্থাবলী (১৩০৩)]
       [চতুর্থ গান] কাল যবে দেখা হোল পথে [রবিচ্ছায়া ১২৯২]
       [পঞ্চম গান] সত্য কি তাহারে ভালবাসি?
       [ষষ্ঠ গান]    মোর এ যে ভালোবাসা রূপ-মোহ এ কি?
       [সপ্তম গান] দুজনে মিলিয়া ভ্রমি গো [রবিচ্ছায় ১২৯২]
       [অষ্টম গান] শুনেছি শুনেছি কি নাম তাহার
[কাব্যগ্রন্থাবলী (১৩০৩)]

ভারতী পত্রিকার 'মাঘ ১২৮৭' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়, ভগ্নহৃদয়ের পঞ্চম সর্গ। এই সর্গে মোট দুটি গান ছিল। এর একটি গান গীতবিতানে গৃহীত হয়েছে। এই গান ২টির রচনাকাল সম্পর্কে কিছু জানা যায় নাই। ভারতী পত্রিকায় প্রকাশের সময় (কার্তিক ১২৮৭) রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল - ১৯ বৎসর ৮ মাস।
      
৫২
. খেলা কর্, খেলা কর্ [নাট্যগীতি-৯] [তথ্য]
              কে আমার সংশয় মিটায় [গীতবিতানে গৃহীত হয় নি]

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় তাঁর 'গীতবিতান কালানুক্রমিক সূচী' গ্রন্থে ৪৭ সংখ্যক গান হিসাবে 'কে আমার সংশয় মিটায়' উল্লেখ করেছেন। কিন্তু গীতবিতানে এই গানটি গ্রহণ করা হয় নাই। এই কারণে এ গানটিকে তালিকাভুক্ত করা হলো না।

এই দিনে আদি ব্রাহ্মসমাজের একপঞ্চত্তম (৫১) সাংবৎসরিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়- ১২৮৭ বঙ্গাব্দের ১১ মাঘ  [২৩ জানুয়ারি ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দ]তারিখে। এই উৎসব উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথের ৭টি গান পরিবেশিত হয়েছিল। এর ভিতর একটি গান পূর্বের রচিত ছিল। গানটি হলো
          
তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা [প্রেম-১২১] [তথ্য]

বাকি  ৬টি গানের সুনির্দিষ্ট রচনাকাল পাওয়া যায় না। তাই মাঘোৎসবের সূত্রে বলা যায় গানগুলির প্রথম প্রকাশ ঘটে। এই সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ১৯ বৎসর ৯ মাস। এই গানগুলি হলো
       ৫৩
. তুমি কি গো পিতা আমাদের [পূজা ও প্রার্থনা-১২] [তথ্য]
      
৫৪. মহাসিংহাসনে বসি [পূজা ও প্রার্থনা-৪] [তথ্য]
      
৫৫.
আমরা যে শিশু অতি [পূজা ও প্রার্থনা-৩] [তথ্য]
      
৫৬. একি এ সুন্দর শোভা [পূজা-৫৪৩] [তথ্য]
       ৫৭.
দিবানিশি করিয়া যতন [পূজা ও প্রার্থনা-৫] [তথ্য]
       ৫৮. কোথা আছ, প্রভু [পূজা ও প্রার্থনা -৬] [তথ্য]

ভারতী পত্রিকার 'ফাল্গুন ১২৮৭' সংখ্যায় ভগ্নহৃদয়-এর ষষ্ঠ সর্গ প্রকাশিত হয়। এই কাব্যনাটের সাথে যে সকল গান প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলো হলো-

১২৮৭ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাস পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ  'য়ূরোপ প্রবাসীর পত্র, 'ভগ্নহৃদয়' নিয়ে ছিলেন। এরই মধ্যে তিনি 'বাল্মীকি প্রতিভা' রচনায় হাত দিয়েছিলেন বলা যায়। এই গীতিনাট্যটি রচনার সুনির্দিষ্ট সময় পাওয়া যায় না। বাল্মীকি প্রতিভা'র প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল ১২৮৭ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে। ফাল্গুন মাসের ১৬ তারিখে (২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দ), এই গীতিনাট্যটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির তেতলার ছাদে বিদ্বজ্জন সমাগম উপলক্ষে মঞ্চস্থ হয়েছিল। গ্রন্থ প্রকাশের বিবেচনায় বলা যায় এই গীতিনাট্যটি রবীন্দ্রনাথ রচনা শেষ করেছিলেন পৌষ বা মাঘ মাসের দিকে। গ্রন্থটি প্রকাশের সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ১৯ বৎসর ১০ মাস।

এই গ্রন্থের গৃহীত সকল গানকে যথার্থ গান বিবেচনা করা যায় না। গীতবিতানের সূচিতে যে গানগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তার তালিকা অনুসারে গানগুলোর সাথে ক্রমিকসংখ্যা যুক্ত করা হলো। এক্ষেত্রে গীতিনাট্যটির গানগুলো সাজানো হয়েছে দৃশ্যানুসারে।

বাল্মীকি প্রতিভার গান
'প্রথম দৃশ্য/ অরণ্য

       ৬০. আজকে তবে মিলে সবে করব লুটের ভাগ  [তথ্য]
      
৬১. এক ডোরে বাঁধা আছি মোরা সকলে
[তথ্য]
      
৬২. এখন করব কি বল [তথ্য]
       ৬৩.
শোন তোরা তবে শোন [তথ্য]
      ৬৪.
তবে আয় সবে আয় [তথ্য]
      ৬৫.
কালী কালী বলো রে আজ [তথ্য]
       ৬৬.
এ কী এ, ঘোর বন [তথ্য]
      ৬৭. পথ ভুলেছিস সত্য বটে  [তথ্য]

                 'দ্বিতীয় দৃশ্য/ অরণ্য কালী প্রতিমা

       এই দৃশ্যের প্রথম গানটি ছিল '
নিশুম্ভমর্দিনী অম্বে'। বাল্মীকি প্রতিভার দ্বিতীয় সংস্করণে গানটি বর্জিত হয়। এর পরিবর্তে অক্ষয় চৌধুরী রচিত 'রাঙা পদ পদ্মযুগে' যুক্ত হয়। প্রথম গানটি গীতবিতানে গৃহীত হয় নি এবং দ্বিতীয় গানটি রবীন্দ্রনাথে রচিত নয় বলে, এই তালিকায় গানটি রাখা হলো না।

       ৬৮. দেখ হো ঠাকুর বলি এনেছি মোরা  [তথ্য]
       ৬৯. নিয়ে আয় কৃপাণ  [তথ্য]
       ৭০. কি দশা হ'ল আমার [তথ্য]
       ৭১. এ কেমন হ'ল মন আমার [তথ্য]
       ৭২.
আরে, কী এত ভাবনা [তথ্য]
       ৭৩.
শোন্ তোরা সবে শোন্ [তথ্য]

                 'তৃতীয় দৃশ্য/ অরণ্য

      ৭৪. ব্যাকুল হ'য়ে বনে বনে [তথ্য]
      ৭৫.
আর না আর না [তথ্য]
      ৭৬.
জীবনের কিছু হ'লো না হায় [তথ্য]
      ৭৭.
থাম্ থাম্ কী করিবি [তথ্য]
      ৭৮.
কী বলিনু আমি [তথ্য]
      ৭৯.
একি এ, একি এ স্থিরচপলা [তথ্য]
      ৮০.
কোথা লুকাইলে [তথ্য]
      ৮১.
কেন গো আপন মনে ভ্রমিছ  [তথ্য]
      ৮২.
আমার
কোথায় সে উষাময়ী প্রতিভা [তথ্য]
      ৮৩.
এই যে হেরি গো দেবী আমারি [তথ্য]
      ৮৪.
হৃদয়ে রাখ, গো দেবী [তথ্য]

      *দীনহীন বালিকার সাজে [এটি গান নয়]

ভগ্নহৃদয় প্রকাশিত হয় ১২৮৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে। এই গ্রন্থটি প্রকাশের সময় এমন কয়েকটি গান এতে গৃহীত হয়, যা পূর্বে কোথাও প্রকাশিত হয় নাই। এই গানগুলির রচনাকাল সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায় নাই। প্রকাশকালের সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল- ১৯ বৎসর ১২ মাস। এই গানগুলি হলো-

৮৫. যে ভালোবাসুক সে ভালোবাসুক [নাট্যগীতি-১৩] [তথ্য]
৮৬. কী হল আমার [প্রেম-৩৪৯] [তথ্য]
৮৬. কে তুমি গো খুলিয়াছ স্বর্গের দুয়ার [নাট্যগীতি-১৪] [তথ্য]
   
কিছু তো হল না [নাট্যগীতি-১৫] [তথ্য]
   
তুই রে বসন্তসমীরণ [নাট্যগীতি-১৯] [তথ্য]